Monday, October 25, 2021

23>|| শিব কে?;--++ইষ্টের ধ‍্যান

 23>শিব কে?;--+ইষ্টের ধ‍্যান ||

==================

1>শিব কে?;--

প্রথমে জানবো শিব শব্দের অর্থ , শিব শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে  কল্যাণকারী  বা  মঙ্গল।  ভগবান শিবের পাঁচটি মুখ রয়েছে , এই পাঁচ মুখ দিয়ে তিনি জগতের মঙ্গল করে থাকেন , তাই তিনি কল্যাণকারী বা শিব নামে পরিচিত। 


 পাঁচ মুখ যথাক্রমে বামদেব , কালাগ্নি , দক্ষিনেশ্বর , ঈশান এবং কল্যাণ সুন্দরম্। আবার কোথাও একে ঈশান , তৎপুরুষ , অঘোর , বামদেব এবং সদ্যোজাত নামেও উল্লেখিত হয়েছে। শিবের দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে  চিত্তিশক্তি  যা সকল প্রকার বন্ধন থেকে মুক্ত। শিবের তৃতীয় অর্থ  সদাশিব। 


 ব্রহ্মের সাকার এবং সগুণ রুপকে বলা হয় সদাশিব । তিনি আনুমানিক সাত হাজার বছর পূর্বে অবতরিত হয়েছেন । পরব্রহ্মের নানা শক্তির নানা অভিব্যাক্তিকে বলা হয়েছে দেবতা কিন্তু শিব এইসব দেবতাদেরও দেবতা । তাই তার এক নাম  মহাদেব । যাকে পরব্রহ্ম বলা হয়েছে যিনি নিরাকার এবং নির্গুণ তিনিই ' শিব ' নামে বিখ্যাত । যা সৃষ্টির মূলতত্ত্ব তাই শিবতত্ত্ব । বিভিন্ন শাস্ত্রে একমাত্র শিবকেই ' ঈশ্বর ' রূপে মানা হয়েছে । ভগবান শিবই এই সম্পূর্ণ সৃষ্টির অনাদি দেব । যার মহিমা বেদ , পুরাণ , দর্শন , যোগ , তন্ত্র ইত্যাদি সাহিত্যে সর্বত্র বর্ণিত হয়েছে। 


 ভারতের জন মানস যতটুকু বৈষ্ণব ধর্মে প্রভাবিত তার থেকে অনেক বেশি প্রভাবিত শৈবধর্মে। ভগবান শিব যোগী , ভক্ত , তান্ত্রিক , বেদান্তি , কর্মকাণ্ডী , উপাসক এবং দার্শনিক সকলের কাছে পূজনীয়। তিনিই জ্ঞান , কর্ম এবং ভক্তির আদি দেবতা । তিনিই পরমপুরুষ পরমব্রহ্ম । শিব এবং শক্তি মিলেই ব্রহ্ম তাই শিবকে ' অর্দ্ধনারীশ্বর ' বলা হয় । 


 তার দক্ষিণ অঙ্গ শিব স্বরূপ এবং বাম অঙ্গ শক্তিরূপ । মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ পরমেশ্বর শিবের স্তুতি করেছেন । মহাভারতের অনুশাসন পর্বে ( 15/11 ) লিখিত হয়েছে --- শিবের সমান দেব নেই , শিবের সমান গতি নেই , শিবের সমান দাতা নেই , শিবের সমান বীর নেই। 

আসলে শিব কে ? শিবের পরিচয় কি ? এর যথার্থ বর্ণনার শেষ নেই , এর আদি অন্ত নেই। 

 

ওঁ নমঃ শিবায়।

           আদ্যনাথ রায় চোধুরী।

========================


2>ইষ্টের ধ‍্যান করার নিয়ম::--   

                       স্বামী বলভদ্রানন্দ।


গুরুদেবের দেওয়া মহামন্ত্র জপ করার সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ে ইষ্টমূর্তির ধ‍্যান করুন।আমাদের ধ‍্যান করার পদ্ধতি যেটা রামকৃষ্ণ রামকৃষ্ণ মিশনে শেখানো হয় সর্বত্রই---সেই পদ্ধতিতে।


*পদ্ধতিটি হচ্ছে "আপনি যেদিকে মুখ করে বসে আছেন, ভাববেন আপনার গুরু ও ইষ্ট সেই দিকেই চেয়ে আছেন।"*


পকেটে ঠাকুরের ছবি রাখেন তো? সেই ছবিটি যদি হৃদয়ে রাখেন তাহলে দেখা যাচ্ছে আপনি যেদিকে মুখ করে বসে আছেন আপনারা হৃদয়ে ইষ্টের ছবিটির মুখও একই দিকে।

*"ঠাকুর বলেছেন হৃদয় ডঙ্কমারা জায়গা।* অতত্রব হৃদয়েই ধ‍্যান করতে হবে।


ইষ্ঠের ছবি আমরা সামনাসামনিই দেখতে অভ‍্যস্থ।

*ইষ্টের মুখ ও সাধকের মুখ একই দিকে---এই পদ্ধতিতে যেহেতু দেখতে আমরা অভ‍্যস্থ নই সেহেতু প্রথম প্রথম অসুবিধা হবে।নিত‍্য অভ‍্যাসের ফলে এই পদ্ধতিটি আয়ত্ব করা সম্ভব।*


কথা হচ্ছে আমরা এভাবে ভাববো কেন?আপনি যদি চোখ বন্ধ করে এই পদ্ধতিতে ইষ্টকে হৃদয়ে দেখার চেষ্টা করেন, তাহলে আপনাকে automatically শরীরের বাইরে গিয়ে দেখতে হবে।


*এই বাইরে গিয়ে ইষ্টকে ধ‍্যানে হৃদয়ে দেখার চেষ্টাটিতে যদি আপনি নিত‍্য অভ‍্যাসের ফলে প্রতিষ্ঠিত হন,তাহলে আপনার ধীরে ধীরে শরীর্ত বোধটি কেটে যাবে*।


*প্রকৃত পক্ষে আমি যে ব্রহ্ম এটা বুঝতে হবে ,অনুভব করতে হবে। কাজেই শরীরের বাইরে এ বোধটাকে নিয়ে যেতেই হবে।*

               ( সংগ্রহ)

        আদ্যনাথ রায় চৌধুরী।

=======================




Monday, October 18, 2021

22>||★★ঐতিহাসিক নিলাম* -

  


22>||★★ঐতিহাসিক নিলাম* - 

       -( সংগ্রহ )

১৯৪৪ সালের ২৬ শে জানুয়ারী, 

রেঙ্গুনের মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং প্রাঙ্গনে নেতাজীর সম্মানে আয়োজিত হয়েছিল এক বিশেষ সভা বর্মায় এটি প্রথম জনসভা, গন্যমান্য ব্যক্তি থেকে সাধারণ মানুষের মিলনে সভা তখন জনসমুদ্র।  

নেতাজী নামের এমন জাদু !

সভার প্রথমে বর্মার অধিবাসীদের তরফ থেকে নেতাজীকে একটি মালা পরানো হয়। তারপর নেতাজী প্রায় দু ঘণ্টা বলে গেলেন  ..... ...কখন যে এতটা সময় কেটে গেছে কেউ টের পায়নি -- শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ।

এবার নেতাজী মালাখানি নিয়ে উদাত্ত কণ্ঠে বল্লেন -- এই মালাখানি সমস্ত বর্মাবাসী মানুষের শুভেচ্ছার প্রতীক। এই হিসাবে এটি অমূল্য। কালে এটি শুকিয়ে হয়ে যাবে মূল্যহীন। তাই এই মুহূর্তে এর যথার্থ মূল্যায়নের জন্যে আমি এটি নিলাম করতে চাই। যে অর্থ পাওয়া যাবে তা দিয়ে রেঙ্গুনে খোলা হবে আজাদ হিন্দ সংগ্রহশালা।

সর্বপ্রথম আকুল কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল এক শিখ যুবক, হরগোবিন্দ সিং -- 'নেতাজী, ঐ মালা আমি কিনতে চাই, এক লাখ ডলার মূল্য দেব'।

স্থানীয় বিখ্যাত ব্যবসায়ী ব্রিজলাল হরগোবিন্দকে পিছনে ফেলে বলেন -- 'আমি চাই ঐ মালা,দাম দু লাখ ডলার' আর একজন হেঁকে ওঠেন -- আড়াই লাখ। ব্রিজলাল গলা চড়ান -- তিন লাখ ডলার --- 'তিন লাখ দশ হাজার ..... ....... ।

মালার মূল্য ক্রমশই উর্ধমুখী, হরগোবিন্দ  নাছোড়বান্দা চিৎকার করেন -- চার লাখ।

সভার জনতা হরগোবিন্দকে সমর্থন করে। ... ব্রিজলাল এসেছেন ব্যবসায়ী ও অহংকারী মন নিয়ে, তিনি এটাকে পরাজয় মনে করে বলেন --'তবে পাঁচলাখ এক হাজার ....

