Wednesday, January 17, 2024

51> || পৌষ সংক্রান্তির পিঠে পুলি ||

 51> || পৌষ সংক্রান্তির পিঠে পুলি ||


সেদিনের সেই আমাদের ছেলেবেলার পৌষ সংক্রান্তির মেলা আর ঘরে মা জেঠিমার হাতে বানানো পিঠে পুলি।

মকরসংক্রান্তির পিঠে পুলি বাড়ির

সবাই খাবে । সেদিনের সেই মজা পিঠে খাবার আনন্দ , আহা সেকি ভুলবার!


ওনারা যখন বসবেন পিঠে পুলি  গড়তে , কত্ত আয়োজন তার, নতুন চালের গুড়ো চাউল ঢেকিতে পিষে আবার কখনো যাতে পিষে নিতেন ,  তার পরে নারকেল , গরুর দুধ , খেজুর গুড় , তিল , চিনি , খোয়া , ক্ষীর , ঘি , মধু , বিউলির ডাল বাটা , মুগসিদ্ধ , কাঁচালঙ্কা , চুই ঝাল ,ভাজা মশলা। 


ছোটবেলায় নারকেলের নাড়ুর লোভে আমরা  মায়ের পাশে পাশেই ঘুর ঘুর করতাম, ছোট ভাই মায়ের আঁচল ধরে বসে থাকতো রান্নাঘরে । 

পিঠে তৈরি করবার কতো ব্যবস্থা 

 বেগুনের বো়ঁটায় তেল লাগিয়ে চাটুতে সেই তেল লাগানো বোটা ঘষে  তেল বুলিয়ে  পাটিসাপটা বানানো হতো

এ ছাড়া আরও কত রকমের পিঠে হতো,


দুধপুলি , মুগপুলি , রাঙাআলুর পুলি , রসবড়া , ফুলঝুড়ি , কাওনর ধানের খৈ এর মোয়া , 

 দুধরাজ পিঠা , গোলাপ পিঠা , চাঁদপাকন , ঝিনুকপিঠা , সরলাপিঠা , কালাইপুড়ি , বিবিয়ানা বা জামাইভুলানো পিঠা , ভাপা পিঠা , গোকুল পিঠা , ঝালপিঠা , ছাঁচ পিঠা , ছিটকা পিঠা , চাপড়ি পিঠা , পাটিসাপটা , 

চুইপিঠা , মালপোয়া , ঝালপোয়া , জামদানী পিঠা , আন্দশা , হাঁড়িপেটা , দৈল্যা , চুষির পায়েস আরো কত্ত কি ! পিঠের  সুগন্ধে ঘর ভরে যেত । 

মনে পড়ে সেদিনের সেই ছড়া---


" আওলা চাল, বকের পাক

যেমন পিঠা তেমন থাক "


 "সারা রাজ্যে সাজো সাজো রব । পয়লা পৌষ থেকেই মেয়েরা ঘরে ঘরে করছে তুঁষতুষলি ব্রত । রোজ ভোরে স্নান সেরে কাচা কাপড় পরে গাইছে ,"


" তোষলা গো রাই ,

তোমার দৌলতে আমরা ছ'বুড়ি পিঠে খাই।"


পৌষ মাসে কিছু পূজাও হতো,

যেমন 

বৌ ও মেয়েরা দল বেঁধে পৌষলক্ষ্মী অরুণার পুজো করতেন।

ঘর ঝেড়ে পুছে , তোরঙের সব গরমকাপড় রোদে দিয়ে ভালো করে রোদ লাগিয়ে গুছিয়ে রাখতো । 

তারপরে হতো বসুমতী পুজো । তুলসীমঞ্চে আলপনা দিয়ে ফল মিষ্টি আর বাস্তুসাপের জন্য দুধ রেখে ধূপ দীপ জ্বালিয়ে পুজো হতো। এরপর ক্ষেত্রপাল , নগরপালের ধ্যান করে বারবার তিনবার বলতে হয়--


"ঔ বাস্তুদেবায় নমঃ ।" 


বাস্তুপুজো সেরে হবে শস্যোৎসব , আউনি-বাউনি পুজো । নতুন ধানের শীষের ছড়া দিয়ে শিষের বিনুনি করে বানাতে হয় আউনি আর বাউনি । তাকে সাজানো হয় মুলোর ফুল , সর্ষে ফুল , আমপাতা , তেল , হলুদ , সিঁদুর দিয়ে । নতুনধান তুলে ধানের গোলায় , ঢেঁকিশালে , বাক্স প্যাঁটরা তোরঙ্গে গুঁজে দিতে হয় আউনি আর বাউনিকে ।আর আমাদের  হাতে হাতে ঘুরত তিলকূট , চিনির মঠ , বুড়ির চুল ( হাওয়াই মেঠাই সে এক  রোমান্টিক ব্যাপার) ।

বাচ্চারা হাতে হাতে, কদমা , ছোলা , মঠ খেয়ে সমস্ত দিন দৌড়া দৌড় খেলা মাঠে

ধুলো উড়িয়ে আনন্দে মাতোয়ারা । 


ওদিকে  ঢেঁকিতে চিড়ে কুটতে কুটতে গান গাইতেন---


"এসো পৌষ যেওনা,

ভাতের হাঁড়িতে থাকো পৌষ যেও না ,

পৌষমাস লক্ষ্মীমাস যেওনা .... "

তার পরে মনে পড়ে পৌষের কেঁদুলীর বাউল মেলা। কেঁদুলীতে জয়দেবের মেলায় দলে দলে হাটুরে মানুষ চলেছে , আউল বাউল ফকির নিকিন্নি সবাই ।

সে এক অতিসুন্দর ও অদ্ভুত মেলা।

কতো যে বাউল আছেন সেটা বোঝা যায় এই কেঁদুলীর মেলায়।

ওদিকে চলছে ঘুড়ির সুতোয় মাঞ্জা দেওয়া , দুপুরে উড়বে ঘুড়ি । দক্ষিনয়নান্ত । উত্তরায়ণের সূচনায় ঘুড়ি উড়িয়ে সুয্যিদেবকে পেন্নাম জানাবে সবাই । 

আজ শেষবারের মতন হবে মূলোর ছেঁচকি  , কারণ মাঘমাসে মূলো খেতে নেই , ,(খনার বচন) ।



" পিঠে গড়তে গড়তে বড়রানীর চোখ থেকে জল পড়ে । রাজপুত্তুর কোন দূরদেশে গেছে পড়াশোনা করতে । সঙ্গী রাজামশাই । শূন্য ঘর , খাট , বিছানা । রানী খায় না , কিছু খেতে গেলেই মনে হয় , আহা , ছেলেটা বড় ভালোবাসতো ! বিদেশ বিঁভুইতে আউলা ঝাউলা খাইয়া বাপ ব্যাটায় দিন কাটায় । আশেপাশের সব বাড়িতে পিঠার ধুম । বড়রানী চোখমুছে প্রথম পিঠা বিলাইকে দেয় , মনে করে ছেলেকে দিল । পরেরটাও দেয় , ভাবে রাজামশাই খেল । সন্ধ্যায় ঘরে ঘরে শাঁখ বাজে , প্রদীপ জ্বলে , সবার বাড়িতে হ‌ইহ‌ই ।"


"পৌষমাসে পিঠেপুলি , মহা ধুমধাম

ঘরে ঘরে পিঠে গড়ে , ধন্য পল্লীগ্রাম

দুধপুলি, গুড় পিঠে , নারিকেল আর 

সকলে করিছে পিঠে সকলপ্রকার ।" 

( লক্ষ্মণ ভান্ডারী )


"সব ঘরে আলো জ্বলে , পিঠে হয় , মহাধুমধাম । বড়রানী পিঠে গড়ে , একখান তার পোলার নাম , একখান বরের নাম ।"


ঋণ : বাংলার ব্রতকথা , অবনঠাকুর।

    <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================

Wednesday, January 3, 2024

50>|| नववर्ष की शुभकामनाये ||

   50> || नववर्ष की शुभकामनाये ||


★सूर्य संवेदना पुष्पे, दीप्ति कारुण्यगंधने।

लब्ध्वा शुभं नववर्षेऽस्मिन कुर्यात्सर्वस्य मंगलम।★

           ★★★


■সূর্য যেমন প্রকাশ দান করে,

সংবেদনা করুণার জন্ম দেয়,

পুষ্প সর্বদা সুবাস ছড়িয়ে দেয়,

সেইরূপ আগামী নুতন বৎসরের

প্রতি দিন, প্রতি ক্ষণ, সকলের জন্য

মঙ্গল ময় হোক।

এই নতুন বছর 2024  সবার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনুক।■

          ■■■


◆As the Sun gives light , the sensation give birth to compassion, and the flowers always spread their fragrance. The same way, may our new year be a pleasant one for us every day, every moment.◆

