Wednesday, April 30, 2025

54>অক্ষয় তৃতীয়ার মাহাত্ম্য:::---

54>অক্ষয় তৃতীয়ার মাহাত্ম্য:::---

অক্ষয় তৃতীয়া এক বিশেষ  তথা 

অতিপবিত্র তিথি।

অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়া তিথি। 

অক্ষয় তৃতীয়া এক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা কখনো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।

বৈদিক বিশ্বাসানুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন কার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। যদি শুভ কাজ করা হয় তার জন্যে লাভ হয় অক্ষয় পূণ্য আর যদি খারাপ কাজ করা হয় তবে লাভ হয় অক্ষয় পাপ। 

সেই কারণেই এইদিনে বিশেষ মুহূর্তে পূজা, জপ, ধ্যান, দান, অপরের মনে আনন্দ দেয়ার মত কাজ করা উচিত। যেহেতু এই তৃতীয়ার সব কাজ অক্ষয় থাকে সেই হেতু এই দিনের প্রতিটি কাজের প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হয় একটু শুভ চিন্তা ও সতর্কভাবে। এই দিনটি ভালোভাবে কাটানোর অর্থ শুভ কর্ম ও

সাধন জগতের পথে অনেকটা  চলের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া। জীবনকে সুন্দরের পথে এগিয়ে রাখা।

সুন্দর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে থাকা।

আজসেই শুভ  অক্ষয়তৃতীয়া সকলের দিনটি ভালো কাটুক-এই কামনায় করি।


এই দিনটিতে ঘটে যাওয়া কিছু এবং

নেমে রাখার মতন কিছু  তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা::----


●1>পিতামহ অংশুমান এবং পিতা মহারাজ দিলীপের পুত্র  ভাগীরথ

ভীষণ তপস্যা করে এই অক্ষয় তৃতীয়াতে গঙ্গা দেবীকে মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন।


●2> আজকেরদিনেই  বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম আবির্ভুত হয়েছিলেন পৃথিবীতে।


●3> এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই গণপতি গনেশ বেদব্যাসের মুখনিঃসৃত বাণী শুনে মহাভারত রচনা শুরু করেন।


●4> এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে।


●5> এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই সত্যযুগের সূচনা হয়।


●6> এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই কুবেরের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে অতুল ঐশ্বর্য প্রদান করেন। এদিনই কুবেরের লক্ষ্মী লাভ হয়েছিল বলে এদিন বৈভব-লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।


●7>এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই কৃষ্ণভক্ত

কৃষ্ণপ্রেমী সুদামা শ্রী কৃষ্ণের সাথে দ্বারকায় গিয়ে দেখা করেন এবং তাঁর থেকে সামান্য চালভাজা নিয়ে শ্রী কৃষ্ণ তাঁর সকল দুঃখ মোচন করেন।


●8> এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই

দুঃশাসন দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ করতে যান এবং সখী কৃষ্ণাকে রক্ষা করেন শ্রীকৃষ্ণ। শরনাগতের পরিত্রাতা রূপে এদিন শ্রী কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে রক্ষা করেন।


●8> এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই মহাতীর্থ পুরীতে প্রভুজগন্নাথদেবের রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রথ নির্মাণ শুরু হয়।


●10> এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই

কেদার-বদরী-গঙ্গোত্রী-যমুনত্রীর যে মন্দির শীতকাল ছয়মাস বন্ধ থাকে এইদিনেই তার দ্বার উদঘাটন হয়। দ্বার খুললেই দেখা যায় সেই অলৌকিক দৃশ্য, সেই অক্ষয়দীপ যা ছয়মাস আগে জ্বালিয়ে আসা হয়েছিল সেই অক্ষয় প্রদীপ ছয়মাস পরেও  ঠিক তেমনি জ্বলছে।



সকলকে জানাই আমার শুভ অক্ষয় তৃতীয়ার আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

ঈশ্বরের আশীষ বর্ষিত হোক আপনাদের সকলের তরে।


অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ আশীষ বর্ষিত হোক,

বর্ষিত হোক ঈশ্বরের আশীর্বাদ, সকলের মন হৃদয় পরিপূর্ণ হোক পুষ্পের গন্ধ্যে, মনে আনুক অনাবিল আনন্দ...প্রতি ক্ষণে। আপনার ও প্রিয়জনদের জন্য রইল শুভকামনার ডালি। শুভ অক্ষয় তৃতীয়া।

   <-----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->

     30/04/2025 ::সকাল 06:12:20 

==========================



Monday, October 28, 2024

53> শিক্ষা কি?

     53> শিক্ষা কি?—

অতি সাধারণ সংকীর্ণ অর্থে বিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান বা কৌশলকে শিক্ষা বলা হয়।

কিন্তু শিক্ষা কি?—এ প্রশ্নের সহজ উত্তর দিয়েছেন প্রেমেশ মহারাজ : “যা শিখলে সমগ্র জীবন সুখময় হয়, তাই শিক্ষা। যাতে বাল্যের আনন্দ যৌবনে নিরানন্দে পরিণত না হয়, যৌবনের সুখ প্রৌঢ় বয়সে এবং প্রৌঢ় বয়সের সুখ বার্ধক্যে দুঃখের হেতু না হয় সেটাই সঠিক শিক্ষা।

যা দুঃখ দূর করে, সুখ বৃদ্ধি করে এবং সুখকে স্থায়ী করতে সক্ষম, 

তাকেই বলি শিক্ষা।


আমাদের স্বামিজী বলেছেন, "যাতে মানুষের অন্তরের পূর্ণতা বিকশিত হয়, তাই-ই শিক্ষা।”