হরগোবিন্দ বুঝলেন তাঁর আশা পূর্ণ হবার নয়, প্রায় সর্বস্ব পণ করেও পারলেন না ঐ পরম সম্পদের মালিক হতে ..... ।


নিলাম চলতে থাকে দুই ধনকুবেরের মধ্যে, শেষে দাম উঠলো সাত লক্ষ ডলার .... দিয়েছেন ব্রিজলাল ...

ব্রিজলাল এগিয়ে চলেছেন সম্পদটি নিতে, নেতাজী আসছেন সমর্পন করতে ... ঠিক সেই মুহূর্তে আর্তকন্ঠে চিৎকার করে উঠলেন হরগোবিন্দ ----- 'নে---তা---জী' ......

জনতা বললে - নেতাজীকে ডেকে কি হবে..? ক্ষমতা থাকে তো দাম বাড়াও ...

হরগোবিন্দ বল্লে - তোমার সঙ্গে আমার কথা নেই, যা বলার নেতাজীকে বলব ...

নেতাজী বললেন -- বলো, কি বলতে চাও।

হরগোবিন্দর চোখে তখন জল আর আগুন --- 'ভিক্ষা করার ভঙ্গীতে বললেন ---- ------  "নেতাজী, সিঙ্গাপুরে আমার ক'খানা বাড়ী আছে, গ্যারাজে আটখানা ট্রাক আছে, তিনচার লক্ষ ডলার আছে, আরও হয়ত কিছু আছে --জানি না সব যোগ করলে সাত লক্ষ ডলার ছাড়িয়ে যাবে কিনা !!! তবে এই নিলামে আমার শেষ ডাক -- যেখানে আমার যা কিছু আছে,শেষ কপর্দক পর্যন্ত -- সব আমি আজাদ হিন্দ ফান্ডে লিখে দিচ্ছি,--- বিনিময়ে ঐ মালাখানি আমার চাই ----

হরগোবিন্দর দুচোখে বর্ষার ধারা .... দেহ কাঁপছে ....

নেতাজীর চোখে আনন্দ ... মঞ্চ থেকে নেমে এলেন, বুকে জড়িয়ে ধরলেন হরগোবিন্দকে .... মালাখানি পরিয়ে দিতে গেলে হরগোবিন্দ বললেন ...... "আপনার গলার মালা কি আমি গলায় পরতে পারি নেতাজী .... আমার মাথায় রাখুন" !!!

ব্রিজলাল ছাড়তে চান না তার অধিকার ... তাকে নেতাজী শান্ত করেন ,বলেন --- বহ তো নঙ্গা ফকির বন চুকা,ওর সঙ্গে তোমার আর লড়াই চলে না ভাই,টাকা দিয়ে ভিখিরিকে ডিঙোনো যায় না"

এবার হরগোবিন্দ একটি আর্জি পেশ করল --নেতাজী, আর একটি ভিক্ষা।  'বলো হরগোবিন্দ', আশ্বাস দিলেন নেতাজী....

হরগোবিন্দ বললেন -- "এখন গাছতলা ছাড়া আমার তো আর দাঁড়াবার স্থান রইল না , দিনে দু মুঠো গমও তো চাই জীবন ধারনের জন্য, তাই আপনি আমাকে আশ্রয় দিন, আজাদ হিন্দ ফৌজে ভর্তি করে নিন দয়া করে"।

অভিভূত নেতাজী বুকে টেনে নিলেন এই  সর্বস্ব ত্যাগী যুবককে।।

--- --- এমন দৃশ্য, এমন ইতিহাস আর কেউ কি কোন ও দিন গড়তে পারবে ?

-------জয় হিন্দ----- 🇮🇳

==========================

Sunday, October 17, 2021

21>||★★ 'মা'এর কোনো জাত ধর্মে নেই, থাকে না।

 


★★21>মা'এর কোনো জাত ধর্মে নেই, থাকে না।

                   স্বামী বিবেকানন্দ।

১৮৯৮ সাল!!

চিকাগো থেকে ফেরার পর বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে। স্বামীজী বসে আছেন বেলুড় মঠের গঙ্গার তীরে। শীতের বিকালের শেষ রোদ গঙ্গার ঢেউয়ের বিভঙ্গে লুকোচুরি খেলছে তখন। 

স্বামীজীর পাশেই বসে আছেন, তাঁর বিদেশীনী শিষ্যা ভগিনী নিবেদিতা। 

নৈস্বর্গীক নিস্তব্ধতা ভেঙে, জলদগম্ভীর কন্ঠে স্বামীজী বলে উঠলেনঃ - 

নাঃ সিস্টার!! এই ভাবে বসে বসে সময় নষ্ট করা ঠিক হচ্ছেনা!!


সিস্টারঃ - বলুন স্বামীজী কি করতে হবে??

স্বামীজীঃ - সারা পৃথিবী কে আমি ভারতীয় দর্শন তো বোঝালাম। কিন্তু আমি নিজে কি আজও ভারত মা কে জানা চেনার চেষ্টা করেছি?? ভাবছি পায়ে হেঁটে আমি ভারত মা কে দর্শন করবো। তুমি কি পারবে আমার সঙ্গে যেতে??

সিস্টারঃ - এ তো আমার পরম সৌভাগ্য স্বামীজী!! এই দেশটাকে আমি আমার নিজের দেশ ভেবে সব ছেড়ে চলে এসেছি। এই দেশকে চেনা জানার সৌভাগ্য আমি অর্জন করতে চাই। যত কষ্টই হোক, আমি আপনার সঙ্গে যাব স্বামীজী!!

যেমন ভাবনা, তেমন কাজ!!

দক্ষিণের কন্যাকুমারী থেকে শুরু হলো পায়ে হেঁটে ভারত দর্শন। গন্তব্য উত্তরের কাশ্মীর উপত্যকা। 

টানা প্রায় ৬ মাস পথ চলে, অক্টোবরে স্বামীজী পৌঁছালেন কাশ্মীর। ক্লান্ত অবসন্ন শরীর তখন প্রায় চলছেনা, একটু বিশ্রাম চাইছে। উপত্যকার একটা ফাঁকা মাঠের পাশে একটা পাথরের খন্ডের উপর বসে ক্ষণিক বিশ্রাম নিচ্ছেন স্বামীজী। সামনের মাঠে খেলা করছে কয়েকটি স্থানীয় শিশু কিশোর। 

একটি বছর পাঁচেকের শিশুকন্যাও তাদের মধ্যে রয়েছে। ঐ কন্যাটির দিকে একদৃষ্টে দেখছেন স্বামীজী। 

কন্যাটির মা, তাঁর মেয়েকে ডেকে, একটি পাত্র করে কিছু খাবার দিয়ে গেলেন। মেয়েটিও খাবারটি সবে মুখে তুলতে যাবে!!এমন সময়ে, আরও দূর থেকে, আরও ছোট একটি ছেলে চিৎকার করে নিজেদের ভাষায় কিছু একটা বলতে বলতে মেয়েটির কাছে ছুটে এলো। মেয়েটি নিজের মুখের খাবারটা রেখে দিলো আবার পাত্রের মধ্যে। খাবার সমেত পাত্রটি এগিয়ে দিলো ঐ ছেলেটির দিকে। 

স্বামীজীও উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন!! চিৎকার করে বললেন - সিস্টার আমি পেয়ে গেছি!!

সিস্টারঃ - কি পেলেন স্বামীজী??

স্বামীজীঃ - মা দূর্গাকে পেয়ে গেছি!! ভারত মা কে খুঁজে পেয়েছি!!

স্বামীজীঃ - ঐ দ্যাখো সিস্টার!! যে মেয়েটা নিজের মুখের খাবার, হাসতে হাসতে ভাইয়ের মুখে তুলে দিতে পারে, যুগ যুগ ধরে সেই তো আমার মা দূর্গা!! সেই তো আমার ভারত মাতা!!

স্বামীজীঃ - সিস্টার!! তুমি পূজার উপকরণ সাজিয়ে ফেল। আগামীকাল দূর্গাপূজার অষ্টমীতে এই মেয়েটিকেই আমি ক্ষির ভবানী মন্দিরে, দূর্গার আসনে বসিয়ে কুমারীপূজা করবো। আমি যাচ্ছি মেয়েটির বাবার সঙ্গে কথা বলতে। 

হঠাৎ স্বামীজীর রাস্তা আটকে দাঁড়ালেন কিছু কুসংষ্কারাচ্ছন্ন কাশ্মীরী পন্ডিত!!

স্বামীজী!! আপনি দাঁড়ান!!