            ◆◆◆


●जिस तरह सूर्य प्रकाश देता हैं,

संवेदना करुणा को जन्म देती हैं,

पुष्प सदैव महकता रहता हैं,

उसी तरह आने बाला हमारा यह नूतन वर्ष

आपके लिए हरदिन, हर पल के लिए मङ्गलमय हो।●

           ●●●

 ====================


Friday, December 8, 2023

49>পানীয় জলের PH value====

 49>পানীয় জলের PH value====


অম্লতা এবং ক্ষারীয়তা সূচক পিএইচ মান হিসাবে পরিচিত হয় । পিএইচ মান ৭ হল একেবারে স্বাভাবিক । জলে পিএইচ মান ৭ এর নিচে অম্লতার আধিক্য এবং বেশি ক্ষারীয়তার আধিক্য নির্দেশ করে । Environmental Protection Agency (EPA) এর মতে পানীয় জলের জন্য আদর্শ পিএইচ মান হল ৬.৫ - ৮.৫ ।


pH মান 7 হলে তা নিরপেক্ষ

pH মাত্রা 7 এর কম হলে তা অম্লীয় বা অ্যাসিটিক।

pH মান 7 এর বেশি হলে তা ক্ষারীয়।


বিভিন্ন জিনিসের pH মাত্রা::----

পদার্থ // দ্রবণ----------pH এর মান।

--------------------             ---------------------

বিশুদ্ধ জল ----------------7.0

বৃষ্টির জল----      ------  5.6---6.0

সমুদ্রের জল--–   -------7.5---8.5

লালা রস  ------     -------6.5---7.5

রক্ত    ------------     -------7.3---7.5


মূত্র-------------      ------6

চা  ----------------      ------5.5

কফি -------------      ------5.0

বিয়ার  -----------      ------4.5

লেবুর রস ------       ------2.2---2.4


ভিনিগার -------        ----- 2.9

টমেটো ----------       ------ 4.0

আপেলের রস --     ------2.9---3.3

কমলার শরবত--    ------3.7

স্ট্রবেরী ----------       ------3.0----3.5


ফলের জেলি ----     ------2.8---3.4

গরুর দুধ ---------     ------6.4

মাখন  ------------      ------6.1----6.4

ডিমের সাদা অংশ--   ---7.6---8.0

বেকিং সোডা----     ------8.3


লন্ড্রির অ্যামোনিয়া--  ----11.0  

ব্যাটারির অ্যাসিড--   ----1.0

চুন জল --------         ------12.0

দাঁতের মাজন---      ------8.0

গ্যাস্টিক রস----       ------1.0

=======25==============


Saturday, September 23, 2023

48>|| কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ ||

 


 48>|| কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ ||

  গান::--হেমন্ত মুখর্জ্জী।

"মোহমুদ্গর" ভগবৎপাদ্ শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্য 

কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ সংসারোহয়মতীববিচিত্রঃ।

কস্য ত্বং বা কুতঃ আয়াতঃ তত্ত্বং চিন্তয় তদিদং ভাতঃ।।

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং গোবিন্দং ভজ মূঢমতে।

মা কুরু ধনজনযৌবনগর্বম্ হরতি নিমেষাৎ কালঃ সর্ব্বম্।

মায়াময়মিদমখিলং হিত্বা ব্রহ্মপদং প্রবিশাশু বিদিত্বা।।

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং গোবিন্দং ভজ মূঢমতে।


নলিনীদলগতজলমতিতরলং তদ্বজ্জীবনমতিশয়চপলং।

ক্ষণমিহ সজ্জনসঙ্গতিরেকা ভবতি ভবার্ণবতরণে নৌকা।।

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং গোবিন্দং ভজ মূঢমতে।


কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ সংসারোহয়মতীববিচিত্রঃ।

কস্য ত্বং বা কুতঃ আয়াতঃ তত্ত্বং চিন্তয় তদিদং ভাতঃ।।

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং গোবিন্দং ভজ মূঢমতে।।


=====================_


ভগবৎপাদ্ শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্য 

 "মোহমুদগর" ও ইহার ভাবার্থঃ-

আচার্য্য শঙ্কর ভগবৎপাদের 'মোহমুদগর' রচনাটি একটি --মোহনাশক জ্ঞানবৈরাগ্যমূলক রচনা। আচার্য্য সকল জ্ঞাননিষ্ঠ সংসার বিরাগী সন্ন্যাসী শিষ্যদের প্রতি মোহনাশের উপদেশ ও বিবেকজাত জ্ঞানবৈরাগ্যের স্তুতি করিতেছেন এইভাবে-

মুঢ় জহীহি ধনাগমতৃষ্ণাম কুরু তনুবুদ্ধে মনসি বিতৃষ্ণাম্‌।

যল্লভতে নিজকর্ম্মোপাত্তম্‌ বিত্তং তেন বিনোদয় চিত্তম্‌॥১॥

অর্থ- হে মূঢ় জন কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের তৃষ্ণা পরিত্যাগ কর। এই ধরনের চিন্তা তোমার মনকে কেবলমাত্র জাগতিক করে দেবে সুতরাং মনে এর জন্য বিতৃষ্ণা সৃষ্টি কর। তোমার উত্তম কর্ম্মের দ্বারা উপার্জিত যে অর্থ তোমাকে স্বচ্ছল রাখে তার দ্বারাই তোমার মনকে খুশী রাখো।---(1)


কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ সংসারোহয়মতীববিচিত্রঃ।

কস্য ত্বং বা কুতঃ আয়াতঃ তত্ত্বং চিন্তয় তদিদং ভাতঃ॥২॥

অর্থ- কে তোমার স্ত্রী? কেই বা তোমার সন্তান? এই সংসার হল অতীব বিচিত্র। তুমি কার? তুমি কোথা থেকে এসেছ? তত্ত্ব সহকারে এই বিষয়ে চিন্তা করে দেখ।(2)


মা কুরু ধনজনযৌবনগর্বম্‌ হরতি নিমেষাৎ কালঃ সর্ব্বম্‌।

মায়াময়মিদমখিলং হিত্বা ব্রহ্মপদং প্রবিশাশু বিদিত্বা॥৩॥

অর্থ- ধন, জন ও যৌবনের গর্ব না করাই ভাল কারন সময় এই সকলকে নিমেষে গ্রাস করে ফেলে। এই অখিল জগতকে মায়াময় জেনে সেই পরম ব্রহ্ম পরমপুরুষের চরণে আশ্রয় গ্রহন করাই তোমার পক্ষে ভালো। (3)


নলিনীদলগতজলমতিতরলং তদ্বজ্জীবনমতিশয়চপলং।

ক্ষণমিহ সজ্জনসঙ্গতিরেকা ভবতি ভবার্ণবতরণে নৌকা॥৪॥

অর্থ- পদ্মপত্রের উপর জলবিন্দু যে রকম অস্থির প্রাণীর মধ্যে প্রাণও সেই রকম অস্থির। তাই এই ক্ষণজীবনে যদি ক্ষণকালের জন্যও সাধুসঙ্গ করে থাকো তাহলে এই ভব সাগরে হতে সেই সাধু সঙ্গ নৌকা হয়ে তোমাকে পার করে দেবে।(4)


যাবজ্জনমং তাবন্মরনণং তাবজ্জননীজঠরে শয়নং।

ইহ সংসারে স্ফূটতরদোষঃ কথমিহ মানব তব সন্তোষঃ॥৫॥

অর্থ- প্রাক প্রসব অবস্থা, জন্ম, মৃত্যু এগুলি ক্রমাগত, এই সংসারের এই ক্ষণ ভঙ্গুর রূপ তুমি স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাও। তাহলে হে মানুষ তুমি কিসে সন্তুষ্ট থাকো(5)


দিনযামিন্যৌ সায়ম্প্রাতঃ শিশিরবসন্তৌ পুনরায়াতঃ।

কালঃ ক্রীড়তি গচ্ছত্যায়ুঃ তদপি ন মুঞ্চত্যাশাবায়ুঃ॥৬॥

অর্থ- দিন-রাত্রি, সন্ধ্যা-সকাল, শীত-বসন্ত কতবার আসে কতবার চলে যায়, সময়ের এই খেলা দেখতে দেখতে আয়ু শেষ হয়ে যায় কিন্তু তবুও এই বায়ুর মত অফুরন্ত আশা মানুষের আর ফুরায় না।(6)


অঙ্গং গলিতং পলিতং মুণ্ডম্‌ দন্ত-বিহীনং জাতং তুণ্ডম্‌।

করধৃতকম্পিতশোভিতদণ্ডম্‌ তদপি ন মুঞ্চত্যাশাভাণ্ডম্‌॥৭॥

অর্থ- অঙ্গ সকল কুঁচকে গিয়ে এমন হয় যেন গলে গলে পড়ছে, মাথা থেকে সব চুল উঠে যায়, দাঁত পড়ে গিয়ে মুখ বিবর চুপসে যায়, ঠুকরে ঠুকরে হাঁটে, হাতে ধরে থাকা লাঠিটাও যখন থর থর করে কাঁপতে থাকে তখনো মানুষ এই আশা নামক ফাঁকা মাটির হাঁড়িটা ছাড়তে চায় না।(7)


সুরবরমন্দিরতরুতলবাসঃ শয্যাভূতলমজিনং বাসঃ।

সর্ব্বপরিগ্রহভোগত্যাগঃ কস্য সুখং ন করোতি বিরাগঃ॥৮॥

অর্থ- সেই দেবতাদের মন্দির স্বরূপ তরুতলে যদি বাস করা হয়, পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ কে শয্যা করা হয় এবং অজিন বসন যদি পরিধান করা হয় এবং সংসারের সকল ভোগে ত্যাগে আগ্রহ না রেখে সব কিছু পরিত্যাগ করে দেওয়ার এই বৈরাগ্যভাব কাকে না খুশি করে।(8)


শত্রৌ মিত্রে পুত্রে বন্ধৌ মাকুরু যত্নং বিগ্রহসন্ধৌ।

ভব সমচিত্তঃ সর্ব্বত্র ত্বং বাঞ্ছস্যচিরাদ্‌ যদি বিষ্ণুত্বং॥৯॥

অর্থ- শত্রু-মিত্র পুত্র-বন্ধু বান্ধব আদি যা কিছু সম্পর্ক আছে এদের সাথে এবং ঝগড়া সন্ধি ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ যত্ন করার কোন দরকার নেই। ভগবান চারিপাশে ব্যাপ্ত আছেন এই কথাটি মনে রেখে সকলের প্রতি সমান যত্ন নেওয়ার চেষ্টা সব সময়েই করা উচিত।(9)


অষ্টকুলাচলসপ্তসমুদ্রাঃ ব্রহ্মাপুরন্দরদিনকররুদ্রাঃ।

ন ত্বং নাহং নায়ং লোকঃ তদপি কিমর্থং ক্রিয়তে শোকঃ॥১০॥

অর্থ- এই মহাদেশ সপ্তসাগরা জগৎ সংসার ব্রহ্মা (সৃষ্টি কর্তা), ইন্দ্র (ভোগ কর্তা), সূর্য্যনারায়ণ (পালন কর্তা), রুদ্র (সংহার কর্তা) কতৃক পরিচালিত হয়। তুমি-আমি এই লোক সমূহে ক্ষণ ভঙ্গুর পদার্থ মাত্র। তাহলে কিসের জন্য তুমি দুখঃ শোকে জর্জরিত হয়ে থাকো!(10)