‘আত্মবিকাশ’-এর সংজ্ঞা নির্দেশ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন :

“শরীর, প্রাণ, মন ও বুদ্ধির সমভাবে প্রকাশই প্রকৃত শিক্ষা—এক কথায় ইহাই মানুষের আত্মবিকাশ।



 যাহার এইরূপ শিক্ষালাভের সুযোগ হইয়াছে, অর্থাৎ যে-ব্যক্তি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, যে যথার্থই প্রাণবান,

 মননশীল ও বুদ্ধিমান তাহাকেই আমরা ঠিক ঠিক শিক্ষিত ও সভ্য বলিব।


 আর একটি জিনিস লক্ষ্য করিবার যে, এইরূপ শিক্ষিত ব্যক্তিরই সুখ-দুঃখের অনুভূতি এবং সৌন্দর্যবোধ প্রবল হয়। এইরূপ অনুভূতিশীল ও সূক্ষ্মবোধসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা যে-সমাজে যতো অধিক, সেই সমাজই ততো বেশি সভ্য সমাজ।"

                (সংগৃহীত)

==========================

কেউ মনেকরেন শিক্ষা হল জ্ঞানলাভের একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া এবং ব্যক্তির সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনের অব্যাহত অনুশীলন। শিক্ষা প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তির অন্তর্নিহিত গুণাবলীর পূর্ণ বিকাশের জন্য উৎসাহ দেয়া হয় এবং তাকে সমাজের একজন উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভের জন্য যে সব দক্ষতা প্রয়োজন সেগুলি অর্জনে সহায়তা করা হয়। সাধারণ অর্থে দক্ষতা বা জ্ঞান অর্জনই হল শিক্ষা। 


যুগে যুগে নানা মনীষী নানাভাবে শিক্ষা সংজ্ঞায়িত করেছেন । আবার সময়ের সাথে সাথে শিক্ষার সংজ্ঞা বা ধারণা ও পদ্ধতিতে পরির্বতন এসেছে।



শিক্ষা শব্দটি এসেছে ‍'শাস' ধাতু থেকে, যার অর্থ শাসন করা বা উপদেশ দান করা। 

সাধারণভাবে বলা যায় মানুষের আচরণের কাঙ্ক্ষিত, বাঞ্চিত এবং ইতিবাচক পরির্বতনই হলো শিক্ষা।


আবার  ইংরেজিতে শিক্ষার  প্রতিশব্দ এডুকেশন এসেছে লাতিন শব্দ এডুকেয়ার বা এডুকাতুম থেকে, যার অর্থ বের করে আনা অর্থাৎ ভেতরের সম্ভাবনাকে বাইরে বের করে নিয়ে আসা বা বিকশিত করা।


সক্রেটিসের ভাষায় “শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ। 

এরিস্টটল বলেন “সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হলো শিক্ষা”

 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় “শিক্ষা হল তাই, যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না; বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকেও গড়ে তোলে।


ইংরেজিতে ব্যাকরণগতভাবে, "এডুকেশন" শব্দটি লাতিন ēducātiō (যার অর্থ প্রজনন এবং লালন পালন করা), ēducō (যার অর্থ আমি শিক্ষাদান করি, আমি প্রশিক্ষণ দেই) যা হোমোনিম ēdūcō এর সাথে সম্পর্কিত (যার অর্থ আমি এগিয়ে নিয়ে যাই, আমি উত্থাপন করি) এবং Dōcō ( যার অর্থ আমি নেতৃত্ব দেই, আমি পরিচালনা করি ) থেকে উৎপত্তি হয়েছে।



আদিমকালে মানুষ ছিল অসহায়। ঝড়, বৃষ্টি, গরম, ঠাণ্ডা, ভূমিকম্প, বজ্রবিদ্যুৎ ইত্যাদি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তাকে সবসময় লড়াই করতে হয়েছে। মানুষ তখন প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকত ভয়ে। প্রকৃতি ছিল যেন প্রভু, আর মানুষ তার দাস। হিংস্র বন্যপ্রাণীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়েছে মানুষকে। গুহামানব বন্য পশু মেরেছে পাথর ছুঁড়ে। শিকার করা পশুর কাঁচা মাংস খেয়েছে। বনের ফল মূল ছাড়াও যে মাংস খেয়ে খিদে মেটানো যায় এই চেতনা মানুষের মনে জাগ্রত হয়েছে। পাথর ছুঁড়ে তার 'জ্ঞান' হয়েছে এই পাথর দিয়েই পশুকে তাড়ানো যায় এমনকি মেরে ফেলা যায়। আদিম মানুষের মনে 'বোধ' এসেছে যে পাথরের আঘাতে পশু মরে যেতে পারে। এই বোধ থেকে তার মনে এসেছে অন্য পশুকে পাথর ছুঁড়ে মারার পরিকল্পনা। অর্থাৎ অন্য পশুর উপর পাথর 'প্রয়োগ' করে তা মারার চেষ্টা। পাথর তো ভোঁতা হলে পশু শিকার করার অসুবিধে হয়। এটাকে যদি ধারালো বা সূঁচালো করা যায় তাহলে পশু ঘায়েল করতে খুবেই সুবিধে হয়। তাই পাথর কেটে অস্ত্র তৈরি করতে তাঁর 'দক্ষতা' এসেছে। এভাবেই জ্ঞান, বোধ, প্রয়োগ, দক্ষতার হাত ধরে শিক্ষা এগিয়ে চলেছে যুগ যুগ ধরে। শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জনের উৎস সম্বন্ধে সংস্কৃত সাহিত্যে বলা হয়েছে,-


