Sunday, October 17, 2021

21>||★★ 'মা'এর কোনো জাত ধর্মে নেই, থাকে না।

 


★★21>মা'এর কোনো জাত ধর্মে নেই, থাকে না।

                   স্বামী বিবেকানন্দ।

১৮৯৮ সাল!!

চিকাগো থেকে ফেরার পর বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে। স্বামীজী বসে আছেন বেলুড় মঠের গঙ্গার তীরে। শীতের বিকালের শেষ রোদ গঙ্গার ঢেউয়ের বিভঙ্গে লুকোচুরি খেলছে তখন। 

স্বামীজীর পাশেই বসে আছেন, তাঁর বিদেশীনী শিষ্যা ভগিনী নিবেদিতা। 

নৈস্বর্গীক নিস্তব্ধতা ভেঙে, জলদগম্ভীর কন্ঠে স্বামীজী বলে উঠলেনঃ - 

নাঃ সিস্টার!! এই ভাবে বসে বসে সময় নষ্ট করা ঠিক হচ্ছেনা!!


সিস্টারঃ - বলুন স্বামীজী কি করতে হবে??

স্বামীজীঃ - সারা পৃথিবী কে আমি ভারতীয় দর্শন তো বোঝালাম। কিন্তু আমি নিজে কি আজও ভারত মা কে জানা চেনার চেষ্টা করেছি?? ভাবছি পায়ে হেঁটে আমি ভারত মা কে দর্শন করবো। তুমি কি পারবে আমার সঙ্গে যেতে??

সিস্টারঃ - এ তো আমার পরম সৌভাগ্য স্বামীজী!! এই দেশটাকে আমি আমার নিজের দেশ ভেবে সব ছেড়ে চলে এসেছি। এই দেশকে চেনা জানার সৌভাগ্য আমি অর্জন করতে চাই। যত কষ্টই হোক, আমি আপনার সঙ্গে যাব স্বামীজী!!

যেমন ভাবনা, তেমন কাজ!!

দক্ষিণের কন্যাকুমারী থেকে শুরু হলো পায়ে হেঁটে ভারত দর্শন। গন্তব্য উত্তরের কাশ্মীর উপত্যকা। 

টানা প্রায় ৬ মাস পথ চলে, অক্টোবরে স্বামীজী পৌঁছালেন কাশ্মীর। ক্লান্ত অবসন্ন শরীর তখন প্রায় চলছেনা, একটু বিশ্রাম চাইছে। উপত্যকার একটা ফাঁকা মাঠের পাশে একটা পাথরের খন্ডের উপর বসে ক্ষণিক বিশ্রাম নিচ্ছেন স্বামীজী। সামনের মাঠে খেলা করছে কয়েকটি স্থানীয় শিশু কিশোর। 

একটি বছর পাঁচেকের শিশুকন্যাও তাদের মধ্যে রয়েছে। ঐ কন্যাটির দিকে একদৃষ্টে দেখছেন স্বামীজী। 

কন্যাটির মা, তাঁর মেয়েকে ডেকে, একটি পাত্র করে কিছু খাবার দিয়ে গেলেন। মেয়েটিও খাবারটি সবে মুখে তুলতে যাবে!!এমন সময়ে, আরও দূর থেকে, আরও ছোট একটি ছেলে চিৎকার করে নিজেদের ভাষায় কিছু একটা বলতে বলতে মেয়েটির কাছে ছুটে এলো। মেয়েটি নিজের মুখের খাবারটা রেখে দিলো আবার পাত্রের মধ্যে। খাবার সমেত পাত্রটি এগিয়ে দিলো ঐ ছেলেটির দিকে। 

স্বামীজীও উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন!! চিৎকার করে বললেন - সিস্টার আমি পেয়ে গেছি!!

সিস্টারঃ - কি পেলেন স্বামীজী??

স্বামীজীঃ - মা দূর্গাকে পেয়ে গেছি!! ভারত মা কে খুঁজে পেয়েছি!!

স্বামীজীঃ - ঐ দ্যাখো সিস্টার!! যে মেয়েটা নিজের মুখের খাবার, হাসতে হাসতে ভাইয়ের মুখে তুলে দিতে পারে, যুগ যুগ ধরে সেই তো আমার মা দূর্গা!! সেই তো আমার ভারত মাতা!!

স্বামীজীঃ - সিস্টার!! তুমি পূজার উপকরণ সাজিয়ে ফেল। আগামীকাল দূর্গাপূজার অষ্টমীতে এই মেয়েটিকেই আমি ক্ষির ভবানী মন্দিরে, দূর্গার আসনে বসিয়ে কুমারীপূজা করবো। আমি যাচ্ছি মেয়েটির বাবার সঙ্গে কথা বলতে। 

হঠাৎ স্বামীজীর রাস্তা আটকে দাঁড়ালেন কিছু কুসংষ্কারাচ্ছন্ন কাশ্মীরী পন্ডিত!!

স্বামীজী!! আপনি দাঁড়ান!!

পন্ডিতরাঃ - স্বামীজী!! আপনি না জেনে বুঝেই ভুল করতে যাচ্ছেন!! ঐ মেয়েটিকে আপনি কখনোই দূর্গা রূপে পূজা করতে পারেন না!! ওর জন্ম মুসলমান ঘরে!! ওর বাবা একজন মুসলমান শীকারা চালক!! ও মুসলমানের মেয়ে!!

স্বামীজীর কান দুটো লাল হয়ে গেছে!!

চোয়ালটা শক্ত হয়ে উঠেছে!!

গম্ভীর গলায় স্বামীজী বললেনঃ -

আপনারা আপনাদের মা দূর্গাকে হিন্দু আর মুসলমানের পোষাক দিয়ে চেনেন!! 

আমি আমার মা দূর্গাকে অন্তরাত্মা দিয়ে চিনি!!

ঐ মেয়েটির শরীরে হিন্দুর পোষাক থাক বা মুসলমানের পোষাক, ওই আমার মা দূর্গা!!

আগামীকাল ওকেই আমি দূর্গার আসনে বসিয়ে পূজা করবো!!


পরেরদিন সকাল!!

দূর্গাপূজার অষ্টমী!!

ক্ষির ভবানী মন্দিরে ঘন্টা বাজছে, শাঁখ বাজছে!!

মুসলমানের মেয়ে, বসে আছে দূর্গা সেজে!!

পূজা করছেন, হিন্দুর সন্তান স্বামী বিবেকানন্দ!!

পূজার উপকরণ সাজিয়ে দিচ্ছেন, খ্রীষ্টান ঘরে জন্ম নেওয়া ভগিনী নিবেদিতা!!


এই হলো মহামানবের দূর্গা পূজা। এই হলো মানবিকতার দূর্গা পূজা।

মা আমাদের সবার। জাত ধর্মে নির্বিশেষে সবার। মা র কোনো জাত ধর্মে নেই, থাকে না।

      ( সংগ্রহ)

=======================

Tuesday, September 7, 2021

20>||পঞ্চমুখী হনুমানের রহস্য----

   20>||পঞ্চমুখী হনুমানের রহস্য----


রামভক্ত হনুমানের পাঁচটি মুখ। বিপদতারণ হনুমানের এই পঞ্চমুখের পিছনে আছে রামায়ণের কাহিনীর মধ্যে একটি আকর্ষনীয় কাহিনী যা জড়িয়ে আছে রাম-রাবণের যুদ্ধের সঙ্গে।


রামের বিরুদ্ধে জয়ী হতে রাবণ সাহায্য চান মহীরাবণ এবং অভিরাবণের। তাঁরা দুজনেই ছিলেন লঙ্কারাজ রাবণের ভাই, পাতালের শাসক। মহীরাবণ রূপ ধারণ করেন বিভীষণের, আসেন রাম-লক্ষ্মণের কাছে। দুজনকে অপহরণ করে নিয়ে যান পাতালে। 


রাম-রামানুজকে খুঁজতে হনুমান যান পাতালে। গিয়ে দেখেন দ্বারে প্রহরায় আছেন মকরধ্বজ। এই মকরধ্বজের জন্ম নিয়েও আছে আরো এক কাহিনী। রামায়ণ অনুযায়ী মকরধ্বজের জন্মের পিছনে হনুমানের অবদান আছে।


স্বর্ণলঙ্কায় অগ্নিকাণ্ডের পরে লেজের আগুন নেভাতে হনুমান লেজ চুবিয়েছিলেন সমুদ্রের জলে। তখন তাঁর এক ফোঁটা ঘাম থেকে মকরধ্বজের জন্ম। তাই‚ মকরধ্বজ হনুমানকে নিজের পিতা ভাবতেন।


পাতালের প্রবেশপথে মকরধ্বজকে দেখে হনুমান নিজের পরিচয় তাঁকে দেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে প্রণাম করে পথ ছেড়ে দেন মকরধ্বজ।


হনুমান পাতালে প্রবেশ করে দেখেন মহীরাবণ এবং অভিরাবণকে বিনাশ করতে হলে পাঁচটি দীপ নেভাতে হবে। তাদের মুখ আবার পাঁচদিকে। তাই‚ হনুমান পাঁচটি মুখ ধারণ করলেন।


একটি মুখ হল বরাহ-মুখের মতো, সেই মুখটি থাকল উত্তরদিকে। নরসিংহের মতো দেখতে মুখ থাকল দক্ষিণ দিকে। গরুড়রূপী মুখ থাকল পশ্চিমে। হয়গ্রীবা মুখ হল আকাশমুখী। আর‚ হনুমানের নিজস্ব মুখ থাকল পূর্বমুখী হয়ে।