পন্ডিতরাঃ - স্বামীজী!! আপনি না জেনে বুঝেই ভুল করতে যাচ্ছেন!! ঐ মেয়েটিকে আপনি কখনোই দূর্গা রূপে পূজা করতে পারেন না!! ওর জন্ম মুসলমান ঘরে!! ওর বাবা একজন মুসলমান শীকারা চালক!! ও মুসলমানের মেয়ে!!

স্বামীজীর কান দুটো লাল হয়ে গেছে!!

চোয়ালটা শক্ত হয়ে উঠেছে!!

গম্ভীর গলায় স্বামীজী বললেনঃ -

আপনারা আপনাদের মা দূর্গাকে হিন্দু আর মুসলমানের পোষাক দিয়ে চেনেন!! 

আমি আমার মা দূর্গাকে অন্তরাত্মা দিয়ে চিনি!!

ঐ মেয়েটির শরীরে হিন্দুর পোষাক থাক বা মুসলমানের পোষাক, ওই আমার মা দূর্গা!!

আগামীকাল ওকেই আমি দূর্গার আসনে বসিয়ে পূজা করবো!!


পরেরদিন সকাল!!

দূর্গাপূজার অষ্টমী!!

ক্ষির ভবানী মন্দিরে ঘন্টা বাজছে, শাঁখ বাজছে!!

মুসলমানের মেয়ে, বসে আছে দূর্গা সেজে!!

পূজা করছেন, হিন্দুর সন্তান স্বামী বিবেকানন্দ!!

পূজার উপকরণ সাজিয়ে দিচ্ছেন, খ্রীষ্টান ঘরে জন্ম নেওয়া ভগিনী নিবেদিতা!!


এই হলো মহামানবের দূর্গা পূজা। এই হলো মানবিকতার দূর্গা পূজা।

মা আমাদের সবার। জাত ধর্মে নির্বিশেষে সবার। মা র কোনো জাত ধর্মে নেই, থাকে না।

      ( সংগ্রহ)

=======================

Tuesday, September 7, 2021

20>||পঞ্চমুখী হনুমানের রহস্য----

   20>||পঞ্চমুখী হনুমানের রহস্য----


রামভক্ত হনুমানের পাঁচটি মুখ। বিপদতারণ হনুমানের এই পঞ্চমুখের পিছনে আছে রামায়ণের কাহিনীর মধ্যে একটি আকর্ষনীয় কাহিনী যা জড়িয়ে আছে রাম-রাবণের যুদ্ধের সঙ্গে।


রামের বিরুদ্ধে জয়ী হতে রাবণ সাহায্য চান মহীরাবণ এবং অভিরাবণের। তাঁরা দুজনেই ছিলেন লঙ্কারাজ রাবণের ভাই, পাতালের শাসক। মহীরাবণ রূপ ধারণ করেন বিভীষণের, আসেন রাম-লক্ষ্মণের কাছে। দুজনকে অপহরণ করে নিয়ে যান পাতালে। 


রাম-রামানুজকে খুঁজতে হনুমান যান পাতালে। গিয়ে দেখেন দ্বারে প্রহরায় আছেন মকরধ্বজ। এই মকরধ্বজের জন্ম নিয়েও আছে আরো এক কাহিনী। রামায়ণ অনুযায়ী মকরধ্বজের জন্মের পিছনে হনুমানের অবদান আছে।


স্বর্ণলঙ্কায় অগ্নিকাণ্ডের পরে লেজের আগুন নেভাতে হনুমান লেজ চুবিয়েছিলেন সমুদ্রের জলে। তখন তাঁর এক ফোঁটা ঘাম থেকে মকরধ্বজের জন্ম। তাই‚ মকরধ্বজ হনুমানকে নিজের পিতা ভাবতেন।


পাতালের প্রবেশপথে মকরধ্বজকে দেখে হনুমান নিজের পরিচয় তাঁকে দেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে প্রণাম করে পথ ছেড়ে দেন মকরধ্বজ।


হনুমান পাতালে প্রবেশ করে দেখেন মহীরাবণ এবং অভিরাবণকে বিনাশ করতে হলে পাঁচটি দীপ নেভাতে হবে। তাদের মুখ আবার পাঁচদিকে। তাই‚ হনুমান পাঁচটি মুখ ধারণ করলেন।


একটি মুখ হল বরাহ-মুখের মতো, সেই মুখটি থাকল উত্তরদিকে। নরসিংহের মতো দেখতে মুখ থাকল দক্ষিণ দিকে। গরুড়রূপী মুখ থাকল পশ্চিমে। হয়গ্রীবা মুখ হল আকাশমুখী। আর‚ হনুমানের নিজস্ব মুখ থাকল পূর্বমুখী হয়ে।


এই পঞ্চমুখ নিয়ে পাতালে প্রবেশ করে হনুমান পাঁচদিকে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিলেন পাঁচটি দীপ। তারপর বিনাশ হল মহীরাবণের। উদ্ধার পেলেন রাম-লক্ষ্মণ। রামচন্দ্রের নির্দেশে পাতালের শাসক হলেন মকরধ্বজ। তাঁকে দায়িত্ব অর্পণ করলেন হনুমান।


এইভাবে‚ রামচন্দ্রের সেবায় পঞ্চমুখের অধিকারী হন ভক্ত হনুমান।


 পবনপুত্র হনুমান কি জয়।

            জয় হনুমান 

                  ( সংগ্রহ)

Friday, August 6, 2021

19>ত্যাগ-তিতিক্ষা= নচিকেতার গল্প কথা)

  19>||ত্যাগ-তিতিক্ষা= নচিকেতার গল্প কথা)


অনেক দিন আগের কথা। সেকালে বাজশ্রবা নামে এক মুনি ছিলেন। 

মুনি ছিলেন পরম ধাৰ্মিক 

এবং যাগযজ্ঞপরায়ণ। 

তার এক ছিলো পুত্র —নাম নচিকেতা।

বাজশ্রবা মুনিএকদিন এক যজ্ঞ করলেন, 

সেই যজ্ঞে আমন্ত্রিত ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের গোদান করলেন, উপহার-উপঢৌকনে ভরিয়ে দিলেন দরিদ্র ব্রাহ্মণদের। ছোট্ট ছেলে নচিকেতা, দূরে দাঁড়িয়ে দেখলেন বাবা যে গোরুগুলো দান করলেন, সেগুলো মৃতবৎসা। সেগুলি কখনই

 দুধ দেবে না। আর উপহার সামগ্রীর বেশির ভাগ টাই অকাজের। বাবার এহেন ভ্রষ্টাচারে, লজ্জিত নচিকেতা বাবাকে  জিজ্ঞেসা করলেন “বাবা, তোমার এমন লোক-ঠকানো অকিঞ্চিৎকর দানের অর্থ”? ছোট মুখে বড় কথা, বাজশ্রবা চিৎকার করে বললেন ‘এবার তোমাকেও আমি যমের দক্ষিণ দুয়ারে পাঠাব’। সেটাই হবে আমার মহত্তম দান। মুখ থেকে কথা খসামাত্রই যমদূতেরা হাজির, তারা নচিকেতাকে জোড়করে  টেনে নিয়ে গেল যমরাজের দরবারে। 


এদিকে যমরাজ বিশেষ কাজে যম লোকের বাইরে। যমরাজ তিনদিন  বাদে ফিরে  ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর নচিকেতাকে এমন ভাবে দেখে তাকে নিয়ে আসার হেতু জানতে চাইলেন এবং মুগ্ধ হলেন ওইটুকু ছেলের ত্যাগ-তিতিক্ষায়। 

ফুটফুটে নচিকেতাকে কোলে বসিয়ে যমরাজ ভূরিভোজনের ব্যবস্থা করলেন,এবং নচিকেতাকে  তিনটি বর প্রদান করলেন। 

প্রথম বরে নচিকেতা তাঁর বাবার বুদ্ধি বিভ্রমের প্রতিকার চাইলেন। যমরাজ বললেন তথাস্তু। দ্বিতীয় বরে, যজ্ঞে মোক্ষলাভের গোপন বীজমন্ত্র শিখতে চাইলেন নচিকেতা। সেটিও মঞ্জুর হল। যমরাজ আরও বললেন, তিনবার এই যজ্ঞ সমাপনে নচিকেতাকে আর জন্ম মৃত্যুর পাকেচক্রে আবর্তিত হতে হবে না। পরম ব্রহ্মের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে নচিকেতার। আর যজ্ঞটিও পরিচিত হবে ‘নচিকেতা যজ্ঞ’ নামে। 