"আচার্যাৎ পাদম্ আধত্তে পাদম্ শিষ্যঃ স্ব-মেধয়া; পাদম্ স্ব-ব্রহ্মচারিভ্যঃ পাদম্ কালক্রমেন চ।"


ব্রহ্মচারী বা শিক্ষার্থী জ্ঞানের এক চতুর্থাংশ লাভ করে আচার্য বা শিক্ষকের কাছ থেকে এক চতুর্থাংশ অর্জন করে নিজস্ব বুদ্ধিতে। এক চতুর্থাংশ লাভ করে অন্যান্য শিক্ষার্থীর সাথে আলাপ আলোচনায়। বাকি অংশ তার সমগ্র জীবন কর্মধারায় অর্জিত হয়। মানুষের জীবন এই বিশ্ব প্রকৃতির প্রাকৃতিক পরিবেশে আবৃত। মানুষের জীবন ও কর্ম বহুলাংশে নির্ভর করে প্রকৃতির উপর। বর্তমানে চার দেওয়ালে ঘেরা ব্যবস্থাকে বাদ দিয়েও শিক্ষা অর্জনের ভূমিকায় ব্যাপক ভাবে অংশ নিয়েছে প্রকৃতি-বিশ্বপ্রকৃতি। বিশ্বপ্রকৃতি যেন একজন মহান শিক্ষক। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ঘাত প্রতিঘাতে আবৃত করে রাখে প্রকৃতি। মানুষকে ক্রিয়াশীল করে প্রকৃতি। প্রকৃতিতে আছে দুরকম বস্তু। জীব এবং জড়। জীব ও জড়ের প্রভাব সব সময়ই আবর্তিত হয় মানবজীবন প্রবাহে। তাই প্রকৃতি কোন নিষ্ক্রিয় সত্তা নয় তারও রয়েছে যেন জীবনী শক্তি! শিক্ষাবিদ রুশো বলেছেন, "Everything is good as it leaves the hand of the author of nature, everything is degenerated in the hands of man"[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] সব কিছুই ভালো যা প্রকৃতি করে। মানুষের হাতে সব কিছু যেন ধ্বংস হয়। প্রকৃতির ক্রিয়াকলাপ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উপলব্ধির মাধ্যমে যে শিক্ষা ঘটে তা হল প্রকৃত শিক্ষা।



প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জীবনে শিক্ষা কথাটি জড়িয়ে রয়েছে। মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক সকল প্রকার অগ্রগতির পেছনে যে উপকরণ কাজে লাগে তা হল শিক্ষা। ব্যক্তির সুষ্ঠু জীবন যাপন সামাজিক উন্নয়ন এবং সভ্যতার অগ্রগতির জন্য শিক্ষা অপরিহার্য। শিক্ষা অতীতের সংস্কৃতিকে বহন করে, বর্তমান সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং ভবিষ্যতের প্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। কিন্তু শিক্ষা কি? আধুনিক চিন্তাবিদ এবং বিজ্ঞানীরা মনে করেন শিক্ষা এক ধরনের গতিশীল কাজ। অনেক সময় জ্ঞানার্জনকে স্বাভাবিক ভাবে শিক্ষা বলা হয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি যত জ্ঞান অর্জন করেছেন তাঁকেই আমরা তত শিক্ষিত বলি। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন- "Education is the menifestation of perfection already in man."  রুশোর মতে- "Education is the unfoldment of the child. It is the skill of human behavier pattern."[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] সক্রেটিস বলেছেন - "Education is self realisation."


সংকীর্ণ অর্থে বিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান বা কৌশলকে শিক্ষা বলা হয়। কিন্তু কোনো মনোবিদ বা কোনো বিজ্ঞানী বিদ্যালয়ের অর্জিত জ্ঞানকে প্রকৃত শিক্ষা বলতে চাননি। বর্তমান কালে শিক্ষার ব্যাপক অর্থ খুবই কার্যকরী। শিক্ষা বিদরা মনে করেন শিক্ষা এক ধরনের জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া যা মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত চলে। শিক্ষা কি? শিক্ষার ব্যাপক অর্থ হল:শিক্ষা মানুষের জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। মানুষ যতদিন বেঁচে থাকে সবসময়ই তার শিক্ষা চলে। এটি এক সামাজিক প্রক্রিয়া। সমাজ ছাড়া শিক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় না। শিক্ষা হলো মানুষের অভিজ্ঞতার পুর্নগঠন ও পূর্ণসৃজন। যা বাস্তব সমস্যার সমাধানে সাহায্য। যা কোনো প্রাণীর আচরণের পরিবর্তন আনে তাই শিক্ষা। শিক্ষাই মানুষের সামাজিকীকরণে সাহায্য করে সমাজ সংরক্ষণ করে। যে কৌশল সমাজ ও ব্যক্তির মঙ্গল করে তাই শিক্ষা। এটি ক্রমবিকাশের ধারাকে বহন করে।শিক্ষা একধরনের উভমুখী প্রক্রিয়া যার সাহায্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পারস্পরিক ভাবের আদান প্রদান চলে এবং এর ফলে উভয়ই উপকৃত হয়। শিক্ষা হল ব্যক্তির জ্ঞানমূলক, সামাজিক, মানসিক, এমনকি ব্যক্তিগত দিকের সর্বাঙ্গীন বিকাশের জীবনব্যাপী চলমান প্রক্রিয়া। যেহেতু শিক্ষা গতিশীল তাই এর অর্থ এমনকি লক্ষ্য- যুগ থেকে যুগান্তর সভ্যতার অগ্রগতির সাথে পরিবর্তিত হয়েছে।