এই পঞ্চমুখ নিয়ে পাতালে প্রবেশ করে হনুমান পাঁচদিকে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিলেন পাঁচটি দীপ। তারপর বিনাশ হল মহীরাবণের। উদ্ধার পেলেন রাম-লক্ষ্মণ। রামচন্দ্রের নির্দেশে পাতালের শাসক হলেন মকরধ্বজ। তাঁকে দায়িত্ব অর্পণ করলেন হনুমান।


এইভাবে‚ রামচন্দ্রের সেবায় পঞ্চমুখের অধিকারী হন ভক্ত হনুমান।


 পবনপুত্র হনুমান কি জয়।

            জয় হনুমান 

                  ( সংগ্রহ)

Friday, August 6, 2021

19>ত্যাগ-তিতিক্ষা= নচিকেতার গল্প কথা)

  19>||ত্যাগ-তিতিক্ষা= নচিকেতার গল্প কথা)


অনেক দিন আগের কথা। সেকালে বাজশ্রবা নামে এক মুনি ছিলেন। 

মুনি ছিলেন পরম ধাৰ্মিক 

এবং যাগযজ্ঞপরায়ণ। 

তার এক ছিলো পুত্র —নাম নচিকেতা।

বাজশ্রবা মুনিএকদিন এক যজ্ঞ করলেন, 

সেই যজ্ঞে আমন্ত্রিত ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের গোদান করলেন, উপহার-উপঢৌকনে ভরিয়ে দিলেন দরিদ্র ব্রাহ্মণদের। ছোট্ট ছেলে নচিকেতা, দূরে দাঁড়িয়ে দেখলেন বাবা যে গোরুগুলো দান করলেন, সেগুলো মৃতবৎসা। সেগুলি কখনই

 দুধ দেবে না। আর উপহার সামগ্রীর বেশির ভাগ টাই অকাজের। বাবার এহেন ভ্রষ্টাচারে, লজ্জিত নচিকেতা বাবাকে  জিজ্ঞেসা করলেন “বাবা, তোমার এমন লোক-ঠকানো অকিঞ্চিৎকর দানের অর্থ”? ছোট মুখে বড় কথা, বাজশ্রবা চিৎকার করে বললেন ‘এবার তোমাকেও আমি যমের দক্ষিণ দুয়ারে পাঠাব’। সেটাই হবে আমার মহত্তম দান। মুখ থেকে কথা খসামাত্রই যমদূতেরা হাজির, তারা নচিকেতাকে জোড়করে  টেনে নিয়ে গেল যমরাজের দরবারে। 


এদিকে যমরাজ বিশেষ কাজে যম লোকের বাইরে। যমরাজ তিনদিন  বাদে ফিরে  ক্ষুধা তৃষ্ণায় কাতর নচিকেতাকে এমন ভাবে দেখে তাকে নিয়ে আসার হেতু জানতে চাইলেন এবং মুগ্ধ হলেন ওইটুকু ছেলের ত্যাগ-তিতিক্ষায়। 

ফুটফুটে নচিকেতাকে কোলে বসিয়ে যমরাজ ভূরিভোজনের ব্যবস্থা করলেন,এবং নচিকেতাকে  তিনটি বর প্রদান করলেন। 

প্রথম বরে নচিকেতা তাঁর বাবার বুদ্ধি বিভ্রমের প্রতিকার চাইলেন। যমরাজ বললেন তথাস্তু। দ্বিতীয় বরে, যজ্ঞে মোক্ষলাভের গোপন বীজমন্ত্র শিখতে চাইলেন নচিকেতা। সেটিও মঞ্জুর হল। যমরাজ আরও বললেন, তিনবার এই যজ্ঞ সমাপনে নচিকেতাকে আর জন্ম মৃত্যুর পাকেচক্রে আবর্তিত হতে হবে না। পরম ব্রহ্মের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে নচিকেতার। আর যজ্ঞটিও পরিচিত হবে ‘নচিকেতা যজ্ঞ’ নামে। 

এবার তৃতীয় বরের পালা। নচিকেতা যমরাজের কাছে জানতে চাইলেন মৃত্যুর পর কী পরিণতি হয় মানুষের? গূঢ়, গোপনীয় তথ্য। যমরাজ বললেন, যে প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবতারাও জানেন না, হে নচিকেতা তুমি তার নাগাল পাবে কীভাবে? নাছোড় নচিকেতা। মরণের পরের সংবাদ তাঁর চাইই চাই। ভুলিয়ে-ভালিয়ে যমরাজ বিশাল রাজ্য, পরমাসুন্দরী অপ্সরা, বিপুল বৈভব, ক্ষমতা আর ঐশ্বর্যের লোভ দেখালেন। খেয়ে পরে সুখে শান্তিতে দিনগুজরানের প্রতিশ্রুতি দিলেন। নচিকেতা বললেন, সুখ শান্তি কতদিনের? যে মুহূর্তে আপনি ডাকবেন, পরনের সুতোটিও ছেড়ে আপনার শরণাগত হতে হবে। তাহলে বিত্ত-বৈভব-ইন্দ্রিয়সুখ তো ক্ষণিকের মায়া, মরীচিকা। অবশেষে যমরাজ বাধ্য হয়ে বললেন 

পথ দুটো: একটা ভোগের, 

               দ্বিতীয়টা ত্যাগের। 

প্রথম পথের শেষে স্বাগতম জানাবে মৃত্যু। 

দ্বিতীয়টি আত্মজ্ঞানের, 

উত্তরণ-উন্মোচন-আত্মোপলব্ধির, অমরত্বের। 

নচিকেতা দ্বিতীয় পথটিকেই বাছলেন। 

তখন যমরাজ তাঁকে রথের উপমা টেনে শরীর-মন-বুদ্ধি-অনুভূতি-জীবাত্মার স্বরূপ

বর্ননা করে বললেন--

“আত্মানং রথিনং বিদ্ধি শরীরংরথমেব তু।

/বুদ্ধিংতু সারথিং বিদ্ধি মনঃপ্রগ্রহমেব চ।।

/ ইন্দ্রিয়াণি হয়ানহুর্বিষয়াংস্তেষু গোচরান।

/আত্মেন্দ্রিয়মনোযুক্তং ভোক্তেত্যাহর্মনীষিণঃ” 

(কঠোপনিষদ ১।৩। ৩-৪)। 


অর্থাৎ আত্মা রথী, শরীর নামক রথে আরূঢ় তিনি। রথের সারথি বুদ্ধি। মন হল লাগাম। আর ঘোড়া পঞ্চেন্দ্রিয়। মন, বুদ্ধি স্থির থাকলে শরীর রথ নিবাত-নিষ্কম্প। সাফল্য করায়ত্ত। কিন্তু মন-বুদ্ধি-হৃদয় বিপথগামী হলেই শরীর নামক রথও বিগড়বে। রথে জোতা অশ্বের বিশৃঙ্খল আচরণে প্রাণসংশয়ের সম্ভাবনা বাড়ে সারথি বা রথীর! রথী জীবাত্মা, সারথি পরমাত্মা। ঘোড়ারা ক্ষ্যাপামি করলে, সারথির পক্ষে রথের ভারসাম্য বজায় রেখে সঠিকপথে রথের পরিচালন অসম্ভব হয়ে পড়ে। শরীর রথের অন্দরে, হৃদয়ে সমাসীন জীবাত্মা, মন-বুদ্ধি তাকে পথ দেখিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষে পরমাত্মার সঙ্গে মিলিয়ে দেবে। 

হৃদয়-মন-বুদ্ধির সামান্য বেচালে শরীর-রথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়। জন্ম-মৃত্যুর পঙ্কিল ঘূর্ণিপাকে কলুর বদলের মত নিশিদিন ঘুরপাক খেতে থাকে নশ্বর মনুষ্যজীবন। শোক-তাপ-জরা থেকে মেলে না মুক্তি। 


ষড়রিপু বা ইন্দ্রিয়কে চালনা করে মন, ইন্দ্রিয়ের থেকে বড় তাই মন, মনের থেকে বুদ্ধি। হৃদয়ের অন্তঃস্থলে আসীন আত্মা—‘পুরুষ’, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলে তবেই তার সঙ্গে মিলন হবে ‘প্রকৃতি’র। সেই ব্রাহ্মমুহূর্তে অপার্থিব আলোর ঝলকানিতে সৃজিত হবেন পরমাত্মা, পরমব্রহ্ম। 


ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব বলছেন, ডাব নরম শাঁস আর জলে ভর্তি, জড় আর চেতন মিলেমিশে ঢ্যাবঢ্যাবে। ঝুনো নারকেল পরিপুষ্ট, পরিণত, খটখটে। খোসা থেকে সহজেই আলাদা করা যায়। মনকে শক্ত হাতে লাগাম পরাতে পারলেই জাগতিক কামনা বাসনা থেকে মুক্ত হয়ে, ঝুনো নারকেল, ব্রক্ষ্মের স্বরূপে উপনীত হওয়া সম্ভব। 


ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব  দিনের মধ্যে ৩৬ বার সমাধিস্থ হতেন, ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার তাঁর নাড়ির হদিশ পেতেন না। আশ্চর্য হয়ে তিনি স্বগতোক্তি করেছিলেন পরমহংস ৩৬ বার মরছে আবার বেঁচেও উঠছে, কোন জাদুবলে? সমাধিকালে আত্মাকে নারকোলের মত শরীর নামক খোসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়েই নাড়ির স্পন্দন বিরহিত হতেন রামকৃষ্ণদেব।

  ‘জীবনমুক্তিঃ সুখমপ্রাপ্তিঃ’। 


চিকিৎসাশাস্ত্রে যার ব্যাখ্যা ডাঃ সরকার খুঁজে পাননি। সাধনমার্গের সাধকদের পক্ষেই এ মায়ার খেলা সম্ভব। 


রথযাত্রা আসলে সফর/পথচলা। 

ব্রক্ষ্মের সঙ্গে মিলনের বাহন রথ। 


দক্ষিণ ভারতের রথোৎসবে তাই সাড়ম্বরে পালিত হয় ‘ব্রহ্মোৎসব’। 

কিন্তু পুরীর রথে ব্রহ্মোৎসব অনুপস্থিত। মানুষের শরীর-রূপী রথে মোক্ষলাভের সমস্ত উপকরণই মজুত। 



রথে আসীন শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব মানুষের মধ্যে নেমে এসে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন কীভাবে যাত্রার শেষে অভীষ্ট মোক্ষের পথে পৌঁছতে হবে! 