ত্বয়ি ময়ি চান্যত্রৈকোবিষ্ণুঃ ব্যর্থং কুপ্যসি ময্যসহিষ্ণুঃ।

সর্ব্বং পশ্য আত্মনাত্মানং সর্ব্বতোৎসৃজ ভেদজ্ঞানম্‌॥১১॥

অর্থ- তুমি আমি আর কেউ নই আমরা সেই এক সর্ব্বঘটে পরিব্যাপ্ত ব্যাপ্তময় বিষ্ণু এর জন্য ব্যর্থই আমার প্রতি অসিহষ্ণুতা বশত রাগ করে থাকো। চেয়ে দেখ চারিদিকে যা কিছু দেখতে পাচ্ছ সব তোমারই আত্মারই অংশ, আত্মার আত্মীয়। সুতারং যত্ন সহকারে মন থেকে এই ভেদজ্ঞান দূর করে দাও।(11)


বালস্তাবৎ ক্রীড়াসক্ত-স্তরুণস্তাবৎ তরুনীরক্তঃ।

বৃদ্ধস্তাবচ্চিন্তামগ্নঃ পরমে ব্রহ্মণি কোহপি ন লগ্নঃ॥১২॥

অর্থ- বালকেরা যেরকম খেলার প্রতি আসক্ত, তরুনরা যেরকম তরুনীদের প্রতি আসক্ত, বৃদ্ধেরা যে রকম বিষয় চিন্তার প্রতি আসক্ত থাকে, পরম ব্রহ্মেকে জানার জন্য সেই রকম আকুল করা আসক্তি দেখ কারো মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।(12)


অর্থমনর্থং ভাবয় নিত্যং নাস্তি ততঃ সুখলেশঃ সত্যং।

পুত্রাদপি ধনভাজাং ভীতিঃ সর্ব্বত্রৈষা কথিতা নীতিঃ॥১৩॥

অর্থ- অনর্থকারী অর্থ চিন্তায় সব সময়ে ডুবে আছো কিন্তু জেনে রাখো তাতে লেশ মাত্র সত্যিকারের সুখ নেই। হে ধনী, সংসারের লোকেরা এমনকী নিজের সন্তানরাও তোমাকে যে শ্রদ্ধা ভক্তি প্রদর্শন করে তা তোমার ধন প্রাপ্ত করার জন্য। সব সময় এমনি হয়ে থাকে নীতিকথাতে তাই বলা আছে।(13)


যাবদ্বিত্তোপার্জ্জনশক্তঃ তাবন্নিজপরিবারো রক্তঃ।

তদনু চ জরয়া জর্জ্জরদেহে বার্ত্তাং কোহপি ন পৃচ্ছতি গেহে॥১৪॥

অর্থ- যতদিন তুমি অর্থ উপার্জন করতে পারবে ততদিন তোমার পরিবারের সকলে তোমার খুব অনুরক্ত থাকবে। তুমি যা বলবে তাই হবে, তোমার কথায় সবাই ওঠা বসা করবে। তারপরে যখন সময়ের চক্রে জরা ব্যাধি ইত্যাদি এসে তোমার দেহে বাসা বাধবে, নড়বড়ে হয়ে তুমি বিছানায় শুয়ে থাকবে, তোমার বাড়িতেই তোমারই পরিবারের কেউ আর তোমার কথা জিজ্ঞেস করবে না, তোমার সাথে কথা বলবে না।(14)


কামং ক্রোধং লোভং মোহং ত্যক্ত্বাত্মানং পশ্যতি কোহহং।

আত্মজ্ঞানবিহিনা মূঢ়া স্তে পচ্যন্তে নরকে নিগূঢ়াঃ॥১৫॥

অর্থ- কাম, ক্রোধ, লোভ ও মোহ চেষ্টা করে পরিত্যাগ কর। নিজের আত্মাকে জানার চেষ্টা কর, তুমি কে? এই আত্মজ্ঞান না হলে তুমি মূর্খই রয়ে যাবে। এই জীবন-মৃত্যু নরকময় সংসারে জন্ম জন্মান্তর ধরে পঁচতে হবে।(15)


ষোড়শপজ্ঝটিকাভিরশেষঃ শিষ্যানাং কথিতোহভ্যুপদেশঃ।

যেষাং নৈব করোতি বিবেকং তেষাং কঃ কুরুতে মতিরেকং॥১৬॥

অর্থ- এই ষোলটি পদের দ্বারা শিষ্যদের সবাইকে আমি উপদেশ প্রদান করলাম। কিন্তু এতেও যার বিবেক জাগ্রত হয় না তার সেই এক পরব্রহ্মে মতি কিভাবে হবে?(16)

=========================

==+====+================


Tuesday, August 29, 2023

47>আমাদের গর্ব, রাজ্যপাল ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী::---

 

রাজ্যপাল ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী::---

আমাদের গর্ব, কলকাতার এই রাজভবনে রাজ্যপাল হিসাবে ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জীর মত একজন মহান, উচ্চ শিক্ষিত, সৎ, মহৎপ্রাণ মানুষের অধিষ্ঠান ঘটেছিল ।।          



রাজ্যপাল ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী।
বাংলার এই রাজ্যপালের নাম ছিল ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী।
ইংরেজিতে লিখতেন Harendra Coomar Mookerjee .
১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যপাল হিসাবে ইনিই ছিলেন কলকাতার রাজভবনের মালিক।
এমন একজন রাজ্যপাল  -- যার সবটাই ভালো লাগার সোনা দিয়ে মোড়া?
হ্যাঁ এমনই এক বাঙালি রাজ্যপাল ছিলেন
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল।

ভোরবেলা রাজ্যপাল ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জীর হাঁটতে বেরোনোর অভ্যাস। এক শীতের সকালে রাজভবন থেকে বেরোতে গিয়ে তিনি দেখলেন লিফটম্যান সারা রাত ডিউটি করে লিফটের পাশেই ঘুমিয়ে পড়েছে। এই দৃশ্যটি দেখে তিনি আবার ঘরে ফিরে গেলেন। ঘরে গিয়ে একটা শাল নিয়ে এসে লিফটম্যানের গায়ে জড়িয়ে দিয়ে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে গেলেন এই রাজ্যপাল। পরে লিফটম্যান ঘুমিয়ে পড়ার জন্য, রাজ্যপালের কাছে গিয়ে করোজোড়ে ক্ষমা চেয়ে শাল ফেরত দিতে গেলে তিনি সস্নেহে তাকে বলেছিলেন, "ছোট ভাইকে দেওয়া উপহার ফিরিয়ে নিতে নেই।"

এই রাজ্যপাল তখন মাইনে পেতেন ৫০০০ টাকা। ৫০০ টাকা নিজের ও পরিবারের জন্য রেখে, বাকিটা তিনি দুঃস্থদের এবং টিবি রোগীদের চিকিৎসায় দান করে দিতেন।

            একবার রাজভবনের সব কর্মচারীদের তিনি ডাকলেন এক চায়ের নিমন্ত্রণে। সবাই শঙ্কিত। কর্মচারীদের মনে এক আশঙ্কা। কারণ তাঁরা সবাই জানত, ডঃ হরেন্দ্রকুমারের একটা 'বদভ্যাস' আছে। এই ধরণের চায়ের পার্টি ডেকে তিনি টাকা তোলেন; আর পরে সেই টাকা বিলিয়ে দেন সামাজিক উন্নয়নে। এবারও  তিনি কর্মচারীদের কাছে তেমন কোন চাঁদা না চেয়ে বসেন। চা-পর্ব শেষ হলে রাজ্যপাল চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। হাত জোড় করে সকলের উদ্দেশ্যে বল্লেন, "আমি গরীব রাজ্যপাল। আদেশ করতে পারি না। বরং আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ আছে। আপনারা জানেন যে আমায় টিবি ফান্ডের খাতাপত্রের হিসেব রাখার জন্য একজন লোক রাখতে হয়েছে এবং তাকে মাইনে দিতে হয়। আপনারা যদি একটু ভাগাভাগি করে হিসেবপত্তরগুলো রাখার দায়িত্ব নেন, তাহলে মাইনের টাকাটা বেঁচে যায়। ওই টাকা দিয়ে বরং রোগীদের কিছু ফলমূল কিনে দিতে পারি।" শুনে তো সবার মাথা হেঁট। ওঁনার স্ত্রী-র নাম ছিল বঙ্গবালা। রাজভবনের কর্মীরা ওঁনাকে 'মা' বলে ডাকতেন।

রাজভবনের বিলাসব্যসন এই রাজ্যপাল শূন্যে নামিয়ে এনেছিলেন। যারা তখন রাজভবনের অতিথি হয়ে বাইরে থেকে এখানে আসতেন, সেই অতিথিদের কেউ কেউ দিল্লি ফিরে গিয়ে সরাসরি নেহেরুর কাছে নালিশ করতেন -- এই রাজ্যপালের কাছ থেকে অতি সাধারণ আতিথেয়তা পেয়ে। রাজভবন ছেড়ে চলে যাবার সময় রাজ্যপালের আতিথেয়তা ফান্ডে আট লক্ষ টাকা জমিয়ে রেখে গেছিলেন ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী।