এবার তৃতীয় বরের পালা। নচিকেতা যমরাজের কাছে জানতে চাইলেন মৃত্যুর পর কী পরিণতি হয় মানুষের? গূঢ়, গোপনীয় তথ্য। যমরাজ বললেন, যে প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবতারাও জানেন না, হে নচিকেতা তুমি তার নাগাল পাবে কীভাবে? নাছোড় নচিকেতা। মরণের পরের সংবাদ তাঁর চাইই চাই। ভুলিয়ে-ভালিয়ে যমরাজ বিশাল রাজ্য, পরমাসুন্দরী অপ্সরা, বিপুল বৈভব, ক্ষমতা আর ঐশ্বর্যের লোভ দেখালেন। খেয়ে পরে সুখে শান্তিতে দিনগুজরানের প্রতিশ্রুতি দিলেন। নচিকেতা বললেন, সুখ শান্তি কতদিনের? যে মুহূর্তে আপনি ডাকবেন, পরনের সুতোটিও ছেড়ে আপনার শরণাগত হতে হবে। তাহলে বিত্ত-বৈভব-ইন্দ্রিয়সুখ তো ক্ষণিকের মায়া, মরীচিকা। অবশেষে যমরাজ বাধ্য হয়ে বললেন 

পথ দুটো: একটা ভোগের, 

               দ্বিতীয়টা ত্যাগের। 

প্রথম পথের শেষে স্বাগতম জানাবে মৃত্যু। 

দ্বিতীয়টি আত্মজ্ঞানের, 

উত্তরণ-উন্মোচন-আত্মোপলব্ধির, অমরত্বের। 

নচিকেতা দ্বিতীয় পথটিকেই বাছলেন। 

তখন যমরাজ তাঁকে রথের উপমা টেনে শরীর-মন-বুদ্ধি-অনুভূতি-জীবাত্মার স্বরূপ

বর্ননা করে বললেন--

“আত্মানং রথিনং বিদ্ধি শরীরংরথমেব তু।

/বুদ্ধিংতু সারথিং বিদ্ধি মনঃপ্রগ্রহমেব চ।।

/ ইন্দ্রিয়াণি হয়ানহুর্বিষয়াংস্তেষু গোচরান।

/আত্মেন্দ্রিয়মনোযুক্তং ভোক্তেত্যাহর্মনীষিণঃ” 

(কঠোপনিষদ ১।৩। ৩-৪)। 


অর্থাৎ আত্মা রথী, শরীর নামক রথে আরূঢ় তিনি। রথের সারথি বুদ্ধি। মন হল লাগাম। আর ঘোড়া পঞ্চেন্দ্রিয়। মন, বুদ্ধি স্থির থাকলে শরীর রথ নিবাত-নিষ্কম্প। সাফল্য করায়ত্ত। কিন্তু মন-বুদ্ধি-হৃদয় বিপথগামী হলেই শরীর নামক রথও বিগড়বে। রথে জোতা অশ্বের বিশৃঙ্খল আচরণে প্রাণসংশয়ের সম্ভাবনা বাড়ে সারথি বা রথীর! রথী জীবাত্মা, সারথি পরমাত্মা। ঘোড়ারা ক্ষ্যাপামি করলে, সারথির পক্ষে রথের ভারসাম্য বজায় রেখে সঠিকপথে রথের পরিচালন অসম্ভব হয়ে পড়ে। শরীর রথের অন্দরে, হৃদয়ে সমাসীন জীবাত্মা, মন-বুদ্ধি তাকে পথ দেখিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষে পরমাত্মার সঙ্গে মিলিয়ে দেবে। 

হৃদয়-মন-বুদ্ধির সামান্য বেচালে শরীর-রথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়। জন্ম-মৃত্যুর পঙ্কিল ঘূর্ণিপাকে কলুর বদলের মত নিশিদিন ঘুরপাক খেতে থাকে নশ্বর মনুষ্যজীবন। শোক-তাপ-জরা থেকে মেলে না মুক্তি। 


ষড়রিপু বা ইন্দ্রিয়কে চালনা করে মন, ইন্দ্রিয়ের থেকে বড় তাই মন, মনের থেকে বুদ্ধি। হৃদয়ের অন্তঃস্থলে আসীন আত্মা—‘পুরুষ’, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলে তবেই তার সঙ্গে মিলন হবে ‘প্রকৃতি’র। সেই ব্রাহ্মমুহূর্তে অপার্থিব আলোর ঝলকানিতে সৃজিত হবেন পরমাত্মা, পরমব্রহ্ম। 


ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব বলছেন, ডাব নরম শাঁস আর জলে ভর্তি, জড় আর চেতন মিলেমিশে ঢ্যাবঢ্যাবে। ঝুনো নারকেল পরিপুষ্ট, পরিণত, খটখটে। খোসা থেকে সহজেই আলাদা করা যায়। মনকে শক্ত হাতে লাগাম পরাতে পারলেই জাগতিক কামনা বাসনা থেকে মুক্ত হয়ে, ঝুনো নারকেল, ব্রক্ষ্মের স্বরূপে উপনীত হওয়া সম্ভব। 


ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব  দিনের মধ্যে ৩৬ বার সমাধিস্থ হতেন, ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার তাঁর নাড়ির হদিশ পেতেন না। আশ্চর্য হয়ে তিনি স্বগতোক্তি করেছিলেন পরমহংস ৩৬ বার মরছে আবার বেঁচেও উঠছে, কোন জাদুবলে? সমাধিকালে আত্মাকে নারকোলের মত শরীর নামক খোসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়েই নাড়ির স্পন্দন বিরহিত হতেন রামকৃষ্ণদেব।

  ‘জীবনমুক্তিঃ সুখমপ্রাপ্তিঃ’। 


চিকিৎসাশাস্ত্রে যার ব্যাখ্যা ডাঃ সরকার খুঁজে পাননি। সাধনমার্গের সাধকদের পক্ষেই এ মায়ার খেলা সম্ভব। 


রথযাত্রা আসলে সফর/পথচলা। 

ব্রক্ষ্মের সঙ্গে মিলনের বাহন রথ। 


দক্ষিণ ভারতের রথোৎসবে তাই সাড়ম্বরে পালিত হয় ‘ব্রহ্মোৎসব’। 

কিন্তু পুরীর রথে ব্রহ্মোৎসব অনুপস্থিত। মানুষের শরীর-রূপী রথে মোক্ষলাভের সমস্ত উপকরণই মজুত। 



রথে আসীন শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব মানুষের মধ্যে নেমে এসে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন কীভাবে যাত্রার শেষে অভীষ্ট মোক্ষের পথে পৌঁছতে হবে! 

তাই পুরীর রথযাত্রায় নেই কোনও ভেদাভেদ। নেই উচ্চ-নীচ, ধনী-নির্ধনের বিচার। মোক্ষের পথ, ধর্মাধর্ম ভেদে আলাদা হতে পারে না। 

গজপতি রাজাকেও, আত্মসম্মার্জনার পথে, পুরীর রথে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে হয়। 

ভিন্নধর্মী আলেকজান্ডার ক্যানিংহ্যাম বা শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর শ্রীমন্দিরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, পুরীর রথে স্বাগতম সকলেই। 

সতেরশো শতাব্দীর ঘটনা। জাহাঙ্গিরের সুবেদার, ভক্ত কবি  ‘সালাবেগ’ রথ-দর্শনে পরিত্রাহি ছোটার সময় পড়ে গিয়ে জখম হলেন। প্রভুর কাছে করুণ মিনতিতে বললেন দয়াপরবশ হয়ে প্রভু একটু যদি ‘সালাবেগের’ জন্য অপেক্ষা করেন। কী স্পর্ধিত আবদার! বড়া ডান্ডা অর্থাৎ মন্দিরের সামনের গ্র্যান্ড রোডে জগন্নাথদেবের ১৬ চাকার রথ ‘নন্দিঘোষ’ গেল আটকে, সারথির প্রাণপণ চেষ্টাতেও নড়ল না স্থাণুবৎ রথ। 

আজও ‘বড়া ডান্ডায়’ রথের দিন সাময়িক আটকে থাকে রথ। ভিন্ন ধর্মের মানুষদের দর্শনাকাঙ্ক্ষা পূরণে সিংহদ্বারে জগৎপিতা সব ধর্মের মানুষকে পতিতপাবন-রূপে দিবারাত্র দর্শন দেন। ‘ব্রহ্মোৎসব’ পুরীর রথ লোকাচারে বেমানান, তাই বাতিল।  

মানবশরীর যেমন পঞ্চভূতে গড়া, তার সমাপ্তিও তেমন পঞ্চভূতে বিলীন। শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীজগন্নাথদেবের রথও তেমন পঞ্চ উপাদানে তৈরি, কাঠ-ধাতু-রঙ-কাপড়-জরি। 

মন ও বুদ্ধি বা চেতনার যথোপযুক্ত প্রদর্শনে পুরীর রথে সারথি অর্জুন, 

আর মহাভারতের যুদ্ধে রথের রশি শ্রীকৃষ্ণের হাতে, রথী অর্জুন। 

মন, সাধারণ মানুষের বুদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে, বুদ্ধি মনকে নিয়ন্ত্রণ করলেই সাধনমার্গের দরজা খুলে যায়। 