তাই পুরীর রথযাত্রায় নেই কোনও ভেদাভেদ। নেই উচ্চ-নীচ, ধনী-নির্ধনের বিচার। মোক্ষের পথ, ধর্মাধর্ম ভেদে আলাদা হতে পারে না। 

গজপতি রাজাকেও, আত্মসম্মার্জনার পথে, পুরীর রথে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে হয়। 

ভিন্নধর্মী আলেকজান্ডার ক্যানিংহ্যাম বা শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর শ্রীমন্দিরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, পুরীর রথে স্বাগতম সকলেই। 

সতেরশো শতাব্দীর ঘটনা। জাহাঙ্গিরের সুবেদার, ভক্ত কবি  ‘সালাবেগ’ রথ-দর্শনে পরিত্রাহি ছোটার সময় পড়ে গিয়ে জখম হলেন। প্রভুর কাছে করুণ মিনতিতে বললেন দয়াপরবশ হয়ে প্রভু একটু যদি ‘সালাবেগের’ জন্য অপেক্ষা করেন। কী স্পর্ধিত আবদার! বড়া ডান্ডা অর্থাৎ মন্দিরের সামনের গ্র্যান্ড রোডে জগন্নাথদেবের ১৬ চাকার রথ ‘নন্দিঘোষ’ গেল আটকে, সারথির প্রাণপণ চেষ্টাতেও নড়ল না স্থাণুবৎ রথ। 

আজও ‘বড়া ডান্ডায়’ রথের দিন সাময়িক আটকে থাকে রথ। ভিন্ন ধর্মের মানুষদের দর্শনাকাঙ্ক্ষা পূরণে সিংহদ্বারে জগৎপিতা সব ধর্মের মানুষকে পতিতপাবন-রূপে দিবারাত্র দর্শন দেন। ‘ব্রহ্মোৎসব’ পুরীর রথ লোকাচারে বেমানান, তাই বাতিল।  

মানবশরীর যেমন পঞ্চভূতে গড়া, তার সমাপ্তিও তেমন পঞ্চভূতে বিলীন। শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীজগন্নাথদেবের রথও তেমন পঞ্চ উপাদানে তৈরি, কাঠ-ধাতু-রঙ-কাপড়-জরি। 

মন ও বুদ্ধি বা চেতনার যথোপযুক্ত প্রদর্শনে পুরীর রথে সারথি অর্জুন, 

আর মহাভারতের যুদ্ধে রথের রশি শ্রীকৃষ্ণের হাতে, রথী অর্জুন। 

মন, সাধারণ মানুষের বুদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে, বুদ্ধি মনকে নিয়ন্ত্রণ করলেই সাধনমার্গের দরজা খুলে যায়। 


মানসিক চাপ হৃদপিণ্ডের ক্ষতি করে, ধমনীতে চর্বি জমে, রক্তপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে হার্ট অ্যাটাকের সূচনা হয়। ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধলে, মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাঁধা পায় ফলে অবশ্যম্ভাবী হয় ব্রেন স্ট্রোক। 

মন-হৃদয়-মস্তিষ্ক একতারে বাঁধা। রথের রশি-অশ্ব-সারথির সন্ময় যুগলবন্দিতে সামান্য তাল কাটলে রথও যেমন বেসামাল, মানবশরীরও তাই।

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

====================



Tuesday, August 3, 2021

18>||এক নারী চরিত্র গহরবানু, ||

 18>||এক নারী চরিত্র গহরবানু, ||


চম্বলের পুতলীবাঈ, যে নর্তকী হাতে নিয়েছিল বদলার রাইফে

মধ্যপ্রদেশের মোরেনা, ভিন্দ, শেহপুর ও গোয়ালিয়র, উত্তর প্রদেশের জালাউন, এটাওয়া, রাজস্থানের ঢোলপুর জেলাগুলি নিয়ে প্রায় ১০ হাজার বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে আছে চম্বল উপত্যকা।
যার মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ইতিহাসের চমনবতী নদী।
আজ যার নাম চম্বল।
ভারতের একমাত্র নদী যা দক্ষিণ দিকে না এসে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ঘুরে উত্তরপ্রদেশের কানপুরের কাছে যমুনায় মিশেছে এই চম্বল নদী।

চম্বল নদীর জলধারা হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন স্রোতে বিভিন্ন দিকে বয়ে, এলোমেলো ভাবে ভূমিক্ষয় ঘটিয়েছে। প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি করেছে করে ১০ থেকে ৩০ ফুট উঁচু হাজার হাজার মাটির পাহাড়। পাহাড়গুলির গা বেয়ে নেমে এসেছে  সংকীর্ণ গিরিখাত।

প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালে তৈরি হয়েছে মাটির গুহা, ফাটল, সুড়ঙ্গ।
লোকচক্ষু এড়িয়ে কোনও ফাটলের মধ্যে দিয়ে মাইলের পর মাইল চলে যাওয়া যায়।
 শক্ত কাদামাটি দিয়ে তৈরি ছাদবিহীন গুহার মতো ঘেরা জায়গাগুলিকে বলে বেহড়।

এর থেকে পুরো মালভূমি এলাকাটির নামই হয়ে গেছে বেহড়।



চম্বলের বেহড়

অভিশপ্ত নদী চম্বল

লোকগাথা থেকে জানা যায় আর্যরাজ রন্তিদেব একবার অসীম ক্ষমতার লোভে গোমেধ যজ্ঞ করেন। যজ্ঞের সময় কয়েক সহস্র গাভির বলিদানে চম্বল নদীর জল হয়ে উঠেছিল রক্তবর্ণ। রাজা ও চম্বল নদীকে অভিশাপ দিয়েছিলেন ব্রাহ্মণরা। অন্য আরেকটি লোকগাথা বলছে, দ্রৌপদীকে শকুনি অপমান করার সময় চম্বল নদী নিশ্চুপ থাকায় দ্রৌপদী অভিশাপ দেন চম্বল নদীকে।

দ্রৌপদী ও ব্রাহ্মণদের শাপে চম্বল নদী হয়ে ওঠে অশুভ এবং অভিশপ্ত।
তাই আজও চম্বল নদীর তীরে গড়ে ওঠেনি কোনও জনবসতি ও ধর্মস্থান।
চম্বল ভারতের একমাত্র নদী, যে পূজা পায়না। যার জল দিয়ে কোনও পবিত্র কাজ হয়না। প্রবাদে বলে, “চম্বল নদীর জল যে পান করে সে বাগী হয়ে যায়।”

চম্বলের বেহড় বলে ‘খুন কা বদলা খুন’

বিশ্বের কাছে চম্বলের পরিচিতি তার রুক্ষ সৌন্দর্যের জন্য নয়। কুখ্যাত বাগী বা দস্যুদের মুক্তাঞ্চল হিসেবে। তবে চম্বলের দস্যুদের সঙ্গে ভারতের অনান্য ডাকাতদের মিল পাওয়া যাবে না। চম্বলের দস্যুরা কখনও ব্যাঙ্ক, পেট্রোল পাম্প বা সরকারি খাজানা লুঠ করে না। এখানকার দস্যুরা নিজেদের দস্যু বলেনা, বলে বাগী, যার অর্থ বিদ্রোহী।

এরা বাগী হয় বদলা নেওয়ার জন্য।
রুক্ষ এলাকাটিতে আবহমান কাল ধরে লেগে থাকে জাতপাতের বিদ্বেষ, পরিবার-পরিবারে জমিজমা ও সম্পত্তি নিয়ে লড়াই। বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে রেষারেষি, অসহায় ও গরীবদের ওপর ধনীদের অত্যচার। এই সেই চম্বল যেখানে হানাহানি চলে বংশ পরম্পরায়। যেখানে পুর্বপুরুষের অসম্মান বা হত্যার বদলা নেওয়া হয় কয়েক পুরুষ  ।

এলাকাটিতে বন্দুক সিগারেটের মতোই সহজলভ্য হওয়ায়, একদিন হয়তো অত্যচারীকে খুন করে বসে গ্রামের সবচেয়ে শান্ত ছেলেটি কিংবা দিনের পর দিন ধর্ষিতা হতে থাকা মহিলাটি।
খুনের পর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তারা পালায় বেহড়ে। তাদের আশ্রয় দেয় চম্বলের বেহড়ে লুকিয়ে থাকা দস্যুদল। কমপক্ষে একটা খুন করলে তবেই জায়গা মেলে দলে। কারণ যে খুন করেছে সে পুলিশ ও বদলার ভয়ে দল ছেড়ে যাবে না। এভাবেই বাড়তে থাকে বাগীদের সংখ্যা।