===========================


Saturday, February 3, 2024

52>|| মহালয়ার নান্দীপাঠ ||

   52>||  মহালয়ার নান্দীপাঠ ||


 (সংগ্রহীত)

=========================

 1>||  মহালয়ার নান্দীপাঠ ||

"জাগো দুর্গা" আনন্দবাজার পত্রিকা


যে নন্দীপাঠের বয়স বাড়লেও তা কখনও পুরনো হবে না, সেই গীতি-মন্ত্র-ভাষ্যের আশ্চর্য ইন্দ্রজাল মানসপটে মিলে মিশে যায় শরতের নীল আকাশ, কাশের বন আর মাতৃমুখের তিনটি ডাগর চোখ।

বাঙালির এই শ্রেষ্ঠ উৎসবের সূচনাবিন্দুতে  জড়িয়ে আছেন বাণীকুমার, পঙ্কজকুমার মল্লিক ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের এই সম্মিলিত কালজয়ী সৃষ্টি, "মহিষাসুরমর্দিনী"।


নান্দী এর বাংলা অর্থ

নান্দী এর বাংলা অর্থ নান্দী [ nāndī ] বি. কাব্য, নাটক ইত্যাদির আরম্ভের সময় দেবতার স্তব বা মঙ্গলাচরণ।;

[সং. √ নন্দ্ + ণিচ্ + ই + ঈ]।;


নান্দীকর , নান্দীপাঠ যে নান্দী পাঠ করে।;

নান্দীমুখ বি. ১. শুভকর্মের শুরুতে করণীয় শ্রাদ্ধ, আভ্যুদয়িক শ্রাদ্ধ; 

২. বৃদ্ধিভোজী মাতাপিতৃগণ যথা, পিতা পিতামহ প্রপিতামহ মাতামহ প্রমাতামহ।;নান্দীমুখী বি. বৃদ্ধিভোজী মাতৃগণ।;

নান্দীরোল বি. ১. সজোরে মন্ত্রোচ্চারণ; ২. (গৌণ অর্থে) রণহুংকার (‘যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে নতুন যুদ্ধের নান্দীরোল’: জী. দা)।;[নান্‌দি] (বিশেষ্য) ১ কাব্য-নাটকাদির প্রারম্ভে সুসম্পন্নতা কামনা করে স্তুতি, মঙ্গলাচারণ। ২ স্তুতি; বন্দনা (সাগরপারে গান্ধী করে জাতীয়তার নান্দীপাঠ-সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)। নান্দীকর (বিশেষ্য) ১ স্তুতিপাঠক; বন্দনাকারী। ২ মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানকারী। নান্দীমুখ (বিশেষ্য) হিন্দুদের আভ্যুদয়িক শ্রাদ্ধ; বিবাহ, গৃহপ্রবেশ প্রভৃতি শুভকর্মের পূর্বে যে শ্রাদ্ধ করা হয়। {(তৎসম বা সংস্কৃত) √নন্দ্‌+অ(ঘঞ্‌)+ঈ(ঙীষ্‌)};

===========================



Wednesday, January 17, 2024

51> || পৌষ সংক্রান্তির পিঠে পুলি ||

 51> || পৌষ সংক্রান্তির পিঠে পুলি ||


সেদিনের সেই আমাদের ছেলেবেলার পৌষ সংক্রান্তির মেলা আর ঘরে মা জেঠিমার হাতে বানানো পিঠে পুলি।

মকরসংক্রান্তির পিঠে পুলি বাড়ির

সবাই খাবে । সেদিনের সেই মজা পিঠে খাবার আনন্দ , আহা সেকি ভুলবার!


ওনারা যখন বসবেন পিঠে পুলি  গড়তে , কত্ত আয়োজন তার, নতুন চালের গুড়ো চাউল ঢেকিতে পিষে আবার কখনো যাতে পিষে নিতেন ,  তার পরে নারকেল , গরুর দুধ , খেজুর গুড় , তিল , চিনি , খোয়া , ক্ষীর , ঘি , মধু , বিউলির ডাল বাটা , মুগসিদ্ধ , কাঁচালঙ্কা , চুই ঝাল ,ভাজা মশলা। 


ছোটবেলায় নারকেলের নাড়ুর লোভে আমরা  মায়ের পাশে পাশেই ঘুর ঘুর করতাম, ছোট ভাই মায়ের আঁচল ধরে বসে থাকতো রান্নাঘরে । 

পিঠে তৈরি করবার কতো ব্যবস্থা 

 বেগুনের বো়ঁটায় তেল লাগিয়ে চাটুতে সেই তেল লাগানো বোটা ঘষে  তেল বুলিয়ে  পাটিসাপটা বানানো হতো

এ ছাড়া আরও কত রকমের পিঠে হতো,


দুধপুলি , মুগপুলি , রাঙাআলুর পুলি , রসবড়া , ফুলঝুড়ি , কাওনর ধানের খৈ এর মোয়া , 

 দুধরাজ পিঠা , গোলাপ পিঠা , চাঁদপাকন , ঝিনুকপিঠা , সরলাপিঠা , কালাইপুড়ি , বিবিয়ানা বা জামাইভুলানো পিঠা , ভাপা পিঠা , গোকুল পিঠা , ঝালপিঠা , ছাঁচ পিঠা , ছিটকা পিঠা , চাপড়ি পিঠা , পাটিসাপটা , 

চুইপিঠা , মালপোয়া , ঝালপোয়া , জামদানী পিঠা , আন্দশা , হাঁড়িপেটা , দৈল্যা , চুষির পায়েস আরো কত্ত কি ! পিঠের  সুগন্ধে ঘর ভরে যেত । 

