60> **মনোযোগের শিক্ষা**
স্বামী বিবেকানন্দ;;--
একদিন সকালে আশ্রমের উঠোনে কয়েকজন যুবক বসে পড়াশোনা করছিল।
বই খোলা, খাতা সামনে—কিন্তু চোখে অন্যমনস্কতা, মুখে বিরক্তি।
ঠিক তখনই সেখানে এসে দাঁড়ালেন **স্বামী বিবেকানন্দ**।
তিনি কিছু বললেন না।
শুধু একবার সবার দিকে তাকিয়ে চুপচাপ একটি চেয়ারে বসলেন।
কিছুক্ষণ পরে এক যুবক সাহস করে বলল—
“মহারাজ, আমরা পড়তে বসি ঠিকই, কিন্তু মন কিছুতেই স্থির থাকে না। একটু পড়লেই হাজার রকম চিন্তা এসে ভিড় করে।”
স্বামী বিবেকানন্দ মৃদু হেসে বললেন—
“তোমরা কি জানো, মন কেন পালায়?”
কেউ উত্তর দিতে পারল না।
তিনি পাশে রাখা একটি কাগজ তুলে নিয়ে বললেন—
“এই কাগজটার দিকে সবাই মন দিয়ে তাকাও। এক মুহূর্তের জন্য চোখ সরাবে না।”
সবাই নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল।
ঠিক তখনই বাইরে ঘণ্টা বাজল, দূরে কারও কথার আওয়াজ এল, পাখির ডাক শোনা গেল।
কিছুক্ষণ পর তিনি প্রশ্ন করলেন—
“এই সময়ে তোমরা কী কী শব্দ শুনলে?”
যুবকেরা একে অপরের মুখের দিকে তাকাল।
শেষে একজন বলল—
“মহারাজ, সত্যি বলতে আমরা কিছুই খেয়াল করিনি। শুধু কাগজটার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।”
স্বামী বিবেকানন্দ তখন শান্ত গলায় বললেন—
“এইটাই মনোযোগ।
যেখানে মন সম্পূর্ণভাবে থাকে, সেখানে বাকি সবকিছু আপনা থেকেই দূরে সরে যায়।”
একজন যুবক আবার জিজ্ঞেস করল—
“কিন্তু মহারাজ, আমরা তো মনোযোগ দিতে চেষ্টা করলেও পারি না!”
তিনি একটু গম্ভীর হয়ে বললেন—
“মনোযোগ জোর করে আনা যায় না।
মন সেখানে থাকে, যেখানে তোমার আগ্রহ থাকে।”
তিনি একটু থেমে যোগ করলেন—
“আগুন জ্বললে কি তাকে আলাদা করে আলো দিতে হয়?
না—আলো আগুনের স্বভাব।
তেমনি যে কাজে হৃদয় জড়িয়ে যায়, সেখানে মন আপনাতেই স্থির হয়।”
সবাই নীরবে শুনছিল।
স্বামী বিবেকানন্দ শেষে বললেন—
“তোমরা আগে ঠিক করো—কেন পড়ছ, কিসের জন্য পড়ছ।
উদ্দেশ্য স্পষ্ট হলে, মনোযোগ আর আলাদা করে ডাকতে হয় না—
সে নিজেই এসে বসে।”
সেদিন আশ্রমের উঠোনে পড়াশোনা আবার শুরু হল।
কিন্তু এবার বইয়ের পাতার সঙ্গে সঙ্গে
মনও সেখানে উপস্থিত ছিল।
(সংগৃহীত)