এভাবেই চম্বল নদী খুব কাছ থেকে দেখেছে মান সিং, লাখন সিং, সুলতান সিং, মালখান সিং, মোহর সিং,সুলতানা গুর্জর ,বাবু গুর্জর, বাবা মুস্তাকিন, পান সিং তোমর, ফুলন দেবী, সীমা পরিহার, নির্ভয় সিং গুর্জর ইত্যাদি নামকরা বাগীদের। আর দেখেছিল দস্যুরাণী পুতলীবাঈকে। ভারতের প্রথম নারী দস্যু। চম্বলের রুক্ষ মাটিকে যে নারী রক্তে রাঙিয়ে দিয়েছিল অপরিসীম আক্রোশে। যাকে ধরতে গিয়ে নাজেহাল হয়ে গিয়েছিল তিন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী।


বেহড়ের সমতল এলাকায় লুকিয়ে আছে বিভিন্ন গ্রাম।
গম, জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা ও  ধানক্ষেত দিয়ে ঘেরা থাকে চম্বলের গ্রামগুলি।

মধ্যপ্রদেশের অম্বা তহশিলের বারাবাই গিরিখাতে সেরকমই একটি গ্রামে ছিল গহরবানুর বাড়ি।
এক হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েছিল গহরবানু।

মা আসগরিবাঈ ছিলেন অসামান্য রূপসী। নাচ ও গান জানতেন। মায়ের রূপ আর গুণ পেয়েছিল গহরবানু। সে ও তার বোন ‘তারা‘ পেটের তাগিদে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিয়ে বাড়িতে নাচ গান করত। পুতুলের মত ছোট্টখাট্টো ও মিষ্টি হওয়ার জন্য রসিকরা গহরবানুর নাম দিয়েছিল পুতলীবাঈ।

আসগরিবাঈ বুঝেছিলেন পুতলীবাঈয়ের নাচ ও গানের প্রতিভাকে ছোট এলাকার মধ্যে বেঁধে রাখা উচিত হবে না। মেয়েকে নিয়ে তিনি চলে গিয়েছিলেন আগ্রা। পুতলীবাঈয়ের নাচে আর গানে মোহিত হয়ে গিয়েছিল আগ্রা শহর। পুতলীবাঈয়ের প্রতিভার কথা ছড়িয়ে পড়েছিল লখনৌ এবং কানপুরেও।

পুলিশের কানে গিয়েছিল কিশোরী পুতলীবাঈয়ের নাম। রসিক পুলিশের দল পুতলীবাঈয়ের অনুষ্ঠান দেখতে আসতে শুরু করেছিল। ফলে সাধারণ মানুষের ভিড় কমতে শুরু করেছিল। আসগরিবাঈ পুতলীবাঈকে নিয়ে ফিরে এসেছিলেন নিজের গ্রামে।

  অপহৃত হয়েছিল পুতলীবাঈ্

ঢোলপুরের জমিদারের ছেলের বিয়েতে  পুতলীবাঈকে গান গাওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের আশায় গিয়েছিল পুতলীবাঈ। নাচ গান আর সুরার নেশায় সবাই যখন বুঁদ, বিয়েবাড়িতে হানা দিয়েছিল চম্বলের ত্রাস সুলতান সিং গুর্জর। টাকাপয়সা, সোনাদানা লুঠ করার সঙ্গে সঙ্গে অপহরণ করেছিল পুতলীবাঈকেও।

পুতলীবাঈকে সুলতান সিং নিয়ে গিয়েছিল বেহড়ের গোপন ডেরায়। কয়েকদিন পরে এক দুর্গামন্দিরে বিয়ে করেছিল পুতলীবাঈকে। দাবানলের মতো খবরটি ছড়িয়ে পড়েছিল চম্বলে। তখনও সুলতানার পরিচয় জানত না সদ্য যুবতী পুতলীবাঈ। কিন্তু সুলতান সিংয়ের মাথার ওপর ৮৪ টি নরহত্যার শমন রয়েছে জেনে এক রাতে ডেরা ছেড়ে পালিয়েছিল  পুতলীবাঈ।

অনেক কষ্টে ও কাঠখড় পুড়িয়ে ফিরে এসেছিল নিজের গ্রামে। প্রবল ঘৃণায় গ্রামবাসী একঘরে করে দিয়েছিল পুতলীকে। কিন্তু তার অপরাধ কী সেটা পুতলী বুঝতে পারেনি। সবাই মুখ ফেরালেও  মা আসগরীবাঈ তাঁর গহরকে ফিরিয়ে দেননি।

পুলিশের অত্যাচারে বেহড়ে ফিরেছিল পুতলীবাঈ

গ্রামে ফেরার পর পুতলীবাঈকে থানায় তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সুলতান সিংয়ের সন্ধান জানতে ঘন্টার পর ঘন্টা অত্যাচার চালিয়েছিল নিরীহ পুতলীর ওপর।
সুলতান সিংয়ের বদলার ভয়ে মুখ খোলেনি পুতলী। দিনে রাতে পুতলীকে ডেকে পাঠানো হত থানায়। কখনও কখনও অফিসারেরা নিজেদের বাড়িতে ডেকে পাঠাতেন।
পাশবিক অত্যাচার চলত পুতলীর ওপর।
একসময় এটাই রুটিন হয়ে গিয়েছিল বিধ্বস্ত পুতলীর।

পুলিশ ও গ্রামবাসীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে,  একদিন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল পুতলী। ফিরে গিয়েছিল সুলতান সিংয়ের কাছে। খোলা আকাশের নীচে, চম্বলের বেহড়ের রুক্ষ নিরাপত্তায় শুরু করেছিল সংসার। আজ এখানে তো কাল কুড়ি কিলোমিটার দূরে কোনও নিরাপদ ডেরায় কাটত পুতলীর রাত।


এভাবেই একদিন বেহড়ে পালিয়ে গিয়েছিল পুতলী

 বাগী জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল পুতলী

বেহড়ের মধ্যেই জন্ম নিয়েছিল সুলতান সিং ও পুতলীর মেয়ে ‘তান্নো’। তান্নোকে পুতলী  রেখে এসেছিল তার মায়ের কাছে। বন্দুক আর রক্ত থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিল মেয়েকে। কারণ বেহড়ের জীবন নির্ভর করে একটি মাত্র গুলির ওপরে।
কে কতক্ষণ গুলিটিকে দূরে রাখতে পারে তারই লড়াই চলে প্রতিনিয়ত।

পুতলীবাঈকে বন্দুক চালানো শিখিয়েছিল সুলতান সিং। পুলিশের সঙ্গে একটি এনকাউন্টারে পুতলীর নিখুঁত নিশানায় উড়ে গিয়েছিল পুলিশের চরের মাথার খুলি। সেদিন পুতলীবাঈ উপহার পেয়েছিল একটি রাইফেল। কিন্তু পুতলীবাঈ সেদিন নামিয়ে রেখেছিল রাইফেল, বেহড়ের জীবন ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল।

হত্যার কলঙ্ক মাথায় নিয়ে ফিরতে চেয়েছিল মেয়ের কাছে। মেয়েকে একটিবার চোখে দেখার জন্য। কারণ পুতলী জানত সেদিন থেকে পুলিশের রাইফেলের নল ঘুরে গিয়েছিল তারও দিকে। কিন্তু সেদিন পুতলীকে  বেহড় ছাড়তে দেয়নি সুলতান সিং। কারণ দলে সুলতান ক্রমশ একা হয়ে পড়ছিল। পুতলী ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করতে পারছিল না সুলতান।

বেহড়ের নির্মমতায় একা হয়ে গিয়েছিল পুতলী

একদিন রাতে গোপন ডেরায় শুয়েছিল সুলতান আর পুতলী। কয়েকজন পাহারা দিচ্ছিল। দলের বাকি সদস্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল আশেপাশে। অতর্কিতে হানা দেয় পুলিশ। শুরু হয় ‘মুঠভেড়’। সেই রাতের এনকাউন্টারে মারা যায় সুলতান সিং। পুতলীর চোখের জলে ভিজেছিল বেহড়ের মাটি।

এরপর প্রতিরাতে দলের নতুন ‘সরগনা’ দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিল পুতলী। বুঝতে পেরেছিল তার স্বামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। গোপন ডেরার খবর পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। দলের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে বলি হয়েছে সুলতান সিং।

কিন্তু এ পুতলীবাঈ সে পুতলীবাঈ নয়, বেহড়ের পুতলীবাঈয়ের পায়ে ঘুঙুর ছিল না। চম্বল নদীর জল পুতলীবাঈকে তার নিজের অজান্তেই করে তুলেছিল হায়নার মতোই হিংস্র। স্বামীর মৃত্যু ও পুলিশের অত্যাচারের বদলা নিতে পুতলীবাঈ তুলে নিয়েছিল নামিয়ে রাখা রাইফেল।

সবার আগে খুন করেছিল দলের নতুন নেতাকে। তারপর  সুলতান সিংয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা সদস্যদের ঠান্ডা মাথায় একে একে খুন করেছিল পুতলী। পোড় খাওয়া বাগীরা চমকে উঠেছিল পুতলীবাঈয়ের নৃশংসতায়।