মনে পড়ে সেদিনের সেই ছড়া---


" আওলা চাল, বকের পাক

যেমন পিঠা তেমন থাক "


 "সারা রাজ্যে সাজো সাজো রব । পয়লা পৌষ থেকেই মেয়েরা ঘরে ঘরে করছে তুঁষতুষলি ব্রত । রোজ ভোরে স্নান সেরে কাচা কাপড় পরে গাইছে ,"


" তোষলা গো রাই ,

তোমার দৌলতে আমরা ছ'বুড়ি পিঠে খাই।"


পৌষ মাসে কিছু পূজাও হতো,

যেমন 

বৌ ও মেয়েরা দল বেঁধে পৌষলক্ষ্মী অরুণার পুজো করতেন।

ঘর ঝেড়ে পুছে , তোরঙের সব গরমকাপড় রোদে দিয়ে ভালো করে রোদ লাগিয়ে গুছিয়ে রাখতো । 

তারপরে হতো বসুমতী পুজো । তুলসীমঞ্চে আলপনা দিয়ে ফল মিষ্টি আর বাস্তুসাপের জন্য দুধ রেখে ধূপ দীপ জ্বালিয়ে পুজো হতো। এরপর ক্ষেত্রপাল , নগরপালের ধ্যান করে বারবার তিনবার বলতে হয়--


"ঔ বাস্তুদেবায় নমঃ ।" 


বাস্তুপুজো সেরে হবে শস্যোৎসব , আউনি-বাউনি পুজো । নতুন ধানের শীষের ছড়া দিয়ে শিষের বিনুনি করে বানাতে হয় আউনি আর বাউনি । তাকে সাজানো হয় মুলোর ফুল , সর্ষে ফুল , আমপাতা , তেল , হলুদ , সিঁদুর দিয়ে । নতুনধান তুলে ধানের গোলায় , ঢেঁকিশালে , বাক্স প্যাঁটরা তোরঙ্গে গুঁজে দিতে হয় আউনি আর বাউনিকে ।আর আমাদের  হাতে হাতে ঘুরত তিলকূট , চিনির মঠ , বুড়ির চুল ( হাওয়াই মেঠাই সে এক  রোমান্টিক ব্যাপার) ।

বাচ্চারা হাতে হাতে, কদমা , ছোলা , মঠ খেয়ে সমস্ত দিন দৌড়া দৌড় খেলা মাঠে

ধুলো উড়িয়ে আনন্দে মাতোয়ারা । 


ওদিকে  ঢেঁকিতে চিড়ে কুটতে কুটতে গান গাইতেন---


"এসো পৌষ যেওনা,

ভাতের হাঁড়িতে থাকো পৌষ যেও না ,

পৌষমাস লক্ষ্মীমাস যেওনা .... "

তার পরে মনে পড়ে পৌষের কেঁদুলীর বাউল মেলা। কেঁদুলীতে জয়দেবের মেলায় দলে দলে হাটুরে মানুষ চলেছে , আউল বাউল ফকির নিকিন্নি সবাই ।

সে এক অতিসুন্দর ও অদ্ভুত মেলা।

কতো যে বাউল আছেন সেটা বোঝা যায় এই কেঁদুলীর মেলায়।

ওদিকে চলছে ঘুড়ির সুতোয় মাঞ্জা দেওয়া , দুপুরে উড়বে ঘুড়ি । দক্ষিনয়নান্ত । উত্তরায়ণের সূচনায় ঘুড়ি উড়িয়ে সুয্যিদেবকে পেন্নাম জানাবে সবাই । 

আজ শেষবারের মতন হবে মূলোর ছেঁচকি  , কারণ মাঘমাসে মূলো খেতে নেই , ,(খনার বচন) ।



" পিঠে গড়তে গড়তে বড়রানীর চোখ থেকে জল পড়ে । রাজপুত্তুর কোন দূরদেশে গেছে পড়াশোনা করতে । সঙ্গী রাজামশাই । শূন্য ঘর , খাট , বিছানা । রানী খায় না , কিছু খেতে গেলেই মনে হয় , আহা , ছেলেটা বড় ভালোবাসতো ! বিদেশ বিঁভুইতে আউলা ঝাউলা খাইয়া বাপ ব্যাটায় দিন কাটায় । আশেপাশের সব বাড়িতে পিঠার ধুম । বড়রানী চোখমুছে প্রথম পিঠা বিলাইকে দেয় , মনে করে ছেলেকে দিল । পরেরটাও দেয় , ভাবে রাজামশাই খেল । সন্ধ্যায় ঘরে ঘরে শাঁখ বাজে , প্রদীপ জ্বলে , সবার বাড়িতে হ‌ইহ‌ই ।"


"পৌষমাসে পিঠেপুলি , মহা ধুমধাম

ঘরে ঘরে পিঠে গড়ে , ধন্য পল্লীগ্রাম

দুধপুলি, গুড় পিঠে , নারিকেল আর 

সকলে করিছে পিঠে সকলপ্রকার ।" 

( লক্ষ্মণ ভান্ডারী )


"সব ঘরে আলো জ্বলে , পিঠে হয় , মহাধুমধাম । বড়রানী পিঠে গড়ে , একখান তার পোলার নাম , একখান বরের নাম ।"


ঋণ : বাংলার ব্রতকথা , অবনঠাকুর।

    <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

==========================

Wednesday, January 3, 2024

50>|| नववर्ष की शुभकामनाये ||

   50> || नववर्ष की शुभकामनाये ||


★सूर्य संवेदना पुष्पे, दीप्ति कारुण्यगंधने।

लब्ध्वा शुभं नववर्षेऽस्मिन कुर्यात्सर्वस्य मंगलम।★

           ★★★


■সূর্য যেমন প্রকাশ দান করে,

সংবেদনা করুণার জন্ম দেয়,

পুষ্প সর্বদা সুবাস ছড়িয়ে দেয়,

সেইরূপ আগামী নুতন বৎসরের

প্রতি দিন, প্রতি ক্ষণ, সকলের জন্য

মঙ্গল ময় হোক।

এই নতুন বছর 2024  সবার জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনুক।■