রাজভবনে অনুমতি ছাড়া সকলের প্রবেশ নিষেধ। সাধারণের তো নয়ই।

কিন্তু অনেকেই দেখছেন, একজন বৃদ্ধ মানুষ, মাঝে মাঝেই এসে সটান ঢুকে যাচ্ছেন একেবারে রাজভবনের ভিতরে। রক্ষীরা কেউ কিছু বলছেও না। কী হল ব্যাপারটা? ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতেই একাংশ চিনতে পারলেন ওই বৃদ্ধ ব্যক্তিটিকে। আরে এ যে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত; মানে দাদাঠাকুর! এসেছেন ‘বন্ধু’র সঙ্গে একটু দেখা সাক্ষাৎ করতে। সুতরাং তাঁর প্রবেশ ছিল রাজভবনে অবাধ।
অবাক হওয়ার কিছু নেই।
ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃতীয় রাজ্যপাল। আরও ভালো করে বল্লে, পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র পূর্ণ সময়ের বাঙালি রাজ্যপাল। যিনি ছিলেন সেই বাঙালি !
বাঙালি মানে, যাকে বলে 'ফ্রম টপ টু বটম' ; আদ্যোপান্ত এক নিপাট সৎ নির্ভীক বাঙালি। আর হবেন নাই বা কেন। এত বিশাল জায়গায় গিয়েও মনটা যে তাঁর মাটির দিকেই পড়ে থাকতো। পড়ে থাকতো মাটির মানুষের কাছে। যেমন স্বভাব, তেমন ব্যক্তিত্ব, তেমনই ছিল তীক্ষ্ণ মেধা।
অবশ্য স্রেফ রাজ্যপাল হিসেবেই তাঁকে মনে রাখেনি ইতিহাস। মনে রেখেছে আরো অনেক কারণে। পড়াশোনায়ও তিনি ছিলেন তুখোড়। হরেন্দ্রকুমার মুখার্জীই ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজিতে প্রথম ডক্টরেট। পরে সেই বিভাগের তিনি প্রধানও হয়েছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়তেই আরও নানা পদে ছিলেন তিনি।

হরেন্দ্রকুমারের সঙ্গে দাদাঠাকুরের সম্পর্ক ছিল গভীর বন্ধুত্বের, স্নেহের। একে অপরকে শ্রদ্ধাও করতেন। দাদাঠাকুরের ব্যঙ্গ ও রসিকতা তো কিংবদন্তিসম। সেই রস থেকে বঞ্চিত ছিলেন না হরেন্দ্রকুমার। তাঁর কড়া নির্দেশ থাকত, দাদাঠাকুর এলে যেন কেউ তাঁর পথ না আটকান। দাদাঠাকুর একদিন রাজভবনে ঢোকার পরেই রাজ্যপাল ডঃ হরেন্দ্রকুমার কুশল জিজ্ঞাসা করছেন। আসতে কোনো অসুবিধা হয়েছে কিনা, -- এই প্রশ্নটাই করতেই দাদাঠাকুর বলে উঠলেন , "কিছু অসুবিধা হয়নি। একজন নরকের সঙ্গী আমাকে এগিয়ে দিয়ে গেছে।” এই কথাটা শুনে রাজ্যপাল হরেন্দ্রকুমার একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন। 'বলে কী - নরকের সঙ্গী! সেটা আবার কী?' হরেন্দ্রকুমার খুবই ইতস্তত ভাবেই জিজ্ঞেস করতেই দাদাঠাকুর বলে উঠলেন, ‘ওই যে, যাঁদের মাথায় হেলমেট থাকে, তারাই তো নরকের সঙ্গী । 'হেল' মানে 'নরক', আর 'মেট' মানে হল 'সঙ্গী’ । তাহলে কি দাঁড়ালো বন্ধু -- আমি কিছু ভুল বলেছি?'  দুই বন্ধু হো হো করে হেসে উঠলেন।

এইরকমই একদিন কথাবার্তায় হঠাৎ দাদাঠাকুর হরেন্দ্রকুমারকে বলে উঠলেন, ‘আপনার নামটা ভুল।’
হরেন্দ্রকুমার তো অবাক ! বলে উঠলেন -- 'বলেন কী! এতদিন এই নামটা ব্যবহার করছি, বাপ -ঠাকুরদার দেওয়া নাম ভুল হয় কী করে?' এই প্রশ্নটিরই যেন অপেক্ষা করছিলেন দাদাঠাকুর। সঙ্গে সঙ্গে জবাব, ‘আপনি যা উপার্জন করেন, তার সবই দান করেন। অথচ আপনার নাম হরেন্দ্র। মানে 'হরণ'। কিন্তু আপনি তো হরণ করেন না!’ মজার কথা হলেও, হরেন্দ্রকুমার মুখার্জীর স্বভাবটাই ছিল সে রকম। একদম সাদাসিধা জীবন। যেটুকু দরকার না হলেই নয়, সেটুকু নিয়েই থাকতে চাইতেন তিনি। যা রোজগার করেন, সবই দান করে দেন। রাজ্যপাল হবার আগেও তিনি এমনটা করেছিলেন। অধ্যাপক থাকাকালীনই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথমে তিন লাখ টাকা, পরে আরও এক লাখ টাকা দান করেছেন। সেই সময় এই টাকার যে কত বিপুল মূল্য, তা সহজেই অনুমেয়। এছাড়াও যখন তিনি সেখানকার ইন্সপেক্টর, তখনও খ্রিস্টান যুবকরা যাতে ঠিকঠাক শিক্ষা পায়, অসুবিধা না হয়, সেটা দেখতেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডঃ হরেন্দ্রকুমার নিজের বাবা-মা’র নামে একটি ফান্ডও তৈরি করে ছিলেন। প্রথমে দুই লাখ, পরে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা সেখানে দিয়ে ছিলেন।

১৯৫৬ সালের আগস্টে মারা যান রাজ্যপাল ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী। বয়স তখনও ৭০ পেরোয়নি। তাঁর মৃত্যুর পর আরও এক বাঙালি, ফণীভূষণ চক্রবর্তী রাজ্যপাল হন; কিন্তু সেটা মাত্র তিন মাসের জন্য। পূর্ণ সময় অবধি তাঁর মেয়াদ ছিল না। তারপর আজ পর্যন্ত বাংলা কোনো পূর্ণ সময়ের বাঙালি রাজ্যপালকে পায়নি। ডঃ হরেন্দ্রকুমারই এক এবং একমাত্র। তবে মারা যাওয়ার আগেও, নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় ১৭ লাখ টাকা দিয়ে যান তাঁর সাধের প্রতিষ্ঠান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে। এক প্রকার নিঃস্ব হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়।

সবশেষে আর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ না করলে রাজপাল ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জীর জীবনের একটি মহান দিক আমাদের অজানা থেকে যাবে। জানতে পারব না আমাদের দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির সেই ঐতিহাসিক দিনটার কথা।

প্রথম রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্রপ্রসাদ একবার কলকাতা সফরে আসেন। তখন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ছিলেন ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানোর জন্য নিয়ম অনুয়াযী দমদম বিমানবন্দরে সেদিন হাজির রাজ্যপাল হরেন্দ্রকুমার মুখার্জি। বেশ কিছুক্ষন অপেক্ষার পর রাষ্ট্রপতির বিমান দমদমের মাটি ছুঁলো। অবতরণের পর প্রটোকল মেনে রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদের দিকে এগিযে গেলেন রাজ্যপাল হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী। দেখা গেল রাজ্যপাল করমর্দনের জন্য রাষ্ট্রপতির দিকে হাত বাড়িযে দিলেন। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাষ্ট্রপতি করমর্দনের পরিবর্তে নত হয়ে রাজ্যপালের পা ছুঁযে প্রণাম করলেন। রাজ্যপাল হরেন্দ্রকুমার মুখার্জি আপ্লুত হয়ে তাঁর প্রিয় ছাত্র রাজেন্দ্রপ্রসাদকে বুকে জড়িয়ে  ধরলেন। বিমানবন্দরে তখন উপস্থিত মন্ত্রী, আধিকারিক, সাংবাদিকরা সেই প্রটোকল ভাঙার দৃশ্য দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে হতচকিত হয়ে যান। দেশের রাষ্ট্রপতি মাথা নত করছেন একটি রাজ্যের রাজ্যপালের পায়ে ! এ দৃশ্য তারা কোনওদিনও দেখেননি। পরে জানা গিয়েছিল হরেন্দ্রকুমার মুখার্জী যখন প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন, তখন বাবু রাজেন্দ্রপ্রসাদ ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রিয় ছাত্র। তাই গুরু হরেন্দ্রকুমার মুখার্জীকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু জানাতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠা করেননি রাষ্ট্রপতি বাবু রাজেন্দ্রপ্রসাদ।।

ভাবলে গর্বে বুক ফলে ওঠে এই ভেবে যে, কলকাতার এই রাজভবনে রাজ্যপাল হিসাবে ডঃ হরেন্দ্রকুমার মুখার্জীর মত একজন মহান, উচ্চ শিক্ষিত, সৎ, মহৎপ্রাণ মানুষের অধিষ্ঠান ঘটেছিল ।।          
                   (সংগৃহীত )
==========================

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালদের তালিকা

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান ও ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি। রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের মেয়াদে রাজ্যপাল নিয়োগ করে থাকেন।
রাজ্যপালের মেয়াদকাল ৫ বছর।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালগণের তালিকা ::--

1> চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী::----
     ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ --- ২১ জুন ১৯৪৮

2> কৈলাশ নাথ কাটজু
     ২১ জুন ১৯৪৮----- ১ নভেম্বর ১৯৫১

3>- হরেন্দ্র কুমার মুখোপাধ্যায়::---
      ১ নভেম্বর ১৯৫১ ৮ ----আগস্ট ১৯৫৬

●3/1>- - ফণিভূষণ চক্রবর্তী (অস্থায়ী)
      ৮ আগস্ট ১৯৫৬---- ৩ নভেম্বর ১৯৫৬

4>- পদ্মজা নাইডু ::---
       ৩ নভেম্বর ১৯৫৬ ১--- জুন ১৯৬৭

5> ধর্মবীর::---
     ১ জুন ১৯৬৭--- ১ এপ্রিল ১৯৬৯

●5/1>- - দীপনারায়ণ সিনহা (অস্থায়ী)
  ১ এপ্রিল ১৯৬৯-- ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯

6>- শান্তিস্বরূপ ধাওয়ান ::---
      ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৯--- ২১ আগস্ট
      ১৯৭১
7> - অ্যান্টনি ল্যান্সলট ডায়াস::--
২১ আগস্ট ১৯৭১--- ৬ নভেম্বর ১৯৭৯
8>- ত্রিভুবন নারায়ণ সিংহ
      ৬ নভেম্বর ১৯৭৯-- ১২ সেপ্টেম্বর
       ১৯৮১
9> - ভৈরব দত্ত পান্ডে::--
      ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৮১--- ১০ অক্টোবর
        ১৯৮৩
10> - অনন্ত প্রসাদ শর্মা::--
       ১০ অক্টোবর ১৯৮৩--- ১৬ আগস্ট
        ১৯৮৪
●10/1>- - সতীশ চন্দ্র (অস্থায়ী)::---
         ১৬ আগস্ট ১৯৮৪--- ১অক্টোবর
         ১৯৮৪
11> - উমাশংকর দীক্ষিত::--
        ১ অক্টোবর ১৯৮৪-- ১২ আগস্ট
         ১৯৮৬
12> সৈয়দ নুরুল হাসান::--
        ১২ আগস্ট ১৯৮৬ --২০ মার্চ ১৯৮৯
13> টি ভি রাজেশ্বর::--
       ২০ মার্চ ১৯৮৯ --৭ফেব্রুয়ারি ১৯৯০
★★(14) সৈয়দ নুরুল হাসান ::--
          ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০-- ১২ জুলাই
         ১৯৯৩
●14/1> - বি.সত্যনারায়ণ রেড্ডি ::-
           (অতিরিক্ত দায়িত্বে)
       ১৩ জুলাই ১৯৯৩ --১৪ আগস্ট ১৯৯৩

15> - কে ভি রঘুনাথ রেড্ডি::--
    ১৪ আগস্ট ১৯৯৩-- ২৭ এপ্রিল ১৯৯৮

16>- আখলাকুর রহমান কিদোয়াই::--
     ২৭ এপ্রিল১৯৯৮-- ১৮ মে ১৯৯৯

17> শ্যামল কুমার সেন::--
      ১৮ মে ১৯৯৯ --৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯

18> বীরেন জে. শাহ::--
   ৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯ ---১৪ ডিসেম্বর ২০০৪

19> গোপালকৃষ্ণ গান্ধী::--
  ১৪ ডিসেম্বর ২০০৪-- ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯

●19/1> দেবানন্দ কোঁয়র
               (অতিরিক্ত দায়িত্বে)::--
১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ --২৩ জানুয়ারী ২০১০

20> এম কে নারায়ণন::--
২৪ জানুয়ারী ২০১০--- ৩০ জুন ২০১৪

●20/1> ডি ওয়াই পাতিল::--
          (অতিরিক্ত দায়িত্বে)
৩ জুলাই ২০১৪---১৭ জুলাই ২০১৪

21> কেশরী নাথ ত্রিপাঠী::--
২৪ জুলাই ২০১৪---২৯ জুলাই ২০১৯

22> জগদীপ ধনখড়::--
   ৩০ জুলাই ২০১৯----১৭ জুলাই ২০২২

●22/1>লা. গণেশন::--
        (অতিরিক্ত দায়িত্বে)
   ১৮ জুলাই ২০২২--- ১৭ নভেম্বর ২০২২

23> সিভি আনন্দ বোস::---
      ২৩ নভেম্বর ২০২২ শায়িত্ব continue
========================

Sunday, July 30, 2023

46>গৌতম বুদ্ধের চতুরার্য সত্য::--

 গৌতম বুদ্ধের চতুরার্য সত্য::--


বৌদ্ধ চিন্তার মৌলিক কাঠামো


চতুরার্য সত্য

 (সংস্কৃত: चत्वारि आर्यसत्यानि/চত্বারি আর্যসত্যানি)


 গৌতম বুদ্ধ দ্বারা প্রচারিত চারটি শ্রেষ্ঠ সত্য এবং তার প্রধান জ্ঞান দর্শন। এই চারটি সত্য  হল 

★1>দুঃখ, 

★2>দুঃখ সমুদয়, 

★3>দুঃখ নিরোধ ও 

★4>দুঃখ নিরোধ মার্গ।



চতুরার্য সত্য তত্ত্বে দুঃখ সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছে। 



★1>দুঃখ (বৌদ্ধ ধর্ম)::--

চতুরার্য সত্যের প্রথম সত্য হল দুঃখ। গৌতম বুদ্ধের মতে পঞ্চ উপাদান যখন ব্যক্তির তৃষ্ণার বিষয় হয়ে তার নিকটে প্রকট হয়, তখন তাকে উপাদান স্কন্ধ বলে। 

এই পঞ্চ উপাদান স্কন্ধকে তিনি দুঃখ বলেছেন। এই পঞ্চ উপাদান হল

 ●রূপ, ●বেদনা, ●সংজ্ঞা, ●সংস্কার ও ●বিজ্ঞান। 

●ক্ষিতি, ●অপ্, ●তেজ, ●মরুৎ এই চার মহা উপাদান হল রূপ উপাদান। বস্তু ও তার বিচার সম্বন্ধে অনুভব হল বেদনা উপাদান। বেদনার পর যে পূর্ব সংস্কার দ্বারা ব্যক্তি বা বস্তুকে চেনা যায় তা হল সংজ্ঞা উপাদান। রূপ, বেদনা ও সংজ্ঞা দ্বারা চিন্তায় প্রকৃত ব্যক্তি ও বস্তুকে চিনতে সাহায্য করে সংস্কার উপাদান এবং চেতনা বা মনকে বলে বিজ্ঞান।


দুঃখকে মূলতঃ তিনভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা:

■ দুঃখ দুঃখ - ●জন্ম, ●জরা, ●ব্যাধি এবং

           ●মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত দৈহিক ও  

             মানসক কষ্ট,

■ বিপরিণাম দুঃখ - পরিবর্তনশীল 

              বিষয়কে স্থির রাখার দুশ্চিন্তা,

■ সংস্কার দুঃখ - মানসিক চাহিদা 

              পরিপূরণের অভাববোধ।



বৌদ্ধ দর্শনে দুঃখ জীবনের নিরাশাবাদী তত্ত্বকে দর্শায় না, বরং মানবজাতির প্রতিটি সদস্যকে জীবনের কোন না কোন মুহুর্তে জরা, ব্যাধি এবং মৃত্যুর যন্ত্রণার অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হবেই, মানব অবস্থার এই প্রায়োগিক ও বাস্তব পরীক্ষাকে নির্দেশ করে। 


গৌতম বুদ্ধের মতে জীবনে সুখ ও দুঃখ দুই অবস্থান করে, কিন্তু তা সদা পরিবর্তনশীল। 

সুখ ও দুঃখ কোনটিই বেশিদিন স্থায়ী নয়। সেই কারণে পরিবর্তনশীল সমাজে চাহিদার পূরণ সম্ভব হয় না।

___________=========__________


★2>দুঃখ সমুদয়::---


 দুঃখ সমুদয়

চতুরার্য সত্যের দ্বিতীয় সত্য হল দুঃখ সমুদয় বা দুঃখের কারণ। গৌতম বুদ্ধ দুঃখের হেতু বা কারণ হিসেবে তৃষ্ণা বা আসক্তিকে উল্লেখ করেছেন।

 অবিদ্যার কারণে বিশ্বের সকল প্রকারের ইন্দ্রিয়প্রিয় বস্তু বা বিষয়ের ওপর চিন্তা ও সম্বন্ধ স্থাপনে তৃষ্ণার জন্ম দেয়।


এই তৃষ্ণা তিন প্রকার:

সম্ভোগতৃষ্ণা, ভবতৃষ্ণা,বৈভবতৃষ্ণা।


সম্ভোগতৃষ্ণা : যে বস্তু পার্থিব আনন্দ প্রদান করে, তার ওপর তৃষ্ণা।


ভবতৃষ্ণা : পার্থিব সম্মান ও প্রভাব বিস্তারের ওপর তৃষ্ণা।


বৈভবতৃষ্ণা : দুঃখ কষ্টের প্রতি বিতৃষ্ণা

চতুরার্য সত্যের অর্থ ও তাত্পর্য্যকে না জানা ও নিজেকে ও বাস্তবকে না বোঝাকে অবিদ্যা বলা হয়ে থাকে। অবিদ্যার কারণে ক্লেশের উদ্ভব হয়ে থাকে।

 এই সূত্রে দুঃখের মূল কারণ রূপে ত্রিবিষের উল্লেখ করা যায়।

 এই তিনটি বিষ হল- অবিদ্যা বা মোহ, রাগ এবং দ্বেষ।

__________=========________


★3>দুঃখ নিরোধ::--


 নিরোধ::--

গৌতম বুদ্ধের সকল দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু। তৃষ্ণাকে দৃঢ় ভাবে সংযত করে ও ক্রমশ পরিত্যাগ করে বিনাশ করাকে গৌতম বুদ্ধ দুঃখ নিরোধ বলেছেন। 


প্রিয় বিষয়ে তত্ত্ব নির্ণয়ে সংশয় থেকে যখন তৃষ্ণা বিমুখ হয়, তখন তৃষ্ণা নাশ সম্ভব এবং তার ফলে বিষয় সংগ্রহের প্রবণতা নষ্ট হয়। 

 উপাদানের নিরোধে ভবলোকের নিরোধ হয়। ফলে বার্ধক্য, মৃত্যু, শোক, ক্রন্দন, ক্লেশ ও জটিলতা দূরীভূত হয়ে দুঃখের নিরোধ হয়।

_____________==========_________


★4>দুঃখ নিরোধ মার্গ::---


(অষ্টাঙ্গিক মার্গের প্রতীক ধর্ম চক্র):


অষ্টাঙ্গিক মার্গ--

যেখানে চতুরার্য সত্যের প্রথম তিনটি সত্য দুঃখের বৈশিষ্ট্য ও কারণকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, সেখানে এর চতুর্থ সত্য দুঃখ নিবারণের ব্যবহারিক উপায় দর্শায়।


 গৌতম বুদ্ধ দ্বারা বর্ণিত দুঃখ-নিরোধ মার্গ বা দুঃখ নিরসনের উপায়কে অষ্টাঙ্গিক মার্গ বলা হয়। এর আটটি উপদেশকে 

তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

●সম্যক প্রজ্ঞা, 

●সম্যক শীল ও 

●সম্যক সমাধি 


●সম্যক প্রজ্ঞা দুই প্রকার- *সম্যক দৃষ্টি ও *সম্যক সঙ্কল্প। 

কায়িক, বাচনিক ও মানসিক কর্মের সঠিক জ্ঞানকে সম্যক দৃষ্টি বলে। অহিংসা, চুরি না করা, অব্যভিচার ও সত্যভাষণ হল কায়িক সুকর্ম, নিন্দা না করা, মধুর ভাষণ ও লোভহীনতা হল বাচনিক সুকর্ম এবং মিথ্যা ধারণা না করা ও প্রতিহিংসাপরায়ণ না হওয়া হল মানসিক সুকর্ম। 


●সম্যক শীল তিন প্রকার- সম্যক বাক্য, সম্যক কর্ম ও সম্যক জীবিকা। 


মিথ্যা কথা, পরনিন্দা, কটুবাক্য ও অতিকথন ত্যাগ করে সত্যভাষণ ও মধুর বচনকে সম্যক বাক্য বলে। 


অহিংসা, চুরি না করা, অব্যভিচারকে সম্যক কর্ম বলে। 


এবং অসৎ পন্থা ত্যাগকে সম্যক জীবিকা বলে। 


গৌতম বুদ্ধ অস্ত্র ব্যবসা, প্রাণী ব্যবসা, মাংস বিক্রয় এবং মদ ও বিষের বাণিজ্যকে মিথ্যা জীবিকা বলে উল্লেখ করেছেন। 


●সম্যক সমাধি তিন প্রকার- •সম্যক প্রযত্ন, •সম্যক স্মৃতি ও •সম্যক সমাধি। 


ব্যায়াম, ইন্দ্রিয় সংযম, কুচিন্তা ত্যাগ এবং সৎ চিন্তার চেষ্টা ও তাকে স্থায়ী করার চেষ্টাকে সম্যক প্রযত্ন বলে। 


কায়া, বেদনা, চিত্ত ও মনের ধর্মের সঠিক স্থিতিসমূহ ও তাদের ক্ষণবিধ্বংসী চরিত্রকে সদা স্মরণে রাখাকে সম্যক স্মৃতি 

বলে।


এবং চিত্তের একাগ্রতাকে সম্যক সমাধি বলে। 


৻৻★এই আটটি মার্গ একত্রে দুঃখের অবসান ঘটায়। 

 এই মার্গগুলি আটটি বিভিন্ন দশা নয়, বরং একে অপরের ওপর নির্ভরশীল পরস্পর সংযুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ পথের সৃষ্টি করে। 



★★বারো অন্তর্দৃষ্টি::--


বুদ্ধের প্রথম বার্তা, দ্বিতীয় শতাব্দী (কুষাণ যুগ)

ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র অনুসারে চতুরার্য সত্যকে ঠিক মতো বুঝতে প্রতিটি সত্যের জন্য তিনটি করে ধাপে মোট বারোটি অন্তর্দৃষ্টি প্রয়োজন।  বৌদ্ধধর্মে এই তিনটি ধাপ সম্বন্ধে বলা হলেও কয়েকজন মহাযান পণ্ডিতের রচনাতেও এর উল্লেখ আছে। এই তিনটি ধাপ হল:


●সচ্চ নান - সত্য সম্বন্ধে জানা

●কিচ্চ নান - সত্য সম্বন্ধে কি করতে হবে তা জানা

●কত নান - যা করতে হবে তা সম্পন্ন করা।


■ প্রথম সত্যের তিনটি অন্তর্দৃষ্টি

*দুঃখ আছে

*দুঃখকে উপলব্ধি করতে হবে।

*দুঃখকে উপলব্ধি করা হল।


■ দ্বিতীয় সত্যের তিনটি অন্তর্দৃষ্টি

*দুঃখের কারণ আছে যা তৃষ্ণার সাথে সম্পর্কযুক্ত 

*তৃষ্ণাকে দূর করতে হবে 

*তৃষ্ণাকে দূর করা হল।


■ তৃতীয় সত্যের তিনটি অন্তর্দৃষ্টি

*দুঃখের নিবৃত্তি আছে

*দুঃখের নিবৃত্তি হয় তা উপলব্ধি করতে হবে।

*দুঃখের নিবৃত্তি হয় তা উপলব্ধি করা হল।


■ চতুর্থ সত্যের তিনটি অন্তর্দৃষ্টি

*দুঃখ নিবৃত্তির উপায় আছে।

*দুঃখ নিবৃত্তির উপায় জানতে হবে,

*দুঃখ নিবৃত্তির উপায় উপলব্ধি করা হল।




★★বুদ্ধের দর্শন::---


চতুরার্য সত্যকে বুদ্ধের প্রধান শিক্ষা বলে ধরা হয়। এই শিক্ষা সমস্ত বৌদ্ধ চিন্তাধারার মূল কাঠামো ও

 মিলনক্ষেত্ররূপে বিবেচিত হয়। 

গৌতম বুদ্ধের মতে, যেভাবে কোন হাতির পদচিহ্নে যে কোন পশুর পদচিহ্ন স্থান পেয়ে যায়, ঠিক তেমন করে এই বুদ্ধের সমস্ত শিক্ষা এই চার সত্যে স্থান পায়।


সারা জীবন ধরে গৌতম বুদ্ধ চার সত্যের শিক্ষাকে বারবার পরিবর্ধন করে তাঁর শিষ্যদের শিক্ষা দিয়েছেন। 

গৌতম বুদ্ধ নিজের জীবনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে চতুরার্য সত্যকে উপলব্ধি করেছিলেন। বৌদ্ধ পণ্ডিত রুপার্ট গেথিন ও থানিসসারো ভিক্ষু এই ধারণার উল্লেখ করেছেন। 


■■■  বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ::----


গৌতম বুদ্ধ সারা জীবন ধরে চতুরার্য সত্যকে প্রচার করায় বহু বৌদ্ধ সূত্রে এই তত্ত্বের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র অনুসারে সম্বোধিলাভের পর গৌতম বুদ্ধ সর্বপ্রথম চতুরার্য সত্যের শিক্ষা দান করেন। এই সূত্রে চারটি মূল শ্লোকে চারটি তথ্যকে উপস্থাপিত করা হয়েছে।


 গ্রন্থানুসারে বারো নিদানের ওপর নির্ভর করে দুঃখের কারণ ও নিরোধ হয়ে থাকে।


এছাড়াও  বুদ্ধের জীবনের অন্তিম পর্যায়ে রচিত মহাপরিনিব্বাণ সুত্তে চতুরার্য সত্য সম্বন্ধে বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া রয়েছে।

        (সংগৃহীত)

==========================

"""""""""""""



Friday, July 14, 2023

45>কিছু শ্যমাসঙ্গীত,(1খন্ড)okকৃষ্ণগান, ভক্তি গীতি।(১খন্ড)(1to22 + 4)

 45>কিছু শ্যমাসঙ্গীত,(1খন্ড)okকৃষ্ণগান, ভক্তি গীতি।(১খন্ড)(1to22 + 4)


★★1>গিরীশ চন্দ্র ঘোষের গান ★★

●1>আমার ধর্মকর্ম

●2>আমি প্রেমের ভিখারী

●3>আমি বৃন্দাবনে

●4>আর ঘুমায়ো না মন

●5>উদার অম্বর

●6>কাতরে ডাকি হে

●7>কি ছার আর

●8>কেশব কুরু করুণা

●9>জয় শিবশঙ্কর

●10>জুড়াইতে চাই

●11>তুমি তো মা ছিলে ভুলে

●12>দুর্গে দীনদুঃখহারিণী

●13>দেখা দে মা

●14>ধেয়ে ধেয়ে ধেয়ে

●15>ফিরে চাও প্রেমিক সন্ন্যাসী

●16>যাই গো, ওই বাজায় বাঁশি

●17>যোগাসনে মহাধ্যানে

●18>রাঙাজবা কে দিলো

●19>রাম-রহিম না জুদা করো

●20>শিব যদি মা

●21>হরি মন মজায়ে

●22>হামা দে পালায়।


★★★ চন্ডীদাসের গান ★★★


●1>কুল গেল কলঙ্ক হলো

●2>ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না বঁধু

●3>মথুরা-প্রত্যাগত শ্রীকৃষ্ণ

●4>রাধার কি হলো অন্তরে ব্যথা


======================

★1>গিরীশ চন্দ্র ঘোষের গান

 

●1>আমার ধর্মকর্ম

আমার ধর্মকর্ম সকলি গেল

শ্যামাপূজা মম হলো না,

মননিবারিতে নারি কোনমতে

ছি ছি ছি, যেন বলো না।


কুসুম-অঞ্জলি দিতে শ্রীচরণে

ত্রিভঙ্গ-মাধব পারে সখীমনে,

পীতবসনে হেরি গো নয়নে

ভাবিতে দিই গো বাসনা।


ভাবি বনমালী কালিয় শিখরে

হেরি বনমালী বাঁশরিয়া ধরে,

ত্রিনয়না ধ্যানে বঙ্কিম নয়নে

হেরি হই সই বিমন,

একি লো, একি লো ছলনা

মরি নিদয় হরললনা।

===============

 