 পুতলীবাঈ থেকে দস্যুরাণী পুতলী

সুলতান সিংয়ের দলের কর্তৃত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল পুতলী। তারপর পুলিশদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পুষে রাখা ক্ষোভ নিয়ে। এক রাতে দাতিয়া গ্রামের ১১ গ্রামবাসীকে পুতলীবাঈ গুলি করে হত্যা করেছিল। তার সন্দেহ হয়েছিল সেই গ্রামের বাসিন্দারা পুলিশের চর। কারণ পুতলীর ‘মুখবীর’ (দস্যুদের চর) সেরকমই তথ্য দিয়েছিল।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৮, চম্বলে নিরবিচ্ছিন্ন সন্ত্রাস চালিয়েছিল পুতলীবাঈ। খুন, অপহরণ, তোলা আদায় কিছুই বাদ দেয়নি পুতলী। বার বার পুতলীকে এনকাউন্টারে মারতে চেষ্টা করেছে পুলিশ। কিন্তু বেহড়ের ভেতরে থাকা পুতলীবাঈ চম্বল নদীর জলে থাকা কুমীরের চেয়েও চালাক ও ভয়ঙ্কর। অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই সে বেহড়কে চিনে নিয়েছে নিজের হাতের তালুর মতো। পালটা আক্রমণে দিশেহারা করে দিত পুলিশবাহিনীকে। কখনও খালি হাতে, কখনও সঙ্গী পুলিশদের মৃতদেহ নিয়ে ফিরতে হত পুলিশবাহিনীকে।

পুলিসের সঙ্গে একটি এনকাউন্টারে হাতে গুলি লেগেছিল পুতলীবাঈয়ের। পচন ধরা হাতটি কনুই থেকে কেটে ফেলতে হয়েছিল। গোয়ালিয়রের  ডাক্তারকে সেই সময়ে ২০০০০ টাকা দিয়েছিল পুতলী। হাত হারানোর পর পুতলীর নৃশংসতা আরও বেড়ে গিয়েছিল। ছিপছিপে ছোটখাটো চেহারার পুতলীবাঈ এক হাতে ভারী রাইফেল তুলে নিখুঁতভাবে গুলিবর্ষণ করে একইভাবে তার সন্ত্রাসের রাজত্ব ধরে রেখেছিল।

 চম্বলের জলে বয় বিশ্বাসঘাতকতার স্রোত

সুলতান সিংয়ের মৃত্যু ও দলের বিশ্বাসঘাতকদের হত্যার পর একাধিক সদস্য পুতলীকে বিয়ে করতে চায়। সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছিল পুতলীবাঈ। কিন্তু ফেরাতে পারেনি কল্লা গুর্জর নামে এক সুঠাম চেহারার যুবককে। বেহড়ের নিভৃতে শুরু হয়েছিল পুতলী ও কল্লার প্রেম।

প্রেমে মশগুল পুতলী বুঝতে পারেনি, চম্বল নদীর জলে, বেহড়ের আনাচে কানাচে লুকিয়ে আছে বিশ্বাসঘাতকতার বীজ। ধীরে ধীরে নিজেকে অসুরক্ষিত করে ফেলেছিল পুতলী। পুতলী ও কল্লার প্রেম মেনে নিতে পারেনি দলের অনেক সদস্য।

২৩ জানুয়ারি, ১৯৫৮। ছাতি গ্রামের অদূরে ছিল পুতলীর গ্যাং ( মতান্তরে শিবপুরীর জঙ্গল)। কেউ বলে লাখন সিংয়ের গ্যাংকে এনকাউন্টার করতে গিয়ে পুতলীর গ্যাংয়ের সামনে গিয়ে পড়ে পুলিশ। কেউ বলে পুতলীর গ্যাংয়ের কেউ জানিয়ে দিয়েছিল পুতলীর ডেরা। সেদিন চম্বলের বেহড় দেখেছিল এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই।

চম্বল নদী আশ্রয় দিয়েছিল পুতলীকে

মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজে কাঁপছিল চম্বলের বেহড়। রাতভোর চলেছিল গুলির লড়াই। পুতলী বুঝতে পেরেছিল তার দলের বন্দুকগুলি ক্রমশ শান্ত হয়ে যাচ্ছে। সেদিন নিদারুণভাবে প্রতারিত হয়েছিল পুতলী। চম্বলের বেহড় এক নারীর দখলে থাকবে, হয়তো মেনে নিতে পারেনি বেহড়ের পৌরুষ।

ছাতি গ্রামের কিছু দূর দিয়ে বয়ে চলেছিল চম্বল নদী। কুমীর ভর্তি নদী একহাতে সাঁতরে পার হতে চেয়েছিল পুতলীবাঈ। সঙ্গে ছিল প্রেমিক কল্লা। আর মাত্র কয়েক ফুট, তারপরে পুতলী চলে যেত পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কিন্তু বাতাসে শীষ কাটতে কাটতে উড়ে এসেছিল বুলেট। একটার পর একটা। পুলিশের নাকি নিজের দলের বিশ্বাসঘাতকদের বুলেট, তা বুঝতে পারেনি পুতলী।


ডাঙায় আর উঠতে পারেনি। চম্বল নদীর রুক্ষ তীরে পিঠ ঠেকিয়ে ৩২ বছরের পুতলী শেষ করেছিল তার অভিশপ্ত জীবন। মৃত্যুর সময় চোখটা খোলাই ছিল। হয়তো সে দেখতে চেয়েছিল বিশ্বাসঘাতকদের, হয়তো তার মেয়ে তান্নোকে। কিন্তু সুযোগ কাউকে দ্বিতীয়বার দেয় না চম্বল। দেয়নি দস্যুরানি হয়ে ওঠা গহরবানুকেও।

--------------------------

Tuesday, July 13, 2021

17>|| তুলসীদাসজীর জীবনী ও হনুমান চাল্লিশা |

 

17>|| তুলসীদাসজীর জীবনী ও হনুমান চাল্লিশা  ||

         হিন্দি ও বাংলা।

|| हनुमान चालीसा की कहानी  ||

                   <--अद्यनाथ-->

1600 ईसबी की अकबर और तुलसीदास जी की  एक स्तय कहानी ।

कहानी इस प्रोकर--

 एक बार तुलसीदास जी मथुरा जा रहे थे। रस्था में रात होने से पहले उन्होंने अपना पडाव आगरा में डाला।

ऐ समाचार चारो और फेला, लोगो को पता लगा की तुलसी दास जी आगरा में पधारे है। 


यह सुन कर उनके दर्शनों के लिए लोगो का ताँता लग गया। थोड़ेही देर में  यह बात जब बादशाह अकबर को पता लगी तो उन्होंने वीरबल से  तुलसीदास के बारे पुंछा की यह तुलसीदास कौन हैं.....?


 वीरबल ने बताया, इन्होंने तुलसीदास जी।

इन्होंने ही रामचरितमानस का अनुवाद किया है यह रामभक्त तुलसीदास जी है।

"में भी इनके दर्शन करके आया हूँ।"


इतना सुनकर सम्राट अकबर ने भी उनके दर्शन की इच्छा व्यक्त की और कहा "में भी उनके दर्शन करना चाहता हूँ।"

अतः बादशाह अकबर ने अपने सिपाहि को तुलसीदास जी के पास भेजा। और सिपाहि,  तुलसीदास जी को बादशाह का पैगाम सुनाया, की "आप लाल किले में हाजिर हों।" यह पैगाम सुन कर तुलसीदास जी ने कहा की "मैं भगवान श्रीराम का भक्त हूँ, मुझे बादशाह और लाल किले से मुझे क्या लेना देना," 

और लाल किले जाने की साफ मना कर दिया। जब यह बात बादशाह अकबर को पता चला  तो  अकबर की बहुत बुरी लगी और बादशाह अकबर गुस्से में आग बबूला हो गई ,

और उन्होंने तुलसीदास जी को पकड़ कर

 लाल किला लाने का आदेश दिया। 


जब तुलसीदास जी लाल किला पहुंचे तो अकबर ने कहा की "आप कोई करिश्माई व्यक्ति लगते हो, कोई करिश्मा करके दिखाओ।" तुलसी दास ने कहा " मैं तो सिर्फ भगवान श्रीराम जी का भक्त हूँ कोई जादूगर नही हूँ जो आपको कोई करिश्मा दिखा सकूँ।" अकबर यह सुन कर और भी गुस्से में आदेश दिया की" इनको जंजीरों से जकड़ कर काल कोठरी में डाल दिया जाये।"


दूसरे दिन सबेरे  आगरा के लाल किले पर लाखो बंदरो, हनुमान ने एक साथ हमला बोल दिया पूरा किला तहस नहस कर डाला। लाल किले में त्राहि त्राहि मच गई।

 तब अकबर ने वीरबल को बुला कर पूंछा की "वीरबल यह क्या हो रहा है....?"