          ■■■


◆As the Sun gives light , the sensation give birth to compassion, and the flowers always spread their fragrance. The same way, may our new year be a pleasant one for us every day, every moment.◆

            ◆◆◆


●जिस तरह सूर्य प्रकाश देता हैं,

संवेदना करुणा को जन्म देती हैं,

पुष्प सदैव महकता रहता हैं,

उसी तरह आने बाला हमारा यह नूतन वर्ष

आपके लिए हरदिन, हर पल के लिए मङ्गलमय हो।●

           ●●●

 ====================


Friday, December 8, 2023

49>পানীয় জলের PH value====

 49>পানীয় জলের PH value====


অম্লতা এবং ক্ষারীয়তা সূচক পিএইচ মান হিসাবে পরিচিত হয় । পিএইচ মান ৭ হল একেবারে স্বাভাবিক । জলে পিএইচ মান ৭ এর নিচে অম্লতার আধিক্য এবং বেশি ক্ষারীয়তার আধিক্য নির্দেশ করে । Environmental Protection Agency (EPA) এর মতে পানীয় জলের জন্য আদর্শ পিএইচ মান হল ৬.৫ - ৮.৫ ।


pH মান 7 হলে তা নিরপেক্ষ

pH মাত্রা 7 এর কম হলে তা অম্লীয় বা অ্যাসিটিক।

pH মান 7 এর বেশি হলে তা ক্ষারীয়।


বিভিন্ন জিনিসের pH মাত্রা::----

পদার্থ // দ্রবণ----------pH এর মান।

--------------------             ---------------------

বিশুদ্ধ জল ----------------7.0

বৃষ্টির জল----      ------  5.6---6.0

সমুদ্রের জল--–   -------7.5---8.5

লালা রস  ------     -------6.5---7.5

রক্ত    ------------     -------7.3---7.5


মূত্র-------------      ------6

চা  ----------------      ------5.5

কফি -------------      ------5.0

বিয়ার  -----------      ------4.5

লেবুর রস ------       ------2.2---2.4


ভিনিগার -------        ----- 2.9

টমেটো ----------       ------ 4.0

আপেলের রস --     ------2.9---3.3

কমলার শরবত--    ------3.7

স্ট্রবেরী ----------       ------3.0----3.5


ফলের জেলি ----     ------2.8---3.4

গরুর দুধ ---------     ------6.4

মাখন  ------------      ------6.1----6.4

ডিমের সাদা অংশ--   ---7.6---8.0

বেকিং সোডা----     ------8.3


লন্ড্রির অ্যামোনিয়া--  ----11.0  

ব্যাটারির অ্যাসিড--   ----1.0

চুন জল --------         ------12.0

দাঁতের মাজন---      ------8.0

গ্যাস্টিক রস----       ------1.0

=======25==============


Saturday, September 23, 2023

48>|| কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ ||

 


 48>|| কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ ||

  গান::--হেমন্ত মুখর্জ্জী।

"মোহমুদ্গর" ভগবৎপাদ্ শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্য 

কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ সংসারোহয়মতীববিচিত্রঃ।

কস্য ত্বং বা কুতঃ আয়াতঃ তত্ত্বং চিন্তয় তদিদং ভাতঃ।।

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং গোবিন্দং ভজ মূঢমতে।

মা কুরু ধনজনযৌবনগর্বম্ হরতি নিমেষাৎ কালঃ সর্ব্বম্।

মায়াময়মিদমখিলং হিত্বা ব্রহ্মপদং প্রবিশাশু বিদিত্বা।।

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং গোবিন্দং ভজ মূঢমতে।


নলিনীদলগতজলমতিতরলং তদ্বজ্জীবনমতিশয়চপলং।

ক্ষণমিহ সজ্জনসঙ্গতিরেকা ভবতি ভবার্ণবতরণে নৌকা।।

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং গোবিন্দং ভজ মূঢমতে।


কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ সংসারোহয়মতীববিচিত্রঃ।

কস্য ত্বং বা কুতঃ আয়াতঃ তত্ত্বং চিন্তয় তদিদং ভাতঃ।।

ভজ গোবিন্দং ভজ গোবিন্দং গোবিন্দং ভজ মূঢমতে।।


=====================_


ভগবৎপাদ্ শ্রীমৎ শঙ্করাচার্য্য 

 "মোহমুদগর" ও ইহার ভাবার্থঃ-

আচার্য্য শঙ্কর ভগবৎপাদের 'মোহমুদগর' রচনাটি একটি --মোহনাশক জ্ঞানবৈরাগ্যমূলক রচনা। আচার্য্য সকল জ্ঞাননিষ্ঠ সংসার বিরাগী সন্ন্যাসী শিষ্যদের প্রতি মোহনাশের উপদেশ ও বিবেকজাত জ্ঞানবৈরাগ্যের স্তুতি করিতেছেন এইভাবে-