মানসিক চাপ হৃদপিণ্ডের ক্ষতি করে, ধমনীতে চর্বি জমে, রক্তপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে হার্ট অ্যাটাকের সূচনা হয়। ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধলে, মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাঁধা পায় ফলে অবশ্যম্ভাবী হয় ব্রেন স্ট্রোক। 

মন-হৃদয়-মস্তিষ্ক একতারে বাঁধা। রথের রশি-অশ্ব-সারথির সন্ময় যুগলবন্দিতে সামান্য তাল কাটলে রথও যেমন বেসামাল, মানবশরীরও তাই।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

====================



Tuesday, August 3, 2021

18>||এক নারী চরিত্র গহরবানু, ||

 18>||এক নারী চরিত্র গহরবানু, ||


চম্বলের পুতলীবাঈ, যে নর্তকী হাতে নিয়েছিল বদলার রাইফে

মধ্যপ্রদেশের মোরেনা, ভিন্দ, শেহপুর ও গোয়ালিয়র, উত্তর প্রদেশের জালাউন, এটাওয়া, রাজস্থানের ঢোলপুর জেলাগুলি নিয়ে প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে আছে চম্বল উপত্যকা।
যার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ইতিহাসের চমনবতী নদী।
আজ যার নাম চম্বল।
ভারতের একমাত্র নদী যা দক্ষিণ দিকে না এসে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ঘুরে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের কাছে যমুনায় মিশেছে এই চম্বল নদী।

চম্বল নদীর জলধারা হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন স্রোতে বিভিন্ন দিকে বয়ে, এলোমেলো ভাবে ভূমিক্ষয় ঘটিয়েছে। প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি করেছে করে ১০ থেকে ৩০ ফুট উঁচু হাজার হাজার মাটির পাহাড়। পাহাড়গুলির গা বেয়ে নেমে এসেছে  সংকীর্ণ গিরিখাত।

প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালে তৈরি হয়েছে মাটির গুহা, ফাটল, সুড়ঙ্গ।
লোকচক্ষু এড়িয়ে কোনও ফাটলের মধ্যে দিয়ে মাইলের পর মাইল চলে যাওয়া যায়।
 শক্ত কাদামাটি দিয়ে তৈরি ছাদবিহীন গুহার মতো ঘেরা জায়গাগুলিকে বলে বেহড়।

এর থেকে পুরো মালভূমি এলাকাটির নামই হয়ে গেছে বেহড়।



চম্বলের বেহড়

অভিশপ্ত নদী চম্বল

লোকগাথা থেকে জানা যায় আর্যরাজ রন্তিদেব একবার অসীম ক্ষমতার লোভে গোমেধ যজ্ঞ করেন। যজ্ঞের সময় কয়েক সহস্র গাভির বলিদানে চম্বল নদীর জল হয়ে উঠেছিল রক্তবর্ণ। রাজা ও চম্বল নদীকে অভিশাপ দিয়েছিলেন ব্রাহ্মণরা। অন্য আরেকটি লোকগাথা বলছে, দ্রৌপদীকে শকুনি অপমান করার সময় চম্বল নদী নিশ্চুপ থাকায় দ্রৌপদী অভিশাপ দেন চম্বল নদীকে।

দ্রৌপদী ও ব্রাহ্মণদের শাপে চম্বল নদী হয়ে ওঠে অশুভ এবং অভিশপ্ত।
তাই আজও চম্বল নদীর তীরে গড়ে ওঠেনি কোনও জনবসতি ও ধর্মস্থান।
চম্বল ভারতের একমাত্র নদী, যে পূজা পায়না। যার জল দিয়ে কোনও পবিত্র কাজ হয়না। প্রবাদে বলে, “চম্বল নদীর জল যে পান করে সে বাগী হয়ে যায়।”

চম্বলের বেহড় বলে ‘খুন কা বদলা খুন’

বিশ্বের কাছে চম্বলের পরিচিতি তার রুক্ষ সৌন্দর্যের জন্য নয়। কুখ্যাত বাগী বা দস্যুদের মুক্তাঞ্চল হিসেবে। তবে চম্বলের দস্যুদের সঙ্গে ভারতের অনান্য ডাকাতদের মিল পাওয়া যাবে না। চম্বলের দস্যুরা কখনও ব্যাঙ্ক, পেট্রোল পাম্প বা সরকারি খাজানা লুঠ করে না। এখানকার দস্যুরা নিজেদের দস্যু বলেনা, বলে বাগী, যার অর্থ বিদ্রোহী।

এরা বাগী হয় বদলা নেওয়ার জন্য।
রুক্ষ এলাকাটিতে আবহমান কাল ধরে লেগে থাকে জাতপাতের বিদ্বেষ, পরিবার-পরিবারে জমিজমা ও সম্পত্তি নিয়ে লড়াই। বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে রেষারেষি, অসহায় ও গরীবদের ওপর ধনীদের অত্যচার। এই সেই চম্বল যেখানে হানাহানি চলে বংশ পরম্পরায়। যেখানে পুর্বপুরুষের অসম্মান বা হত্যার বদলা নেওয়া হয় কয়েক পুরুষ  ।

এলাকাটিতে বন্দুক সিগারেটের মতোই সহজলভ্য হওয়ায়, একদিন হয়তো অত্যচারীকে খুন করে বসে গ্রামের সবচেয়ে শান্ত ছেলেটি কিংবা দিনের পর দিন ধর্ষিতা হতে থাকা মহিলাটি।
খুনের পর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তারা পালায় বেহড়ে। তাদের আশ্রয় দেয় চম্বলের বেহড়ে লুকিয়ে থাকা দস্যুদল। কমপক্ষে একটা খুন করলে তবেই জায়গা মেলে দলে। কারণ যে খুন করেছে সে পুলিশ ও বদলার ভয়ে দল ছেড়ে যাবে না। এভাবেই বাড়তে থাকে বাগীদের সংখ্যা।

এভাবেই চম্বল নদী খুব কাছ থেকে দেখেছে মান সিং, লাখন সিং, সুলতান সিং, মালখান সিং, মোহর সিং,সুলতানা গুর্জর ,বাবু গুর্জর, বাবা মুস্তাকিন, পান সিং তোমর, ফুলন দেবী, সীমা পরিহার, নির্ভয় সিং গুর্জর ইত্যাদি নামকরা বাগীদের। আর দেখেছিল দস্যুরাণী পুতলীবাঈকে। ভারতের প্রথম নারী দস্যু। চম্বলের রুক্ষ মাটিকে যে নারী রক্তে রাঙিয়ে দিয়েছিল অপরিসীম আক্রোশে। যাকে ধরতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে গিয়েছিল তিন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী।


বেহড়ের সমতল এলাকায় লুকিয়ে আছে বিভিন্ন গ্রাম।
গম, জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা ও  ধানক্ষেত দিয়ে ঘেরা থাকে চম্বলের গ্রামগুলি।

মধ্যপ্রদেশের অম্বা তহশিলের বারাবাই গিরিখাতে সেরকমই একটি গ্রামে ছিল গহরবানুর বাড়ি।
এক হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছিল গহরবানু।

মা আসগরিবাঈ ছিলেন অসামান্য রূপসী। নাচ ও গান জানতেন। মায়ের রূপ আর গুণ পেয়েছিল গহরবানু। সে ও তার বোন ‘তারা‘ পেটের তাগিদে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিয়ে বাড়িতে নাচ গান করত। পুতুলের মত ছোট্টখাট্টো ও মিষ্টি হওয়ার জন্য রসিকরা গহরবানুর নাম দিয়েছিল পুতলীবাঈ।

আসগরিবাঈ বুঝেছিলেন পুতলীবাঈয়ের নাচ ও গানের প্রতিভাকে ছোট এলাকার মধ্যে বেঁধে রাখা উচিত হবে না। মেয়েকে নিয়ে তিনি চলে গিয়েছিলেন আগ্রা। পুতলীবাঈয়ের নাচে আর গানে মোহিত হয়ে গিয়েছিল আগ্রা শহর। পুতলীবাঈয়ের প্রতিভার কথা ছড়িয়ে পড়েছিল লখনৌ এবং কানপুরেও।

পুলিশের কানে গিয়েছিল কিশোরী পুতলীবাঈয়ের নাম। রসিক পুলিশের দল পুতলীবাঈয়ের অনুষ্ঠান দেখতে আসতে শুরু করেছিল। ফলে সাধারণ মানুষের ভিড় কমতে শুরু করেছিল। আসগরিবাঈ পুতলীবাঈকে নিয়ে ফিরে এসেছিলেন নিজের গ্রামে।