वीरबल ने कहा

 "हुज़ूर आप करिश्मा देखना चाहते थे तो देखिये। एहि एक करिश्मा।"


अकबर ने तुरंत तुलसी दास जी को कल कोठरी से निकल कर उनकी जंजीरे खोल दी ।

तब तुलसीदास जी ने वीरबल से कहा---

 "मुझे बिना अपराध के सजा मिली है। मैने काल कोठरी में भगवान श्रीराम और हनुमान जी का स्मरण किया में रोता जा रहा था। और मेरे हाथ अपने आप कुछ लिख रहे थे यह 40 चौपाई, हनुमान जी की प्रेरणा से लिखी गई इस चौपाई

जो भी व्यक्ति कष्ट में या संकट में  होगा और इसका पाठ करेगा ,उसके कष्ट और सारे संकट दूर होंगे। इसको हनुमान चालीसा के नाम से जाना जायेगा।"

अब अकबर बहुत लज्जित हुए और तुलसीदास जी से माफ़ी मांगी, और पूरी इज़्ज़त और पूरी हिफाजत और लाव लश्कर के साथ  तुलसीदास जी को मथुरा भिजवाया।


आज लोग हनुमान चालीसा का पाठ करते हैं। और सभी पर हनुमान जी की कृपा बर्षते हैं।

 और सभी के संकट दूर हो रहे है। हनुमान जी को इसीलिए "संकट मोचन" भी कहा जाता है।

।। जय श्री राम, जय श्री हनुमान ।।


<--©--➽-ए एन राय चौधुरी-->


========================

  || হনুমান চালিশার কাহিনী ||


সম্রাট আকবর এবং তুলসীদাস।


আজ অনেকেই রোজ নিয়ম করে 

হনুমান চালিশা পাঠ করেন।

কিছু মানুষ বিপদে পড়লেই হনুমান চালিশা পাঠ করেন এবং হনুমানজীর সরনাপন্ন হন।

আমরা এও জানি যে এই হনুমান চালিশার রচয়িতা গোস্বামী তুলসীদাসজী।

কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তুলসীদাসজী এই হনুমান চালিশা রচনা করেছিল সেই সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করে কিছু বই খুঁজে, কিছু ইন্টারনেট খুঁজে যেটুকু জেনেছি ::------

গোস্বামী তুলসীদাস জী এই রচনা হয়েছিল ষোড়শ শতকে মুঘল সম্রাট আকবরের সময়কালে সম্ভবত 1582 সালে। তবে হনুমান চালিশা রচনার সময়কাল নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে নানান মত বিরোধ রয়েছে। 

কেউ কেউ মনে করেন যে হনুমান চালিশা অনেক পরে রচনা করা হয়েছিল। 

আবার কেউ মনে করেন যে তুলসীদাসজী শৈশবেই এটি রচনা করেছিলেন।

তবে বেশির ভাগ পণ্ডিতগণের

মত হল হনুমান চালিশা তুলসীদাসজী রচনা করেন আঠার শতকের আটের দশকে।

মূল হনুমান চালিশা  রচিত হয়েছিল অবধি ভাষায়। অবধি হল হিন্দি ভাষার একটি রুপ। 

এটি তুলসীদাস রচিত রামচরিতমানসের একটি অংশ বিশেষ। 

এখানে  তুলসীদাসজীর একটু পরিচিতি

জানা উচিত বলে মনে করি। 

তুলসীদাসজীর জন্ম হয় প্রয়াগের কাছে চিত্রকূট জেলার রাজপুর গ্রামে। তার জন্ম সাল নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে যথেষ্ট মতোবিরোধ রয়েছে। তবে বাল্মিকী সম্বত অনুযায়ী তার জন্ম 1554সালে।

পিতা আত্মারাম দুবে ও মাতা হুলসির ঘরে 12 মাস মাতৃ গর্ভে থাকার পর জন্ম নেয় 32 টি দাঁত যুক্ত সাড়ে পাঁচ বছরের বালকের মত আকৃতি যুক্ত এক নবজাতক। সন্তানের অমঙ্গলের কথা ভেবে মা হুলসী তার পিতার বাড়ির এক দাসী চুনিয়ার কাছে ছেলেকে গচ্ছিত রাখেন। কিছু দিন পরে চুনিয়াও মারা যায় ও বালক অনাথ হয়ে যায়। এরপরে অনাথ খুব দুঃখ কষ্টের মধ্যে ভিক্ষে করে দিন কাটায়।

এরপরে অনন্তনন্দজীর শিষ্য শ্রীনরহরি আনন্দজী এই বালকে খুঁজে পান এবং অযোধ্যা নিয়ে আসেন এবং নাম রাখেন রামবোলা। সেই অযোধ্যাতেই তিনি রাম মন্ত্রে দীক্ষা নেন এবং বিদ্যা অধ্যয়ন করেন। সেখান থেকে কাশী চলে যান এবং দীর্ঘ 15 বছর বেদ বেদাঙ্গ অধ্যয়ন করেন। তারপর আবার ফিরে আসেন জন্ম ভূমিতে।

সম্ভবত 1583 সালে বিবাহ হয় রত্নাবলীর সঙ্গে। একদিন রত্নাবলী তার পিতৃ গৃহে গেলে তুলসীদাসজীও পেছন পেছন তার শ্বশুর বাড়ি চলে যান। সেই সময় তার স্ত্রী তাকে তীব্র ভৎসনা করে বলেন আমার মত রক্ত মাংসের শরীরের মোহ ছেড়ে রঘুবীরের নামে জীবনকে সপে দাও। জীবন তোমার মুক্ত হবে। এই কথা শোনা মাত্র তুলসীদাসজীর অন্তরে সম্বিত ফিরে আসে এবং তখনই সাংসারিক জীবন ত্যাগ করে প্রয়াগে চলে আসেন এবং শ্রীরামের নামে জীবন সপে দেনা।

অযোধ্যাতে তিনি দেখা পান হনুমানজীর এবং তিনি শ্রীরঘুনাথের দর্শন পাওয়ার ইছা প্রকাশ করেন। হনুমানজী বলেন শ্রীরামের দর্শন পেতে গেলে চিত্রকূট যেতে হবে। তিনি সেখানে গেলেও শ্রীরামজীকে তিনি চিনতে পারেন নি। পরবর্তীতে শ্রীরাম এক শিশুর বেশে এলে হনুমানজীর ইশারায় তুলসীদাসজী শ্রীরামের দর্শন পান।

তুলসীদাসজী দেহত্যাগ করেন 1623 সালে শ্রাবন মাসে গঙ্গার অসী ঘাটে। কথিত আছে তিনি 126 বছর জীবিত ছিলেন।

রামচরিত মানস  তুলসীদাসজীর এক অমর কীর্তি যাকে তুলসীদাসী রামায়ন বলা হয়। গোটা রামচরিত মানস তিনি শেষ করেন 2 বছর 7 মাস 26 দিনে। এছাড়া তিনি তুলসীদাসী দোহাবলী, কবিতাবলী, গীতাবলী,কৃষ্ণাবলী এবং বিনয় পত্রিকা রচনা করেন। বারানসীর সঙ্কট মোচন হনুমান মন্দিরও তারই সৃষ্টি।

হনুমান চালিশা রচনার ইতিহাস : 

ভারতে তখন মুঘল সম্রাট আকবরের রাজত্বকাল। ততদিনে তুলসীদাসজী এক সিদ্ধ পুরুষ হয়ে উঠেছেন। একবার তিনি এক গাছের নীচে বসে ধ্যান করছিলেন। এক মহিলা এসে তাকে প্রণাম করেন। তুলসীদাসজী তাকে সুখী হবার আশীর্বাদ করেন। আশীর্বাদ পেয়ে মহিলা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি মহিলাকে কান্নার কারন জিজ্ঞেস করাতে মহিলা বলেন এই মাত্র তার স্বামী মারা গেছেন। তুলসীদাসজী বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে রাম নাম নেবার পরামর্শ দেন। মহিলা বাড়ি গিয়ে রাম নাম শুরু করেন সঙ্গে উপস্থিত সকলেই রাম নাম করতে থাকেন। কিছুক্ষন পরেই মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়ে ওঠেন। এই রকম তিনি এর আগেও এক দৃষ্টি হীন ব্যক্তিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেন। তার কীর্তি দাবানলের মত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এই খবর সম্রাট আকবরের কান পর্যন্ত পৌছায়। আকবর বীরবল ও টোডরমলকে পাঠায় খবরের সত্যতা যাঁচাইয়ের জন্য। তারা খবর নিয়ে এসে সম্রাটকে বলেন যে ঘটনা সত্য। আকবর তুলসীদাসজীকে রাজ সভায় ডেকে পাঠান এবং কিছু চমৎকার দেখাতে বলেন। তুলসীদাসজী সেটা  করতে অস্বীকার করে বলেন "আমি কোন চমৎকারী বাবা নই যে চমৎকার দেখাব। চমৎকার দেখানেওয়ালাতো স্বয়ং শ্রীরাম। আমি নই।"

এই কথা শুনে সম্রাট আকবর প্রচণ্ড ক্রোধিত হয়ে তুলসীদাসজীকে আটক করবার নির্দেশ দেন এবং সেপাইরা তাকে ফতেপুরসিক্রিতে আটক করে রাখেন। তুলসীদাসজী বিন্দু মাত্র বিচলিত না হয়ে শ্রী হনুমান চালিশার রচনা শুরু করেন। হনুমান চালিশার রচনা যখন প্রায় শেষ তখন ফতেপুরসিক্রি সমেত গোটা রাজধানীতে কয়েক লক্ষ বানর হামলা করেন। বানরের অত্যাচারে সম্রাট সহ রাজধানীর সকল নাগরিক অতিষ্ট হয়ে ওঠে। বিচক্ষন সম্রাট আকবরের নিজের ভুল বুঝতে সময় লাগে নি। তিনি দ্রুত তুলসীদাসজীকে কয়েদ থেকে মুক্ত করেন এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তুলসীদাসজী মুক্ত হতেই বানরের উপদ্রব বন্ধ হয়ে যায়। সম্রাট আকবর আমৃত্যু তুলসীদাসের সঙ্গে মিত্রতার সম্পর্ক রেখেছিলেন।

হনুমান চালিশার উদ্দেশ্য : 