●2>আমি প্রেমের ভিখারী


আমি প্রেমের ভিখারী,

কে প্রেম বিলায় এ নদীয়ায়।


কে প্রেমের মাতাল

প্রেম ঢেলে দেয়,

যে যত চায় তত পায়।


প্রাণে-প্রাণে শুনে কথা

তাই তো আমি এলেম হেথা,

আমি দেশে-দেশে বেড়াই ভেসে

থেকে গেছি প্রেমের গাঁয়।


 ==================

●3>আমি বৃন্দাবনে

আমি বৃন্দাবনে বনে-বনে

ধেনু চরাব,

আমি খেলব কত ছুটোছুটি

বাঁশি বাজাব।


খেলতে বড়ো ভালোবাসি

ছুটে ছুটে তাইতো আসি,

আমার মনের মতো খেলার সাথী

কত জন পাব।


খেলব জীবন-মরণ খেলা

আলো-কালোর দেখব মেলা,

আবার কান্না-হাসির মন্দ-ভালো

পায়ে লুটাব।


 =================

●4>আর ঘুমায়ো না মন

আর ঘুমায়ো না মন

মায়াঘোরে কতদিন,

রবে অচেতন।


কে তুমি, কী হেতু এলে

আপনারে ভুলে গেলে,

চাহ রে নয়ন মেলে

ত্যাজ গো সব।


রয়েছ অনিত্য ধ্যানে

নিত্যানন্দ হেরো প্রাণে,

তমোপরি হরি হেরো

অরুণ তপন।


 =============

●5>উদার অম্বর

উদার অম্বর শুন্য সাগর

শুন্যে মিলাও প্রাণ,

শুন্যে শুন্যে ফোটে কত শত ভুবন,

তারকা-চন্দ্রমা, কত শত তপন

শুন্যে ফোটে অভিমান।


অহম, অহম গীতি শুন্যে বিভাসিত

শুন্যে বিকশিত মনোবুদ্ধিচিত,

মদমাৎসর্য ভোক্তাভোজ

শুন্য সকলি ভান।


 ==================

●6>কাতরে ডাকি হে

কাতরে ডাকি হে, এসো

আঁখিবারি ঢালি রাঙাপদে,

ভুলিয়াছি কমলচরণ

মত্ত মহামোহমদে।


বিষয়সাধনা বিষয়কামনা

হারায়েছি হায় বিষয়সম্পদে,

রাখো নাথ, রাখো দাসে

রাখো রাখো এ বিপদে।


হেরি লক্ষ্যহীন ঘুরি দিন-দিন

তৃণ পাকে-পাকে যেন মহাহ্রদে,

বিষাদে ব্যাকুল কভু

কভু মাটিছাড়া মদে,

হৃদয়শ্যামল কুঞ্চিতকোমল

বিকাশ হৃদি-কোকনদে।


 =================

●7>কি ছার আর

কি ছার আর কেন মায়া,

কাঞ্চন-কায়া তো রবে না।


দিন যাবে দিন রবে না তো

কি হবে তোর তবে?

আজ পোহালো কাল কি হবে

দিন পাবি তুই কবে?


সাধ কখনো মেটে না ভাই

সাধে পড়ুক বাজ,

বেলাবেলি চল রে চলি

সারি আপন কাজ।


কেউ কারো নয়, দেখ না চেয়ে

কবে ফুটবে আঁখি,

আপন রতন বেছে নে চল

হরি বলে ডাকি।


 ==================

●8>কেশব কুরু করুণা

কেশব কুরু করুণা দীনে

কুঞ্জ-কাননচারী,

মাধব মনমোহন

মোহন মুরলীধারী।


ব্রজকিশোর কালিয়হর

কাতরভয়ভঞ্জন,

নয়ন বাঁকা বাঁকা-শিখিপাখা

রাধিকা হৃদিরঞ্জন।


গোবর্ধনধারণ বনকুসুমভূষণ

দামোদর কংসদর্পহারী,

শ্যামরাস রাসবিহারী

হরিবোল,হরিবোল,হরিবোল।


 =================

●9>জয় শিবশঙ্কর

জয় শিবশঙ্কর হর ত্রিপুরারি

পাশি-পশুপতি পিনাকধারী,

শিরে জটাজুট, কণ্ঠে কালকূট

সাধক জনগণ মানসবিহারী।


ত্রিলোকপালক ত্রিলোকনাশক

পরাৎপর প্রভু মোক্ষবিধায়ক,

করুণানয়নে হেরো ভকতজনে

লয়েছি শরণ চরণে তোমারি।


 ================___

●10>জুড়াইতে চাই

জুড়াইতে চাই কোথায় জুড়াই,

কোথা হ’তে আসি কোথা ভেসে যাই।


ফিরে ফিরে আসি, কত কাঁদি হাঁসি

কোথা যাই সদা ভাবি গো তাই,

কি খেলাই আমি খেলি বা কেন

জাগিয়ে ঘুমাই কুহকে যেন,

এ কেমন ভোর, হবে না কি মোর

অধীর অধীর যেমতি সমীর

অবিরাম ভক্তি নিয়ত ধাই।


আমি জানি না কে বা এসেছি কোথায়

কেন বা এসেছি কে বা নিয়ে যায়,

যাই ভেসে ভেসে কত দেশে দেশে

চারিদিকে গোল ওঠে নানা রোল,

কত আসে যায় কাঁদে হাসে গায়

এই আছে আর তখনি নাই।


কি কাজে এসেছি কি কাজে বা গেল

কে জানে কেমন কি খেলা হলো,

প্রবাহের বারি বহিতে কি পারি

যাই যাই কোথা কূল কি নাই।


করো হে চেতন যে আছো চেতন

কতদিনে আর ভাঙিবে স্বপন,

কে আছো চেতন ঘুমায়ও না আর

দারুণ এ ঘোর নিবিড় আঁধার,

করো তমোনাশ, হও হে প্রকাশ

তমা বিনা আর নাহিকো উপায়

তব পদে তাই শরণ চাই।


 