মুঢ় জহীহি ধনাগমতৃষ্ণাম কুরু তনুবুদ্ধে মনসি বিতৃষ্ণাম্‌।

যল্লভতে নিজকর্ম্মোপাত্তম্‌ বিত্তং তেন বিনোদয় চিত্তম্‌॥১॥

অর্থ- হে মূঢ় জন কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের তৃষ্ণা পরিত্যাগ কর। এই ধরনের চিন্তা তোমার মনকে কেবলমাত্র জাগতিক করে দেবে সুতরাং মনে এর জন্য বিতৃষ্ণা সৃষ্টি কর। তোমার উত্তম কর্ম্মের দ্বারা উপার্জিত যে অর্থ তোমাকে স্বচ্ছল রাখে তার দ্বারাই তোমার মনকে খুশী রাখো।---(1)


কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ সংসারোহয়মতীববিচিত্রঃ।

কস্য ত্বং বা কুতঃ আয়াতঃ তত্ত্বং চিন্তয় তদিদং ভাতঃ॥২॥

অর্থ- কে তোমার স্ত্রী? কেই বা তোমার সন্তান? এই সংসার হল অতীব বিচিত্র। তুমি কার? তুমি কোথা থেকে এসেছ? তত্ত্ব সহকারে এই বিষয়ে চিন্তা করে দেখ।(2)


মা কুরু ধনজনযৌবনগর্বম্‌ হরতি নিমেষাৎ কালঃ সর্ব্বম্‌।

মায়াময়মিদমখিলং হিত্বা ব্রহ্মপদং প্রবিশাশু বিদিত্বা॥৩॥

অর্থ- ধন, জন ও যৌবনের গর্ব না করাই ভাল কারন সময় এই সকলকে নিমেষে গ্রাস করে ফেলে। এই অখিল জগতকে মায়াময় জেনে সেই পরম ব্রহ্ম পরমপুরুষের চরণে আশ্রয় গ্রহন করাই তোমার পক্ষে ভালো। (3)


নলিনীদলগতজলমতিতরলং তদ্বজ্জীবনমতিশয়চপলং।

ক্ষণমিহ সজ্জনসঙ্গতিরেকা ভবতি ভবার্ণবতরণে নৌকা॥৪॥

অর্থ- পদ্মপত্রের উপর জলবিন্দু যে রকম অস্থির প্রাণীর মধ্যে প্রাণও সেই রকম অস্থির। তাই এই ক্ষণজীবনে যদি ক্ষণকালের জন্যও সাধুসঙ্গ করে থাকো তাহলে এই ভব সাগরে হতে সেই সাধু সঙ্গ নৌকা হয়ে তোমাকে পার করে দেবে।(4)


যাবজ্জনমং তাবন্মরনণং তাবজ্জননীজঠরে শয়নং।

ইহ সংসারে স্ফূটতরদোষঃ কথমিহ মানব তব সন্তোষঃ॥৫॥

অর্থ- প্রাক প্রসব অবস্থা, জন্ম, মৃত্যু এগুলি ক্রমাগত, এই সংসারের এই ক্ষণ ভঙ্গুর রূপ তুমি স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাও। তাহলে হে মানুষ তুমি কিসে সন্তুষ্ট থাকো(5)


দিনযামিন্যৌ সায়ম্প্রাতঃ শিশিরবসন্তৌ পুনরায়াতঃ।

কালঃ ক্রীড়তি গচ্ছত্যায়ুঃ তদপি ন মুঞ্চত্যাশাবায়ুঃ॥৬॥

অর্থ- দিন-রাত্রি, সন্ধ্যা-সকাল, শীত-বসন্ত কতবার আসে কতবার চলে যায়, সময়ের এই খেলা দেখতে দেখতে আয়ু শেষ হয়ে যায় কিন্তু তবুও এই বায়ুর মত অফুরন্ত আশা মানুষের আর ফুরায় না।(6)


অঙ্গং গলিতং পলিতং মুণ্ডম্‌ দন্ত-বিহীনং জাতং তুণ্ডম্‌।

করধৃতকম্পিতশোভিতদণ্ডম্‌ তদপি ন মুঞ্চত্যাশাভাণ্ডম্‌॥৭॥

অর্থ- অঙ্গ সকল কুঁচকে গিয়ে এমন হয় যেন গলে গলে পড়ছে, মাথা থেকে সব চুল উঠে যায়, দাঁত পড়ে গিয়ে মুখ বিবর চুপসে যায়, ঠুকরে ঠুকরে হাঁটে, হাতে ধরে থাকা লাঠিটাও যখন থর থর করে কাঁপতে থাকে তখনো মানুষ এই আশা নামক ফাঁকা মাটির হাঁড়িটা ছাড়তে চায় না।(7)


সুরবরমন্দিরতরুতলবাসঃ শয্যাভূতলমজিনং বাসঃ।

সর্ব্বপরিগ্রহভোগত্যাগঃ কস্য সুখং ন করোতি বিরাগঃ॥৮॥

অর্থ- সেই দেবতাদের মন্দির স্বরূপ তরুতলে যদি বাস করা হয়, পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ কে শয্যা করা হয় এবং অজিন বসন যদি পরিধান করা হয় এবং সংসারের সকল ভোগে ত্যাগে আগ্রহ না রেখে সব কিছু পরিত্যাগ করে দেওয়ার এই বৈরাগ্যভাব কাকে না খুশি করে।(8)


শত্রৌ মিত্রে পুত্রে বন্ধৌ মাকুরু যত্নং বিগ্রহসন্ধৌ।

ভব সমচিত্তঃ সর্ব্বত্র ত্বং বাঞ্ছস্যচিরাদ্‌ যদি বিষ্ণুত্বং॥৯॥

অর্থ- শত্রু-মিত্র পুত্র-বন্ধু বান্ধব আদি যা কিছু সম্পর্ক আছে এদের সাথে এবং ঝগড়া সন্ধি ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ যত্ন করার কোন দরকার নেই। ভগবান চারিপাশে ব্যাপ্ত আছেন এই কথাটি মনে রেখে সকলের প্রতি সমান যত্ন নেওয়ার চেষ্টা সব সময়েই করা উচিত।(9)