  অপহৃত হয়েছিল পুতলীবাঈ্

ঢোলপুরের জমিদারের ছেলের বিয়েতে  পুতলীবাঈকে গান গাওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের আশায় গিয়েছিল পুতলীবাঈ। নাচ গান আর সুরার নেশায় সবাই যখন বুঁদ, বিয়েবাড়িতে হানা দিয়েছিল চম্বলের ত্রাস সুলতান সিং গুর্জর। টাকাপয়সা, সোনাদানা লুঠ করার সঙ্গে সঙ্গে অপহরণ করেছিল পুতলীবাঈকেও।

পুতলীবাঈকে সুলতান সিং নিয়ে গিয়েছিল বেহড়ের গোপন ডেরায়। কয়েকদিন পরে এক দুর্গামন্দিরে বিয়ে করেছিল পুতলীবাঈকে। দাবানলের মতো খবরটি ছড়িয়ে পড়েছিল চম্বলে। তখনও সুলতানার পরিচয় জানত না সদ্য যুবতী পুতলীবাঈ। কিন্তু সুলতান সিংয়ের মাথার ওপর ৮৪ টি নরহত্যার শমন রয়েছে জেনে এক রাতে ডেরা ছেড়ে পালিয়েছিল  পুতলীবাঈ।

অনেক কষ্টে ও কাঠখড় পুড়িয়ে ফিরে এসেছিল নিজের গ্রামে। প্রবল ঘৃণায় গ্রামবাসী একঘরে করে দিয়েছিল পুতলীকে। কিন্তু তার অপরাধ কী সেটা পুতলী বুঝতে পারেনি। সবাই মুখ ফেরালেও  মা আসগরীবাঈ তাঁর গহরকে ফিরিয়ে দেননি।

পুলিশের অত্যাচারে বেহড়ে ফিরেছিল পুতলীবাঈ

গ্রামে ফেরার পর পুতলীবাঈকে থানায় তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সুলতান সিংয়ের সন্ধান জানতে ঘন্টার পর ঘন্টা অত্যাচার চালিয়েছিল নিরীহ পুতলীর ওপর।
সুলতান সিংয়ের বদলার ভয়ে মুখ খোলেনি পুতলী। দিনে রাতে পুতলীকে ডেকে পাঠানো হত থানায়। কখনও কখনও অফিসারেরা নিজেদের বাড়িতে ডেকে পাঠাতেন।
পাশবিক অত্যাচার চলত পুতলীর ওপর।
একসময় এটাই রুটিন হয়ে গিয়েছিল বিধ্বস্ত পুতলীর।

পুলিশ ও গ্রামবাসীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে,  একদিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল পুতলী। ফিরে গিয়েছিল সুলতান সিংয়ের কাছে। খোলা আকাশের নীচে, চম্বলের বেহড়ের রুক্ষ নিরাপত্তায় শুরু করেছিল সংসার। আজ এখানে তো কাল কুড়ি কিলোমিটার দূরে কোনও নিরাপদ ডেরায় কাটত পুতলীর রাত।


এভাবেই একদিন বেহড়ে পালিয়ে গিয়েছিল পুতলী

 বাগী জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল পুতলী

বেহড়ের মধ্যেই জন্ম নিয়েছিল সুলতান সিং ও পুতলীর মেয়ে ‘তান্নো’। তান্নোকে পুতলী  রেখে এসেছিল তার মায়ের কাছে। বন্দুক আর রক্ত থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল মেয়েকে। কারণ বেহড়ের জীবন নির্ভর করে একটি মাত্র গুলির ওপরে।
কে কতক্ষণ গুলিটিকে দূরে রাখতে পারে তারই লড়াই চলে প্রতিনিয়ত।

পুতলীবাঈকে বন্দুক চালানো শিখিয়েছিল সুলতান সিং। পুলিশের সঙ্গে একটি এনকাউন্টারে পুতলীর নিখুঁত নিশানায় উড়ে গিয়েছিল পুলিশের চরের মাথার খুলি। সেদিন পুতলীবাঈ উপহার পেয়েছিল একটি রাইফেল। কিন্তু পুতলীবাঈ সেদিন নামিয়ে রেখেছিল রাইফেল, বেহড়ের জীবন ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল।

হত্যার কলঙ্ক মাথায় নিয়ে ফিরতে চেয়েছিল মেয়ের কাছে। মেয়েকে একটিবার চোখে দেখার জন্য। কারণ পুতলী জানত সেদিন থেকে পুলিশের রাইফেলের নল ঘুরে গিয়েছিল তারও দিকে। কিন্তু সেদিন পুতলীকে  বেহড় ছাড়তে দেয়নি সুলতান সিং। কারণ দলে সুলতান ক্রমশ একা হয়ে পড়ছিল। পুতলী ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিল না সুলতান।

বেহড়ের নির্মমতায় একা হয়ে গিয়েছিল পুতলী

একদিন রাতে গোপন ডেরায় শুয়েছিল সুলতান আর পুতলী। কয়েকজন পাহারা দিচ্ছিল। দলের বাকি সদস্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল আশেপাশে। অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। শুরু হয় ‘মুঠভেড়’। সেই রাতের এনকাউন্টারে মারা যায় সুলতান সিং। পুতলীর চোখের জলে ভিজেছিল বেহড়ের মাটি।

এরপর প্রতিরাতে দলের নতুন ‘সরগনা’ দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিল পুতলী। বুঝতে পেরেছিল তার স্বামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। গোপন ডেরার খবর পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। দলের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে বলি হয়েছে সুলতান সিং।

কিন্তু এ পুতলীবাঈ সে পুতলীবাঈ নয়, বেহড়ের পুতলীবাঈয়ের পায়ে ঘুঙুর ছিল না। চম্বল নদীর জল পুতলীবাঈকে তার নিজের অজান্তেই করে তুলেছিল হায়নার মতোই হিংস্র। স্বামীর মৃত্যু ও পুলিশের অত্যাচারের বদলা নিতে পুতলীবাঈ তুলে নিয়েছিল নামিয়ে রাখা রাইফেল।

সবার আগে খুন করেছিল দলের নতুন নেতাকে। তারপর  সুলতান সিংয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা সদস্যদের ঠান্ডা মাথায় একে একে খুন করেছিল পুতলী। পোড় খাওয়া বাগীরা চমকে উঠেছিল পুতলীবাঈয়ের নৃশংসতায়।

 পুতলীবাঈ থেকে দস্যুরাণী পুতলী

সুলতান সিংয়ের দলের কর্তৃত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল পুতলী। তারপর পুলিশদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পুষে রাখা ক্ষোভ নিয়ে। এক রাতে দাতিয়া গ্রামের ১১ গ্রামবাসীকে পুতলীবাঈ গুলি করে হত্যা করেছিল। তার সন্দেহ হয়েছিল সেই গ্রামের বাসিন্দারা পুলিশের চর। কারণ পুতলীর ‘মুখবীর’ (দস্যুদের চর) সেরকমই তথ্য দিয়েছিল।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৮, চম্বলে নিরবিচ্ছিন্ন সন্ত্রাস চালিয়েছিল পুতলীবাঈ। খুন, অপহরণ, তোলা আদায় কিছুই বাদ দেয়নি পুতলী। বার বার পুতলীকে এনকাউন্টারে মারতে চেষ্টা করেছে পুলিশ। কিন্তু বেহড়ের ভেতরে থাকা পুতলীবাঈ চম্বল নদীর জলে থাকা কুমীরের চেয়েও চালাক ও ভয়ঙ্কর। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই সে বেহড়কে চিনে নিয়েছে নিজের হাতের তালুর মতো। পালটা আক্রমণে দিশেহারা করে দিত পুলিশবাহিনীকে। কখনও খালি হাতে, কখনও সঙ্গী পুলিশদের মৃতদেহ নিয়ে ফিরতে হত পুলিশবাহিনীকে।

পুলিসের সঙ্গে একটি এনকাউন্টারে হাতে গুলি লেগেছিল পুতলীবাঈয়ের। পচন ধরা হাতটি কনুই থেকে কেটে ফেলতে হয়েছিল। গোয়ালিয়রের  ডাক্তারকে সেই সময়ে ২০০০০ টাকা দিয়েছিল পুতলী। হাত হারানোর পর পুতলীর নৃশংসতা আরও বেড়ে গিয়েছিল। ছিপছিপে ছোটখাটো চেহারার পুতলীবাঈ এক হাতে ভারী রাইফেল তুলে নিখুঁতভাবে গুলিবর্ষণ করে একইভাবে তার সন্ত্রাসের রাজত্ব ধরে রেখেছিল।