বলা হয় হনুমান চালিসা পাঠ করলে সমস্ত সঙ্কট দূর হয়ে যায়। এই হনুমান চালিশায় হনুমানজীর ক্ষমতার গুণকীর্তন করা হয়। এরও কারন রয়েছে। হনুমানজী ছোট বেলায় ধ্যান মগ্ন মুণি ঋষিদের খুব বিরক্ত করতেন। তাই তাকে মুণি ঋষিরা অভিশাপ দিয়ে ছিলেন যে তার ক্ষমতা বা শক্তি সম্পর্কে তিনি ভুলে যাবেন। অন্য কেও তাকে তার ক্ষমতা না মনে করিয়ে দিলে তিনি তা প্রয়োগ করতে ভুলে যাবেন। তাই হনুমান চালিশার অধিকাংশ চৌপাইতে তার ক্ষমতার কথা উল্লেখ রয়েছে।

        " সংগ্রহ"

<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=========================


Friday, June 15, 2018

16> কৌরব দের 100 জনের নাম---

 16>1100 জন কৌরবের নাম---

100 জন কৌরবের নাম--- কয়জন জানি?? দুষ্ট হলেও তাদের নাম গুলো জানার- ইচ্ছা আমাদের অনেকের ।

কৌরবদের একটি বোন ছিল যার নাম---
------- দু:শলা ।
আর 100 ভাই এর নাম-------
1) দুর্যোধন---------2) দু:শাশন।
3) দু:সহন----------4) দু:শলন।
5) জলগন্ধ---------6) সমন।
7) সহন-------------8) বিনন্ধন।
9) অনুবিন্ধ--------10) দুর্ধর্ষ।
11) সুবাহু---------12) দু:শপ্রধরশা।
13) দুর্মরশ--------14) দু:মুখা।
15) দু:শকর্ণ-------16) বিকর্ণ।
17) সলন।---------18) সাথয়া।
19) সুলচন।---–----20) ছিথ্র।
21) উপছিথ্র।-------22) ছিথ্রাক্ষ।
23) চারুছিথ্র।-------24) সরাসনা।
25) দুর্মদ।-----------26) দুরবিজ্ঞ।
27) বিবিলসু।-------28) বিকাতিনন্দ।
29) ওরনানভ।------30) সুনাভ।
31) নন্দ।------------32) উপানন্দ।
33) ছিত্রবান।--------34) ছিত্রবর্মা।
35) সুবর্মা।-----------36) দুর্বিমোচা।
37) অয়বাহু।---------38) মহাবাহু।
39) কান্চনধ্বজা।----40) ছিত্রামগ।
41) ছিত্রকুন্ডল।--–---42) ভীমবেগ।
43) ভীমবালা।------- 44) কুন্ধাসী।
45) বালকি।----------46) বেলাবর্ধনা।
47) উগ্রযুধ।----------48) সুসেনা।
49) বীরাযশ।---–------59) কুন্ধধারা।
51) মাহোদরা।--------52) ছিত্রযুধা।
53) নিশামগি।---------54) পাসি।
55) বৃন্দারকা।---------56) দৃধাবর্মা।
57) দৃধাক্ষত্রা।---------58) সমাকীর্তি।
59) অন্তুদরন।---------60) দৃধাসন্ধা।
61) জরাসন্ধা।---------62) সত্যসন্ধা।
63) সদাসুবাক।--------64) উগ্রসর্বাস।
65) উগ্রসেনা।----------66) সেনানী।
66) দু:শপ্রাজা।--------68) অপরাজিত।
69) কুন্ধাসাই।---–------70) বিশালাক্ষ।
71) দুর্ধরা।----–-----------72) দৃধাহস্তা।
73) সুহস্তা।--------------74) বাতাবেগা।
75) সুবার্চা।--------------76) আদিত্যকেতু।
77) যুযুত্সু।-------––---78) বাহায়াসী।
79) নাগদাতা।----------80) উগ্রসাই।
81) কাবাচি।------------82) ক্রাধান।
83) কুনদ্ধাই।------------84) ভীমাবিক্র।
85) ধনুধারা।-----–-------86) বীরবাহু।
87) অলৌপন।--------–-88) অভয়ান।
89) দৃধাকর্মাবু।--–--------90) দৃধারথশ্রয়।
91) অনাধ্রুস্য।-----------92) কুন্ধভেডী।
93) বীরাভি।--------------94) চিত্রকুন্ধালা।
95) প্রেমাধন।--–-----------96) অমাপ্রমাধি।
97) দিরখারমা।-----------98) সুবীরয়বা।
99) ধীর্খবাহু।--------------100) সুজাত।

==≠========================

Sunday, November 13, 2016

15>"উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত "

15>|| "উত্তিষ্ঠত জাগ্রত  প্রাপ্য বরান্ নিবোধত "

"উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত” : স্বামী বিবেকানন্দের বাণী


উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত।
ক্ষুরস্য ধারা নিশিতা দুরত্যয়া দুর্গম পথস্তত  কবয়ো বদন্তি ।।
কঠোপনিষৎ ৩/১৪

ওঠো,জাগো,সদগুরুর সান্নিধ্যে গিয়া
জ্ঞানপ্রাপ্ত ( আত্মজ্ঞান ) হও।

এইপথ অতিদুর্গম, ক্ষুরের ধারের মত তীক্ষ্ণ, দূরতিক্রম্য, জ্ঞানীগণ এমনি বলেন
 ( কবয়ো বদন্তি)
স্বামীজী এই শ্লোকটি পছন্দ করতেন এবং Arise awake ----বলে বার বার এটিকেই স্বরণ করিয়ে দিতেন।

সরলার্থ:---
"হে সংসার সন্তপ্ত মানবগণ, তোমরা ওঠো, আত্মজ্ঞানলাভে সর্বতোভাবে প্রযত্ন কর । জাগো, অজ্ঞানরূপ মোহনিদ্রা পরিত্যাগ কর। 
বরনীয় জ্ঞানীদের কাছে জ্ঞানপ্রাপ্ত হও,
তাঁদের সমীপে গমন পূর্বক তাঁদের উপদেশ অনুসারে স্ব স্ব জীবন গঠনপূর্বক নিশ্চিতরূপে আত্মতত্ত্ব অবগত হও॥"

মানুষ ছেলেবেলা হইতে শিক্ষা পায় যে, সে দুর্বল ও পাপী। জগৎ এইরূপ শিক্ষা দ্বারা দিন দিন দুর্বল হইতে দুর্বলতর হইয়াছে; তাহাদিগকে শিখাও যে, তাহারা সকলেই সেই অমৃতের সন্তান—এমনকি যাহাদের ভিতরে আত্মার প্রকাশ অতি ক্ষীণ, তাহাদিগকেও উহা শিখাও । বাল্যকাল হইতেই তাহাদের মস্তিষ্কে এমন সকল চিন্তা প্রবেশ করুক, যাহা তাহাদিগকে যথার্থ সাহায্য করিবে, যাহা তাহাদিগকে সবল করিবে, যাহাতে তাহাদের যথার্থ কল্যাণ হইবে। দুর্বলতা ও কর্মশক্তিলোপকারী চিন্তা যেন তাহাদের মস্তিষ্কে প্রবেশ না করে। সৎ-চিন্তার স্রোতে গা ঢালিয়া দাও, নিজের মনকে সর্বদা বল—”আমি সেই, আমিই সেই” ; তোমার মনে দিনরাত্রি ইহা সঙ্গীতের মতো বাজিতে থাকুক, আর মৃত্যুর সময়েও “সোহহং, সোহহং” বলিয়া দেহত্যাগ কর । ইহাই সত্য… জগতের অনন্ত শক্তি তোমার ভিতরে যে কুসংস্কার তোমার মনকে আবৃত রাখিয়াছে, তাহা দূর করিয়া দাও। সাহসী হও । সত্যকে জানিয়া তাহা জীবনে পরিণত কর; চরম লক্ষ্য অনেক দূর হইতে পারে, কিন্তু “উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত” ।।


কঠোপনিষদ ২০

   'উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান নিবোধত
        ক্ষুরস্য ধারা নিশিতা  ...'
   স্বামী বিবেকানন্দ এই মন্ত্রটি এযুগে বিখ্যাত করেছেন। তিনি বললেন, যমদেবেরই কথা, 'ওঠো, জাগো। বরনীয় জ্ঞানীদের কাছে গিয়ে জ্ঞানপ্রাপ্ত হও। 
এই পথ অতি দুর্গম, ক্ষুরের ধারের মতো তীক্ষ্ণ, দুরতিক্রম্য। জ্ঞানী গণ এমনই বলে থাকেন।
     উপনিষদের এই মন্ত্রটির যে অনুবাদ প্রচলিত আছে, সেটির সম্পর্কে একটু আলোচনা করে নিতে হবে।
বলা হল, ওঠো এবং জাগো।
এখন প্রশ্ন হল দুট,
  ১। কোথা থেকে উঠবে ? কোথা থেকে জাগবে ? এবং
  ২। আগে উঠবে, পরে জাগবে ? তা কি হয়  ?
  আমরা বলব,
  ১। অবিদ্যাতে সম্পৃক্ত জীবাত্মা যেন মোহনিদ্রায় আছে । সেখান থেকে উঠবে । অজ্ঞান নিদ্রা থেকে জাগ্রত হবে ।
  ২। নিদ্রা ভাঙ্গলেও কতক সময় ঘোর লেগে থাকে। অনেক সময় পুনরায় নিদ্রা এসে যায়। তাই যমরাজ বলছেন, ওঠো এবং সজাগ হও। আর যেন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ো না।
      'বরান্‌' -এই শব্দটির অর্থ নিয়েও আমাদের কিছু কথা আছে। বলা হচ্ছে 'বরনীয় জ্ঞানীদের কাছে জ্ঞানপ্রাপ্ত হও'।
   আমরা বলতে চাই, 'নর' শব্দরূপেরর মতন 'বর' শব্দটির দ্বিতীয়ার বহুবচণ হল, 'বরান্‌'। অর্থ হল, 'বর-কে'। কর্ম-কারক। বর পাওয়া যায়, বা পাওয়া হয়েছে দেবতাদের থেকে। এই যে দেবতাদের থেকে মর্ত্য-বাসী মানবকুল (মনুর প্রজাগণ) যে সকল বরদান লাভ করেছে। যেমন এই যে নচিকেতা-কে যমরাজ, 'অগ্নিবিদ্যা' এবং 'আত্মজ্ঞান'' শিক্ষা দিলেন।
   তাহলে অর্থ কি দাড়াল ?
  'ওঠো, সজাগ বা সচেতন হও। দেবতাদের থেকে যে সকল বর লাভ করা গেছে, সে গুলিতে আত্মনিয়োগ কর'।