অষ্টকুলাচলসপ্তসমুদ্রাঃ ব্রহ্মাপুরন্দরদিনকররুদ্রাঃ।

ন ত্বং নাহং নায়ং লোকঃ তদপি কিমর্থং ক্রিয়তে শোকঃ॥১০॥

অর্থ- এই মহাদেশ সপ্তসাগরা জগৎ সংসার ব্রহ্মা (সৃষ্টি কর্তা), ইন্দ্র (ভোগ কর্তা), সূর্য্যনারায়ণ (পালন কর্তা), রুদ্র (সংহার কর্তা) কতৃক পরিচালিত হয়। তুমি-আমি এই লোক সমূহে ক্ষণ ভঙ্গুর পদার্থ মাত্র। তাহলে কিসের জন্য তুমি দুখঃ শোকে জর্জরিত হয়ে থাকো!(10)


ত্বয়ি ময়ি চান্যত্রৈকোবিষ্ণুঃ ব্যর্থং কুপ্যসি ময্যসহিষ্ণুঃ।

সর্ব্বং পশ্য আত্মনাত্মানং সর্ব্বতোৎসৃজ ভেদজ্ঞানম্‌॥১১॥

অর্থ- তুমি আমি আর কেউ নই আমরা সেই এক সর্ব্বঘটে পরিব্যাপ্ত ব্যাপ্তময় বিষ্ণু এর জন্য ব্যর্থই আমার প্রতি অসিহষ্ণুতা বশত রাগ করে থাকো। চেয়ে দেখ চারিদিকে যা কিছু দেখতে পাচ্ছ সব তোমারই আত্মারই অংশ, আত্মার আত্মীয়। সুতারং যত্ন সহকারে মন থেকে এই ভেদজ্ঞান দূর করে দাও।(11)


বালস্তাবৎ ক্রীড়াসক্ত-স্তরুণস্তাবৎ তরুনীরক্তঃ।

বৃদ্ধস্তাবচ্চিন্তামগ্নঃ পরমে ব্রহ্মণি কোহপি ন লগ্নঃ॥১২॥

অর্থ- বালকেরা যেরকম খেলার প্রতি আসক্ত, তরুনরা যেরকম তরুনীদের প্রতি আসক্ত, বৃদ্ধেরা যে রকম বিষয় চিন্তার প্রতি আসক্ত থাকে, পরম ব্রহ্মেকে জানার জন্য সেই রকম আকুল করা আসক্তি দেখ কারো মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।(12)


অর্থমনর্থং ভাবয় নিত্যং নাস্তি ততঃ সুখলেশঃ সত্যং।

পুত্রাদপি ধনভাজাং ভীতিঃ সর্ব্বত্রৈষা কথিতা নীতিঃ॥১৩॥

অর্থ- অনর্থকারী অর্থ চিন্তায় সব সময়ে ডুবে আছো কিন্তু জেনে রাখো তাতে লেশ মাত্র সত্যিকারের সুখ নেই। হে ধনী, সংসারের লোকেরা এমনকী নিজের সন্তানরাও তোমাকে যে শ্রদ্ধা ভক্তি প্রদর্শন করে তা তোমার ধন প্রাপ্ত করার জন্য। সব সময় এমনি হয়ে থাকে নীতিকথাতে তাই বলা আছে।(13)


যাবদ্বিত্তোপার্জ্জনশক্তঃ তাবন্নিজপরিবারো রক্তঃ।

তদনু চ জরয়া জর্জ্জরদেহে বার্ত্তাং কোহপি ন পৃচ্ছতি গেহে॥১৪॥

অর্থ- যতদিন তুমি অর্থ উপার্জন করতে পারবে ততদিন তোমার পরিবারের সকলে তোমার খুব অনুরক্ত থাকবে। তুমি যা বলবে তাই হবে, তোমার কথায় সবাই ওঠা বসা করবে। তারপরে যখন সময়ের চক্রে জরা ব্যাধি ইত্যাদি এসে তোমার দেহে বাসা বাধবে, নড়বড়ে হয়ে তুমি বিছানায় শুয়ে থাকবে, তোমার বাড়িতেই তোমারই পরিবারের কেউ আর তোমার কথা জিজ্ঞেস করবে না, তোমার সাথে কথা বলবে না।(14)


কামং ক্রোধং লোভং মোহং ত্যক্ত্বাত্মানং পশ্যতি কোহহং।

আত্মজ্ঞানবিহিনা মূঢ়া স্তে পচ্যন্তে নরকে নিগূঢ়াঃ॥১৫॥

অর্থ- কাম, ক্রোধ, লোভ ও মোহ চেষ্টা করে পরিত্যাগ কর। নিজের আত্মাকে জানার চেষ্টা কর, তুমি কে? এই আত্মজ্ঞান না হলে তুমি মূর্খই রয়ে যাবে। এই জীবন-মৃত্যু নরকময় সংসারে জন্ম জন্মান্তর ধরে পঁচতে হবে।(15)


ষোড়শপজ্ঝটিকাভিরশেষঃ শিষ্যানাং কথিতোহভ্যুপদেশঃ।

যেষাং নৈব করোতি বিবেকং তেষাং কঃ কুরুতে মতিরেকং॥১৬॥

অর্থ- এই ষোলটি পদের দ্বারা শিষ্যদের সবাইকে আমি উপদেশ প্রদান করলাম। কিন্তু এতেও যার বিবেক জাগ্রত হয় না তার সেই এক পরব্রহ্মে মতি কিভাবে হবে?(16)

=========================

==+====+================