 চম্বলের জলে বয় বিশ্বাসঘাতকতার স্রোত

সুলতান সিংয়ের মৃত্যু ও দলের বিশ্বাসঘাতকদের হত্যার পর একাধিক সদস্য পুতলীকে বিয়ে করতে চায়। সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছিল পুতলীবাঈ। কিন্তু ফেরাতে পারেনি কল্লা গুর্জর নামে এক সুঠাম চেহারার যুবককে। বেহড়ের নিভৃতে শুরু হয়েছিল পুতলী ও কল্লার প্রেম।

প্রেমে মশগুল পুতলী বুঝতে পারেনি, চম্বল নদীর জলে, বেহড়ের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে বিশ্বাসঘাতকতার বীজ। ধীরে ধীরে নিজেকে অসুরক্ষিত করে ফেলেছিল পুতলী। পুতলী ও কল্লার প্রেম মেনে নিতে পারেনি দলের অনেক সদস্য।

২৩ জানুয়ারি, ১৯৫৮। ছাতি গ্রামের অদূরে ছিল পুতলীর গ্যাং ( মতান্তরে শিবপুরীর জঙ্গল)। কেউ বলে লাখন সিংয়ের গ্যাংকে এনকাউন্টার করতে গিয়ে পুতলীর গ্যাংয়ের সামনে গিয়ে পড়ে পুলিশ। কেউ বলে পুতলীর গ্যাংয়ের কেউ জানিয়ে দিয়েছিল পুতলীর ডেরা। সেদিন চম্বলের বেহড় দেখেছিল এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই।

চম্বল নদী আশ্রয় দিয়েছিল পুতলীকে

মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজে কাঁপছিল চম্বলের বেহড়। রাতভোর চলেছিল গুলির লড়াই। পুতলী বুঝতে পেরেছিল তার দলের বন্দুকগুলি ক্রমশ শান্ত হয়ে যাচ্ছে। সেদিন নিদারুণভাবে প্রতারিত হয়েছিল পুতলী। চম্বলের বেহড় এক নারীর দখলে থাকবে, হয়তো মেনে নিতে পারেনি বেহড়ের পৌরুষ।

ছাতি গ্রামের কিছু দূর দিয়ে বয়ে চলেছিল চম্বল নদী। কুমীর ভর্তি নদী একহাতে সাঁতরে পার হতে চেয়েছিল পুতলীবাঈ। সঙ্গে ছিল প্রেমিক কল্লা। আর মাত্র কয়েক ফুট, তারপরে পুতলী চলে যেত পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু বাতাসে শীষ কাটতে কাটতে উড়ে এসেছিল বুলেট। একটার পর একটা। পুলিশের নাকি নিজের দলের বিশ্বাসঘাতকদের বুলেট, তা বুঝতে পারেনি পুতলী।


ডাঙায় আর উঠতে পারেনি। চম্বল নদীর রুক্ষ তীরে পিঠ ঠেকিয়ে ৩২ বছরের পুতলী শেষ করেছিল তার অভিশপ্ত জীবন। মৃত্যুর সময় চোখটা খোলাই ছিল। হয়তো সে দেখতে চেয়েছিল বিশ্বাসঘাতকদের, হয়তো তার মেয়ে তান্নোকে। কিন্তু সুযোগ কাউকে দ্বিতীয়বার দেয় না চম্বল। দেয়নি দস্যুরানি হয়ে ওঠা গহরবানুকেও।

--------------------------

Tuesday, July 13, 2021

17>|| তুলসীদাসজীর জীবনী ও হনুমান চাল্লিশা |

 

17>|| তুলসীদাসজীর জীবনী ও হনুমান চাল্লিশা  ||

         হিন্দি ও বাংলা।

|| हनुमान चालीसा की कहानी  ||

                   <--अद्यनाथ-->

1600 ईसबी की अकबर और तुलसीदास जी की  एक स्तय कहानी ।

कहानी इस प्रोकर--

 एक बार तुलसीदास जी मथुरा जा रहे थे। रस्था में रात होने से पहले उन्होंने अपना पडाव आगरा में डाला।

ऐ समाचार चारो और फेला, लोगो को पता लगा की तुलसी दास जी आगरा में पधारे है। 


यह सुन कर उनके दर्शनों के लिए लोगो का ताँता लग गया। थोड़ेही देर में  यह बात जब बादशाह अकबर को पता लगी तो उन्होंने वीरबल से  तुलसीदास के बारे पुंछा की यह तुलसीदास कौन हैं.....?


 वीरबल ने बताया, इन्होंने तुलसीदास जी।

इन्होंने ही रामचरितमानस का अनुवाद किया है यह रामभक्त तुलसीदास जी है।

"में भी इनके दर्शन करके आया हूँ।"


इतना सुनकर सम्राट अकबर ने भी उनके दर्शन की इच्छा व्यक्त की और कहा "में भी उनके दर्शन करना चाहता हूँ।"

अतः बादशाह अकबर ने अपने सिपाहि को तुलसीदास जी के पास भेजा। और सिपाहि,  तुलसीदास जी को बादशाह का पैगाम सुनाया, की "आप लाल किले में हाजिर हों।" यह पैगाम सुन कर तुलसीदास जी ने कहा की "मैं भगवान श्रीराम का भक्त हूँ, मुझे बादशाह और लाल किले से मुझे क्या लेना देना," 

और लाल किले जाने की साफ मना कर दिया। जब यह बात बादशाह अकबर को पता चला  तो  अकबर की बहुत बुरी लगी और बादशाह अकबर गुस्से में आग बबूला हो गई ,

और उन्होंने तुलसीदास जी को पकड़ कर

 लाल किला लाने का आदेश दिया। 


जब तुलसीदास जी लाल किला पहुंचे तो अकबर ने कहा की "आप कोई करिश्माई व्यक्ति लगते हो, कोई करिश्मा करके दिखाओ।" तुलसी दास ने कहा " मैं तो सिर्फ भगवान श्रीराम जी का भक्त हूँ कोई जादूगर नही हूँ जो आपको कोई करिश्मा दिखा सकूँ।" अकबर यह सुन कर और भी गुस्से में आदेश दिया की" इनको जंजीरों से जकड़ कर काल कोठरी में डाल दिया जाये।"


दूसरे दिन सबेरे  आगरा के लाल किले पर लाखो बंदरो, हनुमान ने एक साथ हमला बोल दिया पूरा किला तहस नहस कर डाला। लाल किले में त्राहि त्राहि मच गई।

 तब अकबर ने वीरबल को बुला कर पूंछा की "वीरबल यह क्या हो रहा है....?"

वीरबल ने कहा

 "हुज़ूर आप करिश्मा देखना चाहते थे तो देखिये। एहि एक करिश्मा।"


अकबर ने तुरंत तुलसी दास जी को कल कोठरी से निकल कर उनकी जंजीरे खोल दी ।

तब तुलसीदास जी ने वीरबल से कहा---

 "मुझे बिना अपराध के सजा मिली है। मैने काल कोठरी में भगवान श्रीराम और हनुमान जी का स्मरण किया में रोता जा रहा था। और मेरे हाथ अपने आप कुछ लिख रहे थे यह 40 चौपाई, हनुमान जी की प्रेरणा से लिखी गई इस चौपाई

जो भी व्यक्ति कष्ट में या संकट में  होगा और इसका पाठ करेगा ,उसके कष्ट और सारे संकट दूर होंगे। इसको हनुमान चालीसा के नाम से जाना जायेगा।"

अब अकबर बहुत लज्जित हुए और तुलसीदास जी से माफ़ी मांगी, और पूरी इज़्ज़त और पूरी हिफाजत और लाव लश्कर के साथ  तुलसीदास जी को मथुरा भिजवाया।


आज लोग हनुमान चालीसा का पाठ करते हैं। और सभी पर हनुमान जी की कृपा बर्षते हैं।

 और सभी के संकट दूर हो रहे है। हनुमान जी को इसीलिए "संकट मोचन" भी कहा जाता है।

।। जय श्री राम, जय श्री हनुमान ।।


<--©--➽-ए एन राय चौधुरी-->


========================

  || হনুমান চালিশার কাহিনী ||


সম্রাট আকবর এবং তুলসীদাস।


আজ অনেকেই রোজ নিয়ম করে 

হনুমান চালিশা পাঠ করেন।

কিছু মানুষ বিপদে পড়লেই হনুমান চালিশা পাঠ করেন এবং হনুমানজীর সরনাপন্ন হন।

আমরা এও জানি যে এই হনুমান চালিশার রচয়িতা গোস্বামী তুলসীদাসজী।

কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তুলসীদাসজী এই হনুমান চালিশা রচনা করেছিল সেই সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করে কিছু বই খুঁজে, কিছু ইন্টারনেট খুঁজে যেটুকু জেনেছি ::------