১৫। এর পরেই যমদেব বললেন, শব্দ-গন্ধ-রূপ-রস-স্পর্শের অতীত এই অনাদি অবিনাশী নিত্য ধ্রুব পরমাত্মাকে জেনে মৃত্যুমুখ থেকে মুক্ত হও।


মহাভারত শ্লোক:::----

অহন্যহনি ভূতানি গচ্ছন্তি যমমন্দিরম্ । শেষাঃ স্থিরত্বমিচ্ছন্তি কিমাশ্চর্য্যমতঃপরম্ ।। - প্রত্যহ শতশত জীব যমালয়ে যাচ্ছে দেখেও আমরা নিজেদের মৃত্যুর কথা ভাবছি না, এটা যুধিষ্ঠির কেন, আমার কাছেও আশ্চর্যজনক । কতো বিবর্তনের মধ্য দিয়ে কতো কর্মফল পার হয়ে এই মানব জনম । অথচ ভোগ এবং আরও আরও ভোগের প্রচেষ্টা ছাড়া কিছুই তো নজরে আসছে না । আর সেই ভোগের উপাচার জোটাতে মিথ্যা, ছলনা ও অনধিকার কার্যাবলী । ক্রমাগত বেশি বেশি প্রারব্ধের সঞ্চয় । আরও বেশি করে কর্মফল ভোগের বন্দোবস্ত ।  এই করতেই কি এসেছিলাম । হে অন্তরতম প্রভূ, সঠিক কর্ম করিয়ে নাও ।
========================


-"-Uttishthata, Jaagrata,
      Praapya Varaan Nibodhata
!"

      "Arise ! Awake ! Stop Not
        Till The Goal Is Reached !"

  Here are 5 of Swami Vivekananda's most inspiring quotes, that stand true even today.

1> "Who is helping you, don't forget them. Who is loving you, don't hate them. Who is believing you,  don't cheat them."
2> "Anything that makes you weak physically, intellectually and spiritually, reject as poison."
3>"Relationships are more important than life, but it is important for those relationships to have life in them."
4>"Like me or hate me, both are in my favor. If you like me I am in your heart, if you hate me I am in your mind."
5>"Fill the brain with high thoughts, highest ideals, place them day and night before you, and out of that will come great work."

---------------------------
💗 তিনি নিম্নলিখিতভাবে বেদান্তের শিক্ষাসমূহের সারসংক্ষেপ করেন,
• প্রত্যেক আত্মাই সম্ভাব্যরুপে ঐশ্বরিক/দেবসুলভ।
• লক্ষ্য হচ্ছে বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণের দ্বারা এ দেবত্বকে সুষ্পষ্টভাবে দেখানো।
• কর্ম, বা পূজা, বা মন নিয়ন্ত্রণ, বা দর্শন - একটির দ্বারা, বা অধিকের দ্বারা, বা এ সকলগুলির দ্বারা এটি কর - এবং মুক্ত হ্‌ও।
• এটি হচ্ছে ধর্মের সমগ্রতা। মতবাদ, বা গোঁড়া মতবাদ, বা ধর্মীয় আচার, বা গ্রন্থ, বা মন্দির, বা মূর্তি হচ্ছে গৌণ খুঁটিনাটি বিষয় ছাড়া কিছুই নয়।
• যতক্ষণ পর্যন্ত আমার দেশের একটি কুকুরও ক্ষুধার্ত, আমার সমগ্র ধর্মকে একে খাওয়াতে হবে এবং এর সেবা করতে হবে, তা না করে অন্য যাই করা হোক না কেন তার সবই অধার্মিক।
• জেগে ওঠো, সচেতন হও এবং লক্ষ্যে না পৌঁছা পর্যন্ত থেমো না।
• শিক্ষা হচ্ছে মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে থাকা উৎকর্ষের প্রকাশ।
• ধর্ম হচ্ছে মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে থাকা দেবত্বের প্রকাশ।
• মানুষের সেবা করা হচ্ছে ঈশ্বরের সেবা করা।

🌹💗  ALL POWER IS WITHIN YOU,
         YOU CAN DO ANYTHING AND EVERYTHING,

🌹💗   Nothing is IMPOSSIBLE
            every thing is POSSIBLE
           If the WAY OF DOING IS CORRECT"


💗🌹" Personal Morality Is The Key To Influence Others!" 🌹💗

💗🌹💗 "চরিত্রই বাধাবিঘ্নরূপ বজ্রদৃঢ় প্রাচীরের মধ্য দিয়া পথ করিয়া লইতে পারে।"💗🌹💗
ভালবাসায় সব হয়। টাকা পয়সা, নাম যশ, বিদ্যা, কোনটাতেই কিছু হায়না,

ভালবাসায় সব হয়।
আবশ্যক কেবল প্রেম, সরলতা, ও সহিষ্ণুতা, ভালবাসায় সব হয়, প্রেমই জীবন।
-----------------------

                   💗🌹💗---Swami Vivekananda---💗🌹💗
===================================




‘उत्तिष्ठत जाग्रत …’ – कठोपनिषद् का उपदेशात्मक वचन
स्वामी विवेकानंद के उपदेशात्मक वचनों में एक सूत्रवाक्य विख्यात है । वे कहते थे:
“उत्तिष्ठत जाग्रत प्राप्य वरान्निबोधत ।”

इस वचन के माध्यम से उन्होंने छात्र समाज को अज्ञानजन्य अंधकार से बाहर निकलकर ज्ञानार्जन की प्रेरणा दी थी । कदाचित् अंधकार से उनका तात्पर्य अंधविश्वासों, विकृत रूढ़ियों, अशिक्षा एवं अकर्मण्यता की अवस्था से था । वे चाहते थे कि अपने देशवासी समाज के समक्ष उपस्थित विभिन्न समस्याओं के प्रति सचेत हों और उनके निराकरण का मार्ग खोजें । स्वामीजी इस कथन के महत्त्व को कदाचित् ऐहिक जीवन के संदर्भ देखते थे ।


   कठोपनिषद्-------
उत्तिष्ठत जाग्रत प्राप्य वरान्निबोधत ।
क्षुरस्य धारा निशिता दुरत्यया दुर्गं पथस्तत्कवयो वदन्ति ।।-----कठोपनिषद्, 
(उत्तिष्ठत, जाग्रत, वरान् प्राप्य निबोधत । क्षुरस्य निशिता धारा (यथा) दुरत्यया (तथा एव आत्मज्ञानस्य) तत् पथः दुर्गं (इति) कवयः वदन्ति ।)
                 


 अर्थ ::-- उठो, जागो, और जानकार श्रेष्ठ पुरुषों के सान्निध्य में ज्ञान प्राप्त करो । विद्वान् मनीषी जनों का कहना है कि ज्ञान प्राप्ति का मार्ग उसी प्रकार दुर्गम है जिस प्रकार छुरे के पैना किये गये धार पर चलना ।

कठोपनिषद् में गौतम ऋषि के पुत्र नचिकेता का मृत्युदेवता यम के साथ संवाद का 
विवरण है।
 नचिकेता को यम सृष्टि के अंतिम सत्य परमात्मतत्त्व के बारे में बताते हैं । 
उक्त मंत्र में यम द्वारा ऋषिकुमार को परमात्मा के अंशभूत आत्मा का ज्ञान पाने का उपदेश निहित है । स्पष्ट है कि प्रकरण आध्यात्मिक ज्ञानार्जन से संबंधित है न कि भौतिक स्तर के ऐहिक अर्थात् लौकिक विद्यार्जन से । किंतु स्वामी विवेकानंद ने मंत्र के आरंभिक अंश को लौकिक अर्थ में प्रयोग किया है । वस्तुतः उपनिषदों में लौकिक उपयोग की सामान्य विद्या को महत्त्व न दिया गया हो ऐसा नहीं है । इस बात पर चर्चा फिर कभी ।

वैदिक चिंतकों की दृष्टि में मनुष्य देह भौतिक तत्त्वों से बना है, परंतु उसमें निहित चेतना शक्ति का स्रोत आत्मा है । आधुनिक वैज्ञानिक चिंतन आत्मा के अस्तित्व के बारे में सुनिश्चित धारणा नहीं बना सका है । कदाचित् कई विज्ञानी कहेंगे कि आत्मा-परमात्मा जैसी कोई चीज होती ही नहीं है । तत्संबंधित सत्य वास्तव में क्या है यह रहस्यमय है, अज्ञात है । –
========================