=================


●11>তুমি তো মা ছিলে ভুলে

তুমি তো মা ছিলে ভুলে

আমি পাগল নিয়ে সারা হই,

হাসে কাঁদে সদাই ভোলা

জানে না সে আমা বই।


ভাঙ খেয়ে মা সদাই আছে

থাকতে হয় মা কাছে কাছে,

ভাল মন্দ হয় গো পাছে

সদাই মনে ভাবি ওই।


দিতে হয় মা মুখে তুলে

নয়তো খেতে যায় গো ভুলে,

ক্ষেপার দশা ভাবতে গেলে

আমাতে আর আমি নই।


ভুলিয়ে যখন এলাম ছলে

(ওমা) ভেসে গেল নয়ন জলে,

একলা পাছে যায় গো চলে

আপন-হারা এমন কই।


 ==================

●12>দুর্গে দীনদুঃখহারিণী

জাগো মাগো,

দুর্গে দীনদুঃখহারিণী

শিবরাণী ভবভয়হারিণী,

জাগো মাগো হৃদয়ে

জয়তে জাগো জননী।


ওপারে দূরে বিপদসাগরে

দুর্গা, দুর্গা নাম বলো অভিরাম,

দয়াময়ী হরকরণী, হরভরণী।


রঞ্জিত-রাঙা চরণকমলে

মধুসাগর সতত উথালে,

প্রাণ সদা প্রিয় কুতুহলে

দূরে জাগে দুখরজনী।


 ==============

●13>দেখা দে মা

দেখা দে মা, দেখা দে,

দেখা দে মা, ও মা উমা

এই ছিলি কোথায় লুকালি,

মা ব’লে এসো মা উমা

মুছে ফেলি মনের কালি।


মা আমার ছিল না তেমন

স্বপ্নে কেন দেখলেম এমন,

চায় যেন গো কেমন-কেমন

কেন মা হয়েছে কালী।


হীরে মণি ভয় বাসি

উমা আমার শ্মশানবাসী,

উন্মাদিনী একি হাসি

দেখলাম যেন ছারকপালী।


কেন গো মা দিক-বসনা

কেন উমা শবাসনা,

ছিল না তো ত্রিনয়না

ছিল না তো মুণ্ডমালী।


 ================

●14>ধেয়ে ধেয়ে ধেয়ে

ধেয়ে ধেয়ে ধেয়ে

নাচে কালো মেয়ে,

খেলে বিজলী লয়ে।


রাঙাচরণ রাজে গো, রাজে

ভ্রমর গুঞ্জরে, মধুর মঞ্জীর বাজে।


কালোরূপে শতরবিচ্ছটা

দোলে এলোকেশ নবঘনঘটা,

কি বা মৃদুহাসি ঊষামলিন লাজে

শ্যামা বনফুলহারে সাজে।


 ================

●15>ফিরে চাও প্রেমিক সন্ন্যাসী

ফিরে চাও প্রেমিক সন্ন্যাসী

ঘুচাও ব্যথা কও না কথা,

কার প্রেমে হে উদাসী।


রয়েছ মত্ত ধ্যানে

তত্ত্ব তোমার কে জানে,

অনুরাগী শুধাই যোগী

প্রাণ দিলে কি লও হে আসি।


 ==================


●16>যাই গো, ওই বাজায় বাঁশি

যাই গো, ওই বাজায় বাঁশি

প্রাণ কেমন করে,

একলা এসে কদমতলায়

দাঁড়িয়ে আছে মোর তরে।


যত বাঁশরি বাজায়

তত পথপানে চাই,

পাগল বাঁশি ডাকে, ওগো রাই

না গেলে সে কেঁদে-কেঁদে,

চলে যাবে মানভরে।


 ================

●17>যোগাসনে মহাধ্যানে

যোগাসনে মহাধ্যানে মগ্ন যোগীবর

অনন্ত তুষারে যেন অনন্ত শিখর।


প্রলয় নীরব মাঝে একাকী পুরুষ রাজে

ভয়ে অগ্নিভস্ম মেখে থাকে কলেবর।


শিশু শশী নাহি আর, অন্ধকার নিরাকার

এক নাহি দুই আর, প্রকৃতি নিথর।


কালোবদ্ধ বর্তমানে গোমকেশ গোমপানে

নিত্যসত্য পূর্ণজ্ঞানে পূর্ণ মহেশ্বর।


 ==============

●18>রাঙাজবা কে দিলো

রাঙাজবা কে দিলো তোর পায়

মুঠো মুঠো,

দে না মা সাধ হয়েছে

পরিয়ে দে না মাথায় দুটো।


মা ব’লে মা ডাকবো তোরে

হাততালি দে নাচবো ঘুরে,

দেখে তুই হাসবি কত

আবার বেঁধে দিবি মাথায় ঝুঁটো।


 =================

●19>রাম-রহিম না জুদা করো

রাম-রহিম না জুদা করো

দিল কো সাচ্চা রাখো জী,

হাঁ জী, হাঁ জী করতে রহো

দুনিয়াদারি দেখো জী।


যব যায়সা, তব তায়সা হোয়ে

সদা মগন মে রহেনা জী,

মাট্টি মে ইয়ে বদন বনি হায়

ইয়াদ হরদম রাখনা জী,

কেয়া জানে কব দম ছুটেগা

উসকা নাহি ঠিকানা জী।


দুশমন তেরা সাথ ফিরতা

দেখো ভাই জো সাকো জী,

দুশমন সে বাঁচানেওয়ালে

উন বিন হায় নাহি কোই জী।


 =================

●20>শিব যদি মা

শিব যদি মা তোমার স্বামী

লুটায় কেন পদতলে,

বুক পেতে দেয় ভয়ে-ভয়ে

চায় মা তোর মুখমণ্ডলে।


চরণদুটি মনোরমা

তাই বুকে কি নেছে, শ্যামা,

তোর আবার কি স্বামী উমা

মা তুমি, মা, সবাই বলে।


ধরা কাঁপে পদভরে

বাজে না কি বুকে ধ’রে,

নইলে বলো কেমন ক’রে

শিব ধরেছে হৃদকমলে।


 ==================


●21>হরি মন মজায়ে

হরি মন মজায়ে লুকালে কোথায়

ভবে আমি একা, দাও হে দেখা,

প্রাণসখা রাখো পায়।


কালোশশী বাজালে বাঁশি

ছিলেম গৃহবাসী করলে উদাসী,

কুল ছেড়ে আজ অকূলে ভাসি

আমার হৃদবিহারী কোথায় হরি,

পিপাসী মন তোমায় চায়।


 =================

●22>হামা দে পালায়

হামা দে পালায়, পাছু ফিরে চায়

রাণী পাছে তোলে কোলে,

রাণী কুতূহলে, ‘ধরো-ধরো’ বলে

হামা টেনে তত গোপাল চলে।


পড়ে-পড়ে যায়, ধূলা লাগে গায়

আবার ওঠে, আবার পালায়,

মোছায়ে আঁচলে, রাণী করে কোলে

ব্রজের খেলায় পাষাণ গলায়।

=========================

===================

★★★ চন্ডীদাসের গান ★★★

 

●1>কুল গেল কলঙ্ক হলো

কুল গেল কলঙ্ক হলো

ঘর গেল দূরে,

দিবানিশি মন মোর

কানুর লাগি ঘুরে।


ঘরে যদি থাকি, সদাই চমকি

গুমরি-গুমরি মরি,

আমার নাহি হেন জন

করেনি বারণ,

যেমত চোরের লাগি।

আমার কেহ নাই

ব্যথার ব্যথী কেহ নাই,

আমি চোরের নারীর মতো

পুঞ্জক ধূলায় কাঁদি।


জ্বালা কহিব কত

কত ওঠে তাপ,

বচন না সরে মুখে

বুকে খেলে সাপ।

জ্বলে যে মরিব

বিচ্ছেদ-নাগিনীর বিষে,

সজনী, আমি বড়ো সাধ ক’রে

প্রেমের পুতুল,

আমার গোপন হিয়ায়

লুকায়ে রেখেছি।

সখী রে, তার মাঝে ছিল

বেদনা-নাগিনী,

দংশালো এখন জ্বলি,

জ্বলে মরি, মরি গো।


কত গুরুজনা গঞ্জয়ে নানা

তাহা কথা কারে কই,

আমার মরণ সমান করে অপমান

বঁধুয়ার লাগে সই।

আমি সয়ে থাকি

আমার জীবন মরণ পরাণ বঁধুর,

ভবযন্ত্রণা-মোচন কারণ

মুখ চেয়ে তবু সয়ে থাকি।


আমি কাহারে কহিব,

কে বা নিবারিবে

কে জানে মনের দুখ,

আর চণ্ডীদাস কহে

করো হে ঘোষণা,

তুমি তবে তো পাইবে সুখ।


 ===========_==____

●2>ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না বঁধু

ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না বঁধু, ওইখানে থাকো,

মুকুর লইয়া চাঁদ মুখখানি দেখো।


নয়নের কাজর বয়ানে লেগেছে

কালোর উপরে কালো,

প্রভাতে উঠিয়ে ও মুখ দেখিনু

বঁধু, দিন যাবে আজ ভালো।


অধরের তাম্বুল পরাণে লেগেছে

ঘুমে ঢুলু-ঢুলু আঁখি,

আমা পানে চাও, ফিরিয়া দাঁড়াও

বঁধু, নয়ন ভরিয়া দেখি।


বঁধু, চাঁচর কেশের চিকন চূড়া

সে কেন বুকের মাঝে,

সিন্দুরের দাগ, বঁধু হে

আছে সর্বগায়ে, মোরা হ’লে ম’রি লাজে।


নীলকমল বামরু হয়েছে,

মলিন হয়েছে দেহ,

কোন রসবতী পেয়ে সুধানিধি

নিঙাড়িল অতিস্নেহ।


কুটিল নয়নে কহিছে সুন্দরী

অধিক করিয়া করা,

কহে চন্ডীদাস আপন স্বভাব

বঁধু,ছাড়িতে না পারে চোরা।


 =================

●3>মথুরা-প্রত্যাগত শ্রীকৃষ্ণ

মথুরা-প্রত্যাগত শ্রীকৃষ্ণ দরশনে

শ্যাম সোহাগিনী রাই,

বড়ো অভিমান ভরে বলে গো

বড়ো অভিমান ভরে বলে –

কি আর বলিব তোরে রে বঁধুয়া,

কি আর বলিব তোরে?

অতি অলপ বয়সে পিরীতি শিখায়া

রহিতে না দিলি ঘরে।

আমায় ঘরে রইতে দিলো না গো,

আমায় ঘরের বাহির করে দিলো

ঘরে রইতে দিলো না গো,

কালা তোমার বাঁশির টানে

ঘরে রইতে দিলো না গো,

কালা রহিতে না দিলি ঘরে।


সদা বাঘিনীর ঘরে বসত হামারি

না ছোড়ি দীর্ঘশ্বাস,

আমি কালার বিরহে জলদি না হেরি

না পরি নীলের বাস।

আমি পরে থাকি সাদাখানি

পাছে লোকমাঝে হয় জানাজানি,

তাই, পরে থাকি সাদাখানি,

তবু লোকে করে কানাকানি

তারা কেন করে কানাকানি,

বলি, তারা কি সব কানা কানী?

যারা করে কানাকানি,

বলি, তারাই কানা তারাই কানী

যারা করে কানাকানি,

তারা দেখে কি নীলের বাস।


সখী রে, আমি নীলের বসন পরি না

আমি মেঘের দিকে তাকাই না,

সখী রে আমার,

তবু লোকে কেন কানাকানি করে?

তাই স্থির করেছি,

আমি কামনাসাগরে কামনা করিব

সাধিব মনেরই সাধা,

আমি মরিয়া হইব শ্রীনন্দের নন্দন

তোমাকে সাজাব রাধা।

তখন বুঝবে বঁধু,

রাধা হয়ে বুঝবে বঁধু

এই নারী হওয়ার কেমন জ্বালা,

রাধা হয়ে বুঝবে বঁধু।


পিরীতি করিয়ে ছাড়িয়ে যাইব

রহিব কদম্বমূলে,

আমি ত্রিভঙ্গ হইয়ে বাঁশরি বাজাব

যখন যাইবি জলে।

আমি নাম ধরিয়ে ডাকবো তোমার

এই ঘাটে এসো রাধা বলে,

নাম ধরিয়ে ডাকবো তোমার

এই বাঁশরিতে ধ্বনি তুলে,

নাম ধরিয়ে ডাকবো তোমার

এই মন-কদম্বের ডালে বসে,

নাম ধরিয়ে ডাকবো তোমার।


মুরলী শুনিয়ে মোহিত হইবি

সরল কুলের বালা,

দ্বিজ চন্ডীদাস ভনে তখনই বুঝিবি

পিরীতি কেমন জ্বালা।

জনম যাবে,

তোমার কাঁদতে কাঁদতে জনম যাবে

বলি এই তো কাঁদার প্রথম শুরু,

কাঁদতে কাঁদতে জনম যাবে।

বলি পিরীত করার এমনি রীতি

কাঁদতে কাঁদতে জনম যাবে,

এই ব্রজের ধূলায় গড়া দিয়ে

কাঁদতে কাঁদতে জনম যাবে,

জয় রাধে, দয়া করো ব’লে

তোমার কাঁদতে কাঁদতে জনম যাবে।


 ==================

●4>রাধার কি হলো অন্তরে ব্যথা

রাধার কি হলো অন্তরে ব্যথা

বসিয়া বিরলে থাকয়ে একলে,

না শুনে কাহারো কথা।

রাই-হৃদে এত কিসের ব্যথা

থাকে বিরলে, শোনে না কথা,

শুকায়ে গেলো কনকলতা।


সদাই ধেয়ানে চাহে মেঘপানে

না চলে নয়নতারা।

বুঝি লেগেছে চোখে মেঘের কাজল

কখন আঁখি হয় বা সজল,

নামবে বুঝি মেঘের বাদল।


বিরতি আহা রে রাঙাবাস পরে

আ মোর যাই,

আহা রে আহা রে

রতি নাই আহা রে,

দুখ কব কাহারে

যেমতি যোগিনী পারা।


এলাইয়া বেণী ফুলের গাঁথনি

দেখ হে খসায়ে চুলি,

হসিত বয়ানে চাহে মেঘপানে

কি কহে দুহাত তুলি।

হয়েছে একাকার

হাসিসাথে জোছনার

চাঁদ গেছে বদন তার।


একদিঠ করি ময়ূর-ময়ূরী

কণ্ঠ করে নিরীক্ষণে,

চন্ডীদাস কয় নবপরিচয়

কালিয়া বঁধুর সনে।

রাধার নূতন দেখা কালিয়া সনে

তাই যত অঘটন দেহে মনে,

নিজ পরিণাম নাহি গনে।


 ●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●●

■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■