গোস্বামী তুলসীদাস জী এই রচনা হয়েছিল ষোড়শ শতকে মুঘল সম্রাট আকবরের সময়কালে সম্ভবত 1582 সালে। তবে হনুমান চালিশা রচনার সময়কাল নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে নানান মত বিরোধ রয়েছে। 

কেউ কেউ মনে করেন যে হনুমান চালিশা অনেক পরে রচনা করা হয়েছিল। 

আবার কেউ মনে করেন যে তুলসীদাসজী শৈশবেই এটি রচনা করেছিলেন।

তবে বেশির ভাগ পণ্ডিতগণের

মত হল হনুমান চালিশা তুলসীদাসজী রচনা করেন আঠার শতকের আটের দশকে।

মূল হনুমান চালিশা  রচিত হয়েছিল অবধি ভাষায়। অবধি হল হিন্দি ভাষার একটি রুপ। 

এটি তুলসীদাস রচিত রামচরিতমানসের একটি অংশ বিশেষ। 

এখানে  তুলসীদাসজীর একটু পরিচিতি

জানা উচিত বলে মনে করি। 

তুলসীদাসজীর জন্ম হয় প্রয়াগের কাছে চিত্রকূট জেলার রাজপুর গ্রামে। তার জন্ম সাল নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে যথেষ্ট মতোবিরোধ রয়েছে। তবে বাল্মিকী সম্বত অনুযায়ী তার জন্ম 1554সালে।

পিতা আত্মারাম দুবে ও মাতা হুলসির ঘরে 12 মাস মাতৃ গর্ভে থাকার পর জন্ম নেয় 32 টি দাঁত যুক্ত সাড়ে পাঁচ বছরের বালকের মত আকৃতি যুক্ত এক নবজাতক। সন্তানের অমঙ্গলের কথা ভেবে মা হুলসী তার পিতার বাড়ির এক দাসী চুনিয়ার কাছে ছেলেকে গচ্ছিত রাখেন। কিছু দিন পরে চুনিয়াও মারা যায় ও বালক অনাথ হয়ে যায়। এরপরে অনাথ খুব দুঃখ কষ্টের মধ্যে ভিক্ষে করে দিন কাটায়।

এরপরে অনন্তনন্দজীর শিষ্য শ্রীনরহরি আনন্দজী এই বালকে খুঁজে পান এবং অযোধ্যা নিয়ে আসেন এবং নাম রাখেন রামবোলা। সেই অযোধ্যাতেই তিনি রাম মন্ত্রে দীক্ষা নেন এবং বিদ্যা অধ্যয়ন করেন। সেখান থেকে কাশী চলে যান এবং দীর্ঘ 15 বছর বেদ বেদাঙ্গ অধ্যয়ন করেন। তারপর আবার ফিরে আসেন জন্ম ভূমিতে।

সম্ভবত 1583 সালে বিবাহ হয় রত্নাবলীর সঙ্গে। একদিন রত্নাবলী তার পিতৃ গৃহে গেলে তুলসীদাসজীও পেছন পেছন তার শ্বশুর বাড়ি চলে যান। সেই সময় তার স্ত্রী তাকে তীব্র ভৎসনা করে বলেন আমার মত রক্ত মাংসের শরীরের মোহ ছেড়ে রঘুবীরের নামে জীবনকে সপে দাও। জীবন তোমার মুক্ত হবে। এই কথা শোনা মাত্র তুলসীদাসজীর অন্তরে সম্বিত ফিরে আসে এবং তখনই সাংসারিক জীবন ত্যাগ করে প্রয়াগে চলে আসেন এবং শ্রীরামের নামে জীবন সপে দেনা।

অযোধ্যাতে তিনি দেখা পান হনুমানজীর এবং তিনি শ্রীরঘুনাথের দর্শন পাওয়ার ইছা প্রকাশ করেন। হনুমানজী বলেন শ্রীরামের দর্শন পেতে গেলে চিত্রকূট যেতে হবে। তিনি সেখানে গেলেও শ্রীরামজীকে তিনি চিনতে পারেন নি। পরবর্তীতে শ্রীরাম এক শিশুর বেশে এলে হনুমানজীর ইশারায় তুলসীদাসজী শ্রীরামের দর্শন পান।

তুলসীদাসজী দেহত্যাগ করেন 1623 সালে শ্রাবন মাসে গঙ্গার অসী ঘাটে। কথিত আছে তিনি 126 বছর জীবিত ছিলেন।

রামচরিত মানস  তুলসীদাসজীর এক অমর কীর্তি যাকে তুলসীদাসী রামায়ন বলা হয়। গোটা রামচরিত মানস তিনি শেষ করেন 2 বছর 7 মাস 26 দিনে। এছাড়া তিনি তুলসীদাসী দোহাবলী, কবিতাবলী, গীতাবলী,কৃষ্ণাবলী এবং বিনয় পত্রিকা রচনা করেন। বারানসীর সঙ্কট মোচন হনুমান মন্দিরও তারই সৃষ্টি।

হনুমান চালিশা রচনার ইতিহাস : 

ভারতে তখন মুঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকাল। ততদিনে তুলসীদাসজী এক সিদ্ধ পুরুষ হয়ে উঠেছেন। একবার তিনি এক গাছের নীচে বসে ধ্যান করছিলেন। এক মহিলা এসে তাকে প্রণাম করেন। তুলসীদাসজী তাকে সুখী হবার আশীর্বাদ করেন। আশীর্বাদ পেয়ে মহিলা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি মহিলাকে কান্নার কারন জিজ্ঞেস করাতে মহিলা বলেন এই মাত্র তার স্বামী মারা গেছেন। তুলসীদাসজী বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে রাম নাম নেবার পরামর্শ দেন। মহিলা বাড়ি গিয়ে রাম নাম শুরু করেন সঙ্গে উপস্থিত সকলেই রাম নাম করতে থাকেন। কিছুক্ষন পরেই মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়ে ওঠেন। এই রকম তিনি এর আগেও এক দৃষ্টি হীন ব্যক্তিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন। তার কীর্তি দাবানলের মত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এই খবর সম্রাট আকবরের কান পর্যন্ত পৌছায়। আকবর বীরবল ও টোডরমলকে পাঠায় খবরের সত্যতা যাঁচাইয়ের জন্য। তারা খবর নিয়ে এসে সম্রাটকে বলেন যে ঘটনা সত্য। আকবর তুলসীদাসজীকে রাজ সভায় ডেকে পাঠান এবং কিছু চমৎকার দেখাতে বলেন। তুলসীদাসজী সেটা  করতে অস্বীকার করে বলেন "আমি কোন চমৎকারী বাবা নই যে চমৎকার দেখাব। চমৎকার দেখানেওয়ালাতো স্বয়ং শ্রীরাম। আমি নই।"

এই কথা শুনে সম্রাট আকবর প্রচণ্ড ক্রোধিত হয়ে তুলসীদাসজীকে আটক করবার নির্দেশ দেন এবং সেপাইরা তাকে ফতেপুরসিক্রিতে আটক করে রাখেন। তুলসীদাসজী বিন্দু মাত্র বিচলিত না হয়ে শ্রী হনুমান চালিশার রচনা শুরু করেন। হনুমান চালিশার রচনা যখন প্রায় শেষ তখন ফতেপুরসিক্রি সমেত গোটা রাজধানীতে কয়েক লক্ষ বানর হামলা করেন। বানরের অত্যাচারে সম্রাট সহ রাজধানীর সকল নাগরিক অতিষ্ট হয়ে ওঠে। বিচক্ষন সম্রাট আকবরের নিজের ভুল বুঝতে সময় লাগে নি। তিনি দ্রুত তুলসীদাসজীকে কয়েদ থেকে মুক্ত করেন এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তুলসীদাসজী মুক্ত হতেই বানরের উপদ্রব বন্ধ হয়ে যায়। সম্রাট আকবর আমৃত্যু তুলসীদাসের সঙ্গে মিত্রতার সম্পর্ক রেখেছিলেন।

হনুমান চালিশার উদ্দেশ্য : 

বলা হয় হনুমান চালিসা পাঠ করলে সমস্ত সঙ্কট দূর হয়ে যায়। এই হনুমান চালিশায় হনুমানজীর ক্ষমতার গুণকীর্তন করা হয়। এরও কারন রয়েছে। হনুমানজী ছোট বেলায় ধ্যান মগ্ন মুণি ঋষিদের খুব বিরক্ত করতেন। তাই তাকে মুণি ঋষিরা অভিশাপ দিয়ে ছিলেন যে তার ক্ষমতা বা শক্তি সম্পর্কে তিনি ভুলে যাবেন। অন্য কেও তাকে তার ক্ষমতা না মনে করিয়ে দিলে তিনি তা প্রয়োগ করতে ভুলে যাবেন। তাই হনুমান চালিশার অধিকাংশ চৌপাইতে তার ক্ষমতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

        " সংগ্রহ